পিকআপটি ফয়সালের পেটের ওপর দিয়ে গেছে
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৮, ০০:২০
পিকআপটি ফয়সালের পেটের ওপর দিয়ে গেছে
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড এর পাশে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পিকআপ ভ্যানের চাপায় আহত ফয়সাল মাহমুদ এখন কিছুটা সুস্থ আছেন। নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন ফয়সাল। গাড়ি চাপার ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে দেখা যায়, ‘পিকআপ ভ্যানটি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র ফয়সাল মাহমুদের পেটের ওপর দিয়ে গিয়েছে। বৈধ কাগজ আছে কিনা তা চেক করতে যাত্রাবাড়ি থেকে শনির আখড়ার দিকে আসা পিকআপ ভ্যানটি থামানো হয়। কাগজ চাইতেই গাড়ির সামনে ও পাশে থাকা ছাত্রদের ধাক্কা দিয়ে চলে যায় চালক। এসময় ফয়সাল মাহমুদ গাড়ির নিচে পড়েন এবং পিকআপটির চাকা তার পেটের ওপর দিয়ে চলে যায়।’


গতকাল বুধবার প্রো-অ্যাকটিভ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ফয়সালকে দেখতে এসে এসব কথা বলেন তিনি। পেটের ওপর দিয়ে গাড়ির চাকা গেলেও সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে প্রো-অ্যাকটিভ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.এ টি এম বাহার উদ্দিন।


তিনি জানান, ফয়সালের মাথা ও স্পাইনাল কর্ডে কোনো আঘাত নেই। তার হিপ জয়েন্টে সামান্য ফ্রাকচার হয়েছে। এক মাস বেড রেস্ট নিতে হবে।


ফয়সাল আহত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত বিআরটিসির একটি বাস
ঘটনার বিবরণ দিয়ে আহত ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা দুই পাশ দিয়ে চলাচলকারী গাড়ি থামিয়ে বৈধ কাগজ আছে কিনা তা চেক করছিলাম। এসময় পুলিশ আমাদের সহায়তা করছে। আমাদের পাশেই ছিলেন তারা। পিকআপ ভ্যানটি আসার পর আমরা থামাই। আমি ছিলাম সামনে। ড্রাইভারে পাশে ছিল আরো কয়েকজন। গাড়িটি থামিয়ে লাইসেন্স চাইতেই হুট করে টান দেয় ড্রাইভার। পাশে যারা ছিল তারা ছিটকে পড়ে। আর আমি ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যাই। পুলিশের সামনেই আমাকে চাপা দেয় পিকআপটির চালক।’



প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করে আন্দোলনকারীরা। মানববন্ধন চলাকালে দুই পাশ দিয়ে চলাচল করা গাড়িগুলো বৈধ কাগজ চেক করছিল শিক্ষার্থীরা। সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ী থেকে শনির আখড়ার দিকে আসছিল একটি পিকআপ ভ্যান। এই ভ্যানটির লাইসেন্স দেখতে চাইলেই হুট করে টান দেয় চালক। গাড়ির চাপায় পড়ে ফয়সাল।


আহত হওয়ার পর তাকে খুব দ্রুত সাইনবোর্ড এলাকার প্রো অ্যাকটিভ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যায় বন্ধু ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীরা। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের এক নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফয়সাল। পরবর্তীতে রাত পৌনে ১০টা দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়।


ফয়সালের বাবা শামসুল হক বলেন, আমার ছেলের বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, এতেই আমি খুশি। বিচার চেয়ে আর কী হবে? আমরা নিরীহ মানুষ। ঝামেলায় যেতে চাই না।


শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ডে ফয়সালকে চাপা দেয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায় ওই এলাকায় অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা। দুই পাশের সড়কে অন্তত ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বাসগুলো ভাঙচুরের পর ছাত্রদের ধাওয়া দেয় স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও বাস শ্রমিকরা।
ফয়সাল আহত হওয়ার প্রতিবাদে বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। রাস্তায় পড়ে আছে সেগুলোর ভাঙা কাচের টুকরা।


দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অন্তত ১৫ জন ছাত্র দাবি করেন, স্থানীয় ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগসহ অন্য কর্মীরা ছাত্রদের ওপর হামলা করে। ৬-৭ জন ছাত্রকে মেরে আহত করেছে।


শনির আখড়ার দেশ বাংলা হাসপাতালের ম্যানেজার আল–আমিন জানান, তিনজন ছাত্র তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের আঘাত ছিল বেশি। তাকে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। তার নাম রাকিব। আরেকজন পায়ে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তার নাম তাওহীদ। অন্যজনের নাম জানাতে পারেননি তিনি।


উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় গত তিন দিন ধরে লাগাতার রাজপথ আটকে বিক্ষোভ করছে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। বুধবার সারাদিন রাস্তা আটকে প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এই বিক্ষোভে অংশ নিতে এসে গাড়ি চাপায় আহত হন ফয়সাল।


বিবার্তা/শারমিন/শাহনাজ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com