লামায় বন্যহাতির হানায় ৫০ বসতঘর বিধ্বস্ত, আহত ৫
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৮, ১১:২৭
লামায় বন্যহাতির হানায় ৫০ বসতঘর বিধ্বস্ত, আহত ৫
লামা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বন্যহাতির তাণ্ডবে বান্দরবানের লামা উপজেলায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এক গ্রামের প্রায় হাজার মানুষ। এরই মধ্যে আবার হাতির হানায় তছনছ ৫০টি বসতঘর। সন্ধ্যা নামলেই হাতিগুলো এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে। আর এ তাণ্ডব চলে রাতভর।


উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ফখিরাখোলা গ্রামে ১০-১২টি বন্যহাতির একটি পাল এ তাণ্ডব চালায়। এ সময় আহত হন পাঁচজন। এছাড়া হাতির পাল ২০০ কাঁঠাল ও আম গাছ উপড়ে ফেলেছে।


হাতির পালটি বর্তমানে ওই এলাকায় অবস্থান করায় চলতি মৌসুমে ৫০ একর ফসলি জমি অনাবাদিসহ আতংক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। হাতির তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।


স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ফখিরাখোলা গ্রাম। এটি লামা উপজেলা ও পাশের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজার জেলার খুটাখালী এলাকার সীমান্তবর্তী স্থানে অবস্থিত। ১৯৬৫ সাল থেকেই এ গ্রামে জন বসতি শুরু হয়।


গ্রামটির অবস্থান সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন খুটাখালী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বন্যহাতির পাল প্রতিরাতেই লোকালয়ে নেমে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ জুন প্রথম ফখিরাখোলার গ্রাম সর্দার আবদুল গণির বসতঘর ভাঙচুর করে। এরপর পর্যায়ক্রমে একই পাড়ার আবদুর রহিম, নুরু ছিদ্দিক, মোবারক হোসেন, সাহাব উদ্দিন, নুরুল কবির, অলি আহমদ, নুরুল আলম, মোঃ শফি ও আনোয়ার হোসেনের বসতঘর সম্পূর্ণ ও ৪০টি বসতঘর আংশিক তছনছ করে দেয় হাতির পাল।


এ সময় বসতঘরে রক্ষিত ধান ও চাল খেয়ে ফেলে। এদিকে কুমারী কবিরার দোকান এলাকায় আবদুল গফুরের বসতঘর ভাঙচুর করে বন্যহাতি। পরদিন হাতির হামলায় আহত হন কুমারী এলাকার শাহিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূ।


স্থানীয় নুরুল আলম, আনোয়ার হোসেন ও গ্রামের সর্দার আবদুল গণি জানান, হাতির পাল প্রথমে বাড়ির চারিদিকে ঘেরাও করে ফেলে। বিশেষ করে ঘরের দরজা জানালার পাশে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর ঘর ভাঙ্গা শুরু করে। পরে ঘরে থাকা ধান চাল খেয়ে চলে যায়। তাড়াতে গেলে পাল্টা আক্রমণ চালায়। সন্ধ্যার পর আর ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। রাতজেগে বাড়ি ঘর পাহারা দিয়ে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয়রা।


তারা আরো বলেন, গত ১৫ দিনের তাণ্ডবে আহত হয়েছেন পাঁচজন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন মামুন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রাত জেগে আগুন জ্বালিয়ে ও ঢোল পিটিয়ে চিৎকার করেও বন্য হাতির দলকে সরানো যায় না। বেশি ভয় দেখালে হাতির পাল গায়ের দিকে তেড়ে আসে। এ কারণে চেয়ে দেখা ছাড়া স্থানীয়দের পক্ষে কিছুই করার থাকে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।


এ বিষয়ে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমদ জানান, ফখিরাখোলা গ্রামে বন্যহাতির হামলার ঘটনা কেউ জানায়নি। খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


পাহাড়ে হাতির আবাসস্থল ও খাবার দিনদিন কমে যাওয়ার কারণে হাতির পাল এখন লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।


বিবার্তা/নুরুল/জাকিয়া


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com