ক্লিনিকে গেলেই অপারেশন, চিকিৎসা নামের মরণ ফাঁদ
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৮, ০২:২৬
ক্লিনিকে গেলেই অপারেশন, চিকিৎসা নামের মরণ ফাঁদ
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে শতশত অনুমোদনহীন ক্লিনিক। গ্রামের প্রবাদ আছে, ধর মুরগী-জবাই কর। পেটের ব্যথা উঠলেই ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসার নামে প্রায় প্রতিদিনই অপারেশনে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। গ্রামের মানুষগুলো একটু অসুস্থ হলেই ক্লিনিকে ছুটে যান। কারণ ঘরে কাছেই চিকিৎসা। কিন্তু রোগীরা জানেন না, ঘরে পাশেই গড়ে উঠেছে ক্লিনিক নামের মরণ ফাঁদ। ৭-৮ মাসের অন্ত:সত্ত্বা নারী অসুস্থ হয়ে ক্লিনিকে গেলেই বিনা কারণে নানা অজুহাতে অপারেশন করানো হচ্ছে। ক্লিনিকগুলোতে নেই অভিজ্ঞ চিকিৎসক। নেই প্রশিক্ষণধারী নার্স। তারপরেও চলছে অপারেশন বাণিজ্য। বগুড়া সদর এবং নন্দীগ্রাম উপজেলায় ক্লিনিকে অপারেশনে মৃত্যুর এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের।


বগুড়া শহরের শেরপুর রোড ডলফিন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে গত বুধবার (১৮ জুলাই) রাতে অ্যাপেনডিসআইটিস অপারেশন করাতে গিয়ে সাকিব হাসান (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে তোলপাড়ের একপর্যায়ে বগুড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ মহল বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) ভ্রাম্যামণ আদালতের অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ক্লিনিক সিলগালা করেছেন।


নিহত সাকিব হাসান শহরের ফুলতলা এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে এবং ফয়জুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।


সাবিকের বাবার অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী পলাতক রয়েছেন।


বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. শামসুল হক সাংবাকিদের জানান, ওই হাসপাতালের কোন অনুমোদন ছিল না। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল ওয়াদুদকে প্রধান করে ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, সাকিব পেটের ব্যথায় ভুগছিল।


গত বুধবার দুপুরে তাকে প্রথমে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্যথাটি অ্যাপেনডিসাইটিস বলে জানায় চিকিৎসকরা। পরে এক দালালের পরামর্শে তাকে বুধবার রাতে ডলফিন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৯ টার দিকে সাকিবকে সেখানে হাতুরে ডাক্তার অপারেশন করেন।


সাবিকের বাবা আব্দুল আজিজ জানান, প্রায় এক ঘন্টা পরেও তার ছেলেকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের না করায় তাদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পায়। পরে সাকিবকে শহরের কানুচগাড়ি এলাকায় অপর একটি কিনিকে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে জানান, অনেক আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।


বগুড়ার ক্লিনিক ভিজিলেন্স টিমের সদস্য সচিব সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, অভিযানকালে চারতলায় অবস্থিত অপারেশন থিয়েটার কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। পাঁচতলায় কিছু বিছানাপত্র পাওয়া গেছে। সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।


বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান জানান, ময়না তদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


সিভিল সার্জন ডা. শামসুল হক জানান, ক্লিনিকটি অনুমোদন না নিয়ে গত ৩-৪ মাস আগে থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। এধরনের অনুমোদন বিহীন ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


বিবার্তা/নজরুল/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com