লক্ষ্মীপুরে খালের ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে পাঁচটি গ্রাম
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ১০:৫৫
লক্ষ্মীপুরে খালের ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে পাঁচটি গ্রাম
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

লক্ষ্মীপুরে ওয়াপদা খালের ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে সদর উপজেলার পাঁচ গ্রাম। বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও চলাচলের রাস্তা, কাঁদছে মানুষ। বেড়েছে খালের প্রশস্ততা। কিন্তু সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলরা।


বারবার খনন ও মেরামত করার আশ্বাস দিয়েও করছেন না জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। আগের মতো আবারো বলছেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের পিয়ারাপুর, পশ্চিম সৈয়দপুর, তালহাটি, চাঁদখালী ও শহীদপুর গ্রাম ওয়াবদা খালের ভাঙনে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। সেই ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও গাছপালা। নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে বাপ-দাদার চিরচেনা বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে। ফলে চরম দুর্ভোগে মানবেতর জীবন কাটছে ওয়াবদা খালের দু’পাড়ের হাজার-হাজার মানুষের।


সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। কয়েকবার খাল খনন, ক্ষতিগস্ত জায়গা বাঁধ ও ধসে যাওয়া রাস্তা সংস্কার করার আশ্বাস দিয়েও কাজ করেনি কেউ।



এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছরই ভাঙনের ফলে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, ঘর-বাড়ি, গাছপালা খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ২২ হাত দৈঘ্য ওয়াপদা খাল এখন ২০০ হাতে পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজে ও বাজারে যেতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে চলতি বর্ষায় রাস্তাঘাট আরো ভাঙনের কবলে পড়বে এবং গৃহহীন হয়ে পড়বে বহু পরিবার। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।


লাহারকান্দি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মশু পাটোয়ারী বলেন, ভাঙনের কারণে খালের দু’পাশের জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি ইতোপূর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। তারাও দ্রুত খনন, মেরামত ও রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।


জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুসা বলেন, ওয়াপদা খালের ভাঙনের কারণে সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন অংশ ভাঙছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ক্ষতিগস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিবার্তা/ফরহাদ/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com