ফুলবাড়ীতে সেবা না পেয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৫
ফুলবাড়ীতে সেবা না পেয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা না পেয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


বুধবার দিবাগত রাত ৮টায় সড়ক দুর্ঘটনার গুরুতর আহত এক রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালককে না পেয়ে, এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় আহত রোগীর স্বজনেরা।


প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ফুলবাড়ী-রংপুর মহাসড়কের ভাগলপুর বাজার নামক স্থানে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ফুলবাড়ী থানার গাড়ি চালক কনস্টবল সিদ্দিকুর রহমান রাজু (৫৫) ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার পারুল (৪০) এবং অপর মোটরসাইকেল চালক মাদিলাহাট চিন্তামন গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মিজান (২৮) গুরুতর আহত হয়।


আহতদের উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার এনায়েতুল্যা নাজিম সিদ্দিকুর রহমান রাজু ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার পারুলকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অপর মোটরসাইকেল চালক মিজানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, চালক মিজানের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যেতে চায়। এসময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালকের নাম্বারে বারবার ফোন দিয়েও তাকে না পেয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সহযোগিতা চায়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের কথায় তেমন কোনো সাড়া দেয়নি এবং মিজানের পরিবারকে কোনো সহযোগিতা না করায় স্বজনেরা ক্ষিপ্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দাড়িয়ে থাকা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটির দুপাশের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে নিয়ে যায়।


এই বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল্লাহ বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে যে মোবাইল নম্বরটি দেয়া আছে তা পূর্বের চালকের। সে কারণে আমার কাছে কারো ফোন না আসায় আমি আসতে পারিনি।


এই বিষয়ে মেডিকেল অফিসার এনায়েতুল্যা নাজিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ব্যাপার তিনি জানাবেন। এসময় তিনি আর কোনো কথা বলতে পারবে না বলে ফোন কেটে দেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নুরল ইসলামের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুরের ঘটনাটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এদিকে, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আহত রোগীর স্বজনদের খোঁজ করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।


বিবার্তা/উজ্জল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com