রংপুরের জাকির হোসেনের যত দুর্নীতি
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৩
রংপুরের জাকির হোসেনের যত দুর্নীতি
রংপুর ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+

আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েই প্রকাশ্যে বক্তৃতায় অর্থের বিনিময়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের প্রস্তাব দেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন। বক্তৃতার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হলে তীব্র সমালোচনার ঝড়া ওঠে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগে একবার উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। তখনও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, জামায়াতের নেতা ও আত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ দেন তিনি। এছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার গভর্নিংবডিসহ বিভিন্ন পদেও তিনি আত্মীয়দের স্বজনপ্রীতি ও অর্থের বিনিময়ে পদ বণ্টন করেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাকির হোসেন ২০০৯ সালে জামায়াতপ্রার্থী আব্দুল মান্নানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে প্রথমবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই জড়িয়ে পড়েন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দুর্নীতিতে। বেপরোয়া দুর্নীতির কারণে উপজেলাজুড়ে তীব্র সমালোচিত হন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে অন্য জামায়াত প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন।


সূত্র আরো জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যান থাকার সময় তিনি ১১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান পদ কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি নিয়োগে দুর্নীতি করেন।


জানা গেছে, উপজেলার ১৪ নং দুর্গাপু্র ইউনিয়নের বাসিন্দা তার আপন ভাগ্নে জামায়াত নেতা কামরুল হাসানকে জীবনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি হিসাবে নিয়োগ দেন। একই ইউনিয়নের তার ভাই জাহিদ হাসানকে শঠিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ দেন। উপজেলার ৮ চেংমারী ইউনিয়নে ডাবরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেন তার বড় বোনকে। ১১ নং বড়বালা ইউনিয়নের গুটীবাড়ী মাদ্রাসায় জামায়াতের রোকন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহির হত্যার অন্যতম আসামিকে সুপার পদে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেন।


অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগেও ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্যের চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার ১৫ নং বড় হজতপুর ইউনিয়নের সেরুডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজে টাকার বিনিময়ে জামায়াত-বিএনপির কর্মীকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেন তিনি। ১৩ নং শাল্টি গোপালপুর ইউনিয়নের হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৫ টি পদেও ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্য করেন জাকির হোসেন। ১৪ নং দুর্গাপু্র ইউনিয়নের শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে টাকার বিনিময়ে ১০টির বেশি নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, ১০ নং বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর মাদ্রাসায় জামায়াতের ৫ জন সমর্থককে টাকার বিনিময়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।


সূত্রমতে, উপজেলার স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে নৈশ্য প্রহরী, দফতরী পদে জনপ্রতি কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন জাকির হোসেন। এছাড়া মিঠাপুকুর উপজেলায় ২০১৪ সালের জামায়াত-বিএনপি’র জামায়াত বিএনপির আসামিদেরও তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।


বিবার্তা/উজ্জ্বল


>>মিঠাপুকুরে আ.লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com