ভোট দিলাম সুইডেনে
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৫২
ভোট দিলাম সুইডেনে
শাকিল রিয়াজ, সুইডেন থেকে
প্রিন্ট অ-অ+

সপরিবার ভোট দিয়ে এলাম। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে ফলাফল। অন্যকথায় বলা যায়, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে আগামী চার বছর সুইডেন কিভাবে শাসিত হবে। দেশটির গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এ প্রশ্নটি এতো বড় হয়ে দেখা দেয়নি এর আগে কখনও। দুই দল কিংবা বলা যায় দুই জোটনির্ভর রাজনীতির সংস্কৃতিতে এই প্রথম নতুন এক পক্ষ বিপুল শক্তি নিয়ে ধাক্কা দিলো। এই শক্তিটি উগ্র জাতীয়তাবাদী। এদের আদর্শ, ধ্যান-ধারণা, কর্মসূচি বাকি দল ও জোট থেকে আলাদা। বর্ণবাদী, ফ্যাসিবাদী ও নাৎসী চেতনা লালনকারী এই দল, যার নাম রাখা হয়েছে সুইডেন ডেমোক্রেটস, এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে মঞ্চে আবির্ভুত। সোস্যাল ডেমোক্রেটস, যারা মূলত সুইডেনকে কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করেছে, এখনও প্রধান দল হিসেবেই আছে। আর দ্বিতীয় প্রধান দল মডারেটস, যারা ২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত একটানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় ছিল, নেমে এসেছে তৃতীয় স্থানে।


টানটান উত্তেজনা এই মুহূর্তে। বিশ্ব মিডিয়া ভিড় করেছে স্টকহোমে। এই আগ্রহ আগের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি। উগ্রবাদী সুইডেন ডেমোক্রেটদের শক্তি বৃদ্ধিই এই আগ্রহের কারণ। সরকার গঠনে কিংবা ক্ষমতার রাজনীতিতে এ গ্রুপটির অপপ্রভাব শুধু সুইডেনের সমাজ ও রাজনীতিতেই পড়বে না, আন্তর্জাতিক ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে সুইডেনের সম্পর্কের নকশাও বদলে যাবে।


সুখের কথা, এ পর্যন্ত কোনো দলই এই বর্ণবাদী দলটিকে ক্ষমতায় যেতে সহায়ক শক্তি বা সমর্থক হতে রাজী হয়নি। অন্তত নির্বাচনী ডিবেটে এমন প্রতিশ্রুতি কেউ দেয়নি। সবাই বরং এই দলটির উত্থানকে সুইডেনের জন্য বিপজ্জনক ও আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের পরিপন্থী বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সোস্যাল ও মডারেটসদের একসঙ্গে সরকার গঠন বা পরস্পরের সমর্থনে সরকার গঠনও অসম্ভব। এরা ঠিক বাংলাদেশের বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। অথবা আমেরিকার রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট। দুটি দুই ধারার দল। কেউ কাউকে ছাড় দেবে না। কোয়ালিশন তাই কখনোই সম্ভব নয়। উৎকণ্ঠাটা এ কারণেই। কী হবে কেউ বলতে পারছে না।


সব মিলিয়ে সুইডেনে সরকার গঠন করবে কোন দল - তা জানার জন্য সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে। তিনটি বড় দলই চেষ্টা করবে ছোট-মাঝারি দলগুলোকে কাছে টানার। কোনো রকম একটা মাইনরিটি সরকারই এবার সুইডেনের ভাগ্য হয়তো। আরও খারাপ চিন্তা করলে বলা যায়, নতুন করে আবার নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এই দুরূহ পথে এই মুহূর্তে যেতে চাইবে না দলগুলো।


দেখা যাক সমাধান কোন পথে আসে। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।


বিবার্তা/হুমায়ুন/সোহান




সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com