শতবর্ষী বৃদ্ধা ধর্ষণ: ধর্ষক কিশোরের স্বীকারোক্তি
প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৯, ১২:২৪
শতবর্ষী বৃদ্ধা ধর্ষণ: ধর্ষক কিশোরের স্বীকারোক্তি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক বৃদ্ধাকে (১৩০) ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত কিশোর ধর্ষক সোহেল মিয়া (১৫) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সে দোষ শিকার করে জবানবন্দি দেয়। পরে বিচারক সুমন কুমার কর্মকার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে সোহেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


একই সাথে ওই বৃদ্ধা আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন মাহমুবা তার ২২ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মধুপুর থানার এসআই জুবাইদুল হক বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামি দোষ শিকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় এবং ওই বৃদ্ধা আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়।


পরে জবানবন্দি শেষে সোহেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে ওই বৃদ্ধাকে পরিবারের কাছে দেয়া হয়। এর আগে দুপুরে তাদের দুইজনকে আদালতে আনা হয়।


তিনি আরো বলেন, আমার জানা মতে পৃথিবীতে এতো বৃদ্ধ বয়সে ধর্ষণের শিকার আর কেউ হয়নি। এটি একটি ন্যাকারজনক ঘটনা।


এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ হেফাজতে ওই বৃদ্ধার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।


টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, ভিকটিমকে পুলিশ আনার পরপরই তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল জানা যাবে।


এর আগে ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার আসামি ধর্ষক সোহেল মিয়াকে ওই গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার আংগারিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সোহেল মিয়া ওই এলাকার তোতা খার ছেলে।


মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, ওই বৃদ্ধার ছেলে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করার পর বুধবার রাতেই অভিযুক্ত সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় বৃদ্ধার বয়স উল্লেখ্য করা হয়েছে ১৩০ বছর।


এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছে বৃদ্ধার পরিবারের লোকজন।


উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বখাটে কিশোর সোহেল মিয়া ওই বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে মুখ বেঁধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ওই বৃদ্ধার বাড়ি উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের আংগারিয়া গ্রামে। সে বয়সের ভারে অন্ধ হয়ে গেছে। চলাফেরা ও কথাও ঠিকভাবে বলতে পারে না।


এ লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বৃদ্ধা খুব কাঁদছিলেন। ঠিক মতো কথাও বলতে পারছিলেন না। বখাটে সোহেলকে বারবার বলছিলেন আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আল্লাহ্ নবীর রোজা রাখছি। এই বয়সে যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় মরার মতোই হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগি পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নেয়নি। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


বিবার্তা/তোফাজ্জল/তাওহীদ/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com