যমুনার করালগ্রাসে বিলীন হচ্ছে চৌহালী
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ২১:০৯
যমুনার করালগ্রাসে বিলীন হচ্ছে চৌহালী
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

যমুনার ভাঙনতাণ্ডবে বিলীন হতে বসেছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা। যমুনার দু’পাড়েই পাল্লা দিয়ে চলছে নদী ভাঙন। বিশেষ করে দক্ষিণাংশের প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র নদী ভাঙনে গত এক মাসে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।


ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হবার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


অন্যদিকে যমুনার পশ্চিম তীরে অবস্থিত মেকিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও চলছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।


যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া থেকে পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন চলছে। প্রতিনিয়তই নদীর পেটে যাচ্ছে বসত বাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে খাষপুখুরিয়া ও চরছলিমাবদ এলাকায় ৭টি বসতবাড়িতে যমুনার হিংস্র থাবা যেন বার বার আছড়ে পড়ছে। তাদের শেষ সম্বল টিনের চালা ও অন্যান্য আসবাব সরিয়ে নিতে হচ্ছে নিরাপদ স্থানে।


গতবারের নদী ভাঙনে খাষদেলদারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বীরবায়ুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাষপুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে চলে যায়। এছাড়া যমুনার পশ্চিম তীরে অবস্থিত খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাপাতাল ও বিশ্ববিদ্যায়ের দক্ষিণে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়েও চলছে যমুনা ভয়াবহ ভাঙনের তাণ্ডবলীলা। এ কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাট, চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।


স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আবু দাউদ সরকার জানায়, যমুনার রাক্ষুসী থাবার কাছে হার মেনে অসহায় মানুষগুলোকে নিজ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে ওয়াপদাবাঁধে অথবা পরের বাড়িতে উটুলি থাকতে। এ বিভিষীকাময় পরিস্থিতিতে কান্নার রোল পড়েছে যমুনা পাড়ে। আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।


খাষপুখুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার বলেন, যমুনা নদীর এতো ভয়ংকার গর্জন বিগত দিনে দেখা যায়নি। এ বছর নদীতে পানি বৃদ্ধির পর থেকে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।


এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, দক্ষিণাংশে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এখনই ভাঙন ঠেকানো না গেলে চৌহালীর বাকি অংশ মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে থাকবে না।


উপজেলা ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) আনিছুর রহমান জানান, ভাঙন কবিলত এলাকা পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে।


টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, চরছলিমাবদ এলাকায় ভাঙনরোধে ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া বিধ্বস্ত চৌহালীরবাসি অংশকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় পাউবো কর্মকর্তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে।


বিবার্তা/রানা/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com