স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে নিয়ে কাজীর লুকোচুরি
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ২২:৩৫
স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে নিয়ে কাজীর লুকোচুরি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে চর্তুথ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে নিয়ে স্থানীয় কাজী ও অভিভাবকেরা লুকোচুরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহাধুমধামে বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টির কিছুই টের পায়নি।


জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল শুক্রবার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৫নং খোয়াজনগর এলাকার মীর আহম্মেদ মাস্টারের বাড়ির শাহজান মিয়ার ৪র্থ শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ফারহানা আক্তারের (১২) সঙ্গে বিয়ে হয় একই গ্রামের মহিউদ্দিন নামের এক যুবকের।


অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করতে উভয়ের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রে নিশ্চিত করেছে। তবে কাজী অফিসে বিয়ে পড়িয়ে মইজ্জারটেকের কোন এক দোকানে বিয়ে পড়িছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


জানা যায়, মেয়ের বাড়িতেই বিয়ের ব্যবস্থা করা হলে গ্রামের মানুষ বাল্যবিবাহ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন তাই এমনটা করা হয়েছে। পরে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে অবস্থিত এক কাজী কৌশলে বিয়েটি সম্পন্ন হয় বলে জানান।


এ নিয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও এলাকার মানুষের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেননা কণে সাজানো মেয়েটা এখনো খোয়াজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী বলে নিশ্চিত করেছেন স্কুলের সহকারি শিক্ষিকা আইরিন আক্তার।


এ প্রসঙ্গে স্কুলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়র ইসলাম আহমেদ জানান, তিনিও জেনেছেন চরপাথরঘাটার কথিত কামরুল নামক এক কাজী অফিসে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।


এ বিষয়ে মেয়েটির বাবার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। কিন্তু অন্যদিকে আমাদেও প্রতিবেদক কাজী শরফুদ্দীন মো. সেলিমের অফিসে যোগাযোগ করে বাল্যবিবাহের বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি সম্পুর্ণ অস্বীকার করে বসেন। তার সরকারি নিকাহ্ নিবন্ধনে এধরনের কোনো বিয়ে সম্পাদন হয়নি বলেই জানান।


এক প্রকার লুকোচুরি খেলা শুরু করে কথিত কাজী ও বিবাহ পড়ানো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।


সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার অনেক জায়গা ও বাজারের মোড়ে মোড়ে শরফুদ্দীন সেলিম ভুয়া কাজী বলে লিপলেট লাগানো। অথচ বিষয়টি পুলিশ ও দেখছে না।


বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জেলা নিকাহ্ রেজিস্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করলে জেলা অফিসও স্পষ্ট ভাবে জানাতে পারেনি। চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে কে বৈধ আর কে অবৈধ কাজী! এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।


এতে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নিরীহ মানুষেরা বর্তমানে বিবাহ পড়া নিয়ে খুব বিভ্রান্তিতে পড়েছে।


অন্যদিকে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিবাহ নিয়ে কাজীর লুকোচুরিসহ স্থানীয়দের কাছ থেকে নানা অভিযোগ ওঠেছে, চরপাথরঘাটার কাজী শরফুদ্দীন সেলিমের অফিসটি নাকি রোহিঙ্গা ও বাল্যবিবাহের নিরাপদ আস্তানা। দীর্ঘদিন ভুয়া কাগজে বিবাহ পড়ানোর মতো গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে।


এ বিষয়ে এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। না হয় যে কোনো মুহুর্তে ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এমন আশঙ্কা স্বয়ং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।


সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, গত সপ্তাহে খোয়াজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে মাদক, যৌতুক, বাল্যবিবাহসহ যৌন নিপীড়ন ও ইভটিজিং মুক্ত সুন্দর সমাজ নির্মানে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো। অথচ একই স্কুল থেকে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ফারহানার বিয়ে হলে এলাকার মানুষে নানা মন্তব্য করতে শোনা যায়।


বিবার্তা/জাহিদ/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com