শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৮, ২০:৪৭
শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের পুখুরিয়া শিয়ালকোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।


রফিকুল ইসলাম ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পুখুরিয়া শিয়ালকোল গ্রামের বাসিন্দা।


এদিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহল অসহায় পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পরই এলাকা থেকে আত্মগোপন করেছেন ওই শিক্ষক।


জানা গেছে, উপজেলার পুখুরিয়া শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রফিক প্রতিনিয়ত ৫ম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একইভাবে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় শারীরিক, মানসিক ও যৌন হয়রানি করতে শুরু করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে যান ওই শিক্ষক। ছাত্রীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি।


এ সময় মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে ধর্ষক শিক্ষক পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটি প্রকাশ না করতে ওই শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান মেয়েটিকে হুমকি দেন। এতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় ওই ছাত্রী। এর কয়েকদিন পরই গত রবিবার মেয়েটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ হওয়ার পরই মেয়েটি তার পরিবারকে বিষয়টি খুলে বলে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে সেটি ধামা চাপা দেয়ার জন্য মেয়ের পরিবারকে হুমকি দেয়া শুরু করে।


প্রভাবশালীদের ভয়ে অসহায় ওই পরিবারটি এখন মেয়েটির চিকিৎসা দেয়াসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্ষিতার চাচা কামাল হোসেন জানান, এরআগেও অনেকবার আমার ভাতিজিকে কু-প্রস্তাব দেয়াসহ গায়ে হাত ও ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন ওই শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রফিক।


তিনি জানান, সম্প্রতি ভাতিজি অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষণের বিষয়টি আমরা জানতে পেরে স্থানীয়দের কাছে বিচার দাবি করি। তবে তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য এবং আইনি ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে পরিবার থেকে মেয়েটিকে চিকিৎসা করাতে পারছি না। বাড়িতেই এখন গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে কোনো রকমে ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। তবে পর্যায়ক্রমে মেয়েটি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।


অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।


এ নিয়ে পুখুরিয়া শিয়ালকোল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি তেমন কিছু হয়নি বলে ফোন কেটে দেন। এরপর বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।


ভূঞাপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড ও ঘটনাস্থলের কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন জানান, মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে এ ঘটনায় ছাত্রী বা তার পরিবার থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।


এ প্রসঙ্গে ভূঞাপুর থানা ওসি আব্দুছ ছালাম মিয়া জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। যদি এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ধর্ষিতা ছাত্রী বা তার পরিবার নীরিহ ও অসহায় হওয়ার কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে অক্ষম হয় তাহলে ওই পরিবারকে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সহযোগিতাসহ আইনি সহায়তা দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।


বিবার্তা/তোফাজ্জল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com