টাঙ্গাইলে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ১৬:৪৯
টাঙ্গাইলে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকান্দী বাজার থেকে নিকরাইল বাজারের ভালো সড়ক সংস্কারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে|উল্টো এ সড়ক সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা|


তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ভালো সড়ক সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে|


জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় এ সড়কটির প্রস্তাব পেশ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ভূঞাপুর অফিস|পরে এক হাজার ৯৭৫ মিটার (প্রায় দুই কিলোমিটার) সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৭১ লাখ ৭২ হাজার ২৯৫ টাকা|


রোহান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট, পুরনো সড়কের বেড চাষ করে পাঁচ ইঞ্চি পুরুত্বের প্রথম শ্রেণির নতুন খোয়া ও বালু দিয়ে ভরাট, দুই পাশে এজিং স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাববেইজ, আরসিসি প্যালাসাইটিং, ২৫ মিলিমিটার ডেন্স কার্পেটিংসহ আনুসঙ্গিক কয়েকটি বিষয়ের জন্য এ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে এসব কাজের অধিকাংশেই নিময়-নীতি অনুসরণ করা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে- স্বল্প দূরুত্বের সড়ক সংস্কারে বিপুল অংকের বরাদ্দ নিয়ে।


স্থানীয় ফজলু মিয়া, হাসান আলী, নুরুল হক ও ছাত্তার জানান, সড়কটির পুরনো বেডের পিচ অপসারণ করা হয়নি। তার উপরই পিচ ঢালাই করা হচ্ছে। সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাটের কথা থাকলেও তা না করে কিছু জায়গায় বাঁশ ও টিন দিয়ে বেড়া দেয়া হয়েছে। সাববেইজে নতুন মালামাল ধরা হলেও তা ব্যবহার করা হয়নি।


তারা বলেন, ৮০ শতাংশ অংশে পাঁচ ইঞ্চি পুরুত্বের খোয়া-বালু দিয়ে ভর্তি করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তারা যেভাবে কাজ করছেন, তাতে মনে হয় এ কাজে সর্বোচ্চ ব্যয় হবে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।


স্থানীয়রা বলছেন, এরকম কাজ না করাই ভালো ছিল। আগের সড়কটিই ভালো ছিল। তাই সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজের অনিয়ম বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি চেয়েছেন তারা।


তবে এসব অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কিছু বলতে রাজি হননি।


এ বিষয়ে ভূঞাপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন জানান, সড়কটি অনেক ভাঙা থাকায় টেন্ডার করানো হয়েছে। এ্র সড়কের সংস্কারকাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। প্রাক্কলন অনুযায়ী যথাযথভাবেই কাজ বুঝে নেয়া হচ্ছে।


ভূঞাপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর খাঁন জানান, আমার অফিসের লোক দিয়ে সবসময় দেখাশোনা করানো হচ্ছে। ডিজাইন অনুযায়ী কাজ হয়েছে। কোনো অনিয়ম করার সুযোগ নেই।


এ কাজে যে ব্যয় ধরা হয়েছে, তা যৌক্তিক। এর থেকে কম টাকা হলে সড়কের কাজের মান ভালো হতো না বলেও জানান তিনি।


বিবার্তা/তোফাজ্জল/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com