নরসিংদীতে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত তিন
লক্ষ্মীপুরে হাফেজের পরিবারে শোকের মাতম
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৮, ২২:২৩
লক্ষ্মীপুরে হাফেজের পরিবারে শোকের মাতম
ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হাফেজ ও তার দুই মেয়ে
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদে ঘুরতে বের হয়ে নরসিংদীতে ট্রেনের ধাক্কায় লক্ষ্মীপুরের হাফেজ মিয়া ও তার দুই মেয়ের মৃত্যু হয়। একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে তাদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। হাফেজের বৃদ্ধ মা ছেলে ও নাতিনদের জন্য কেঁদেই যাচ্ছেন। ওই দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া স্ত্রীও অনেকটা অচেতন।


মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর সদরের দত্তপাড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামে নিহত হাফেজের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এরআগে সকাল ৯টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের মরদেহ পাশাপাশি দাফন করা হয়। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় নরসিংদী শহরের বাদুয়ারচর এলাকায় রেল সেতুর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন- মো. হাফেজ মিয়া (৪০), তাঁর দুই মেয়ে তানজিদা আক্তার তারিন (১৪) ও তাসলিমা আক্তার তুলি (০২)। হাফেজ মিয়া লক্ষ্মীপুরের দর্জিপাড়া গ্রামের মৃত জহিুরুল ইসলামের ছেলে। তারিন ব্রাহ্মন্দী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।


নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১২ বছর বয়সে হাফেজ তার বড় চাচা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে চাকরির খোঁজে নরসিংদিতে যান। এরপর থেকে প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি নরসিংদি শহরের বিলাসদী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। একই জায়গায় তার ছোট ভাই স্বপন মিয়া প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি ও ভগ্নিপতি শহিদ উল্লাহ ব্যবসা করতেন। হাফেজ সেখানে ভেলানগর জেলখানা মোড়ে চায়ের দোকান চালাতেন।


সোমবার বিকেলে মেয়ে তারিনের বায়নায় তুলি ও স্ত্রী রুমা আক্তারকে নিয়ে শহরতলীর বাদুয়ারচর এলাকায় নতুন সড়ক ও ট্রেন লাইনের পাশে ঘুরতে যান। এসময় স্ত্রী রুমা আক্তার নিরাপদে রেল সেতু পার হন। কিন্তু হাফেজ মিয়া, তারিন আক্তার ও কোলে থাকা দুই বছরের মেয়ে তুলি নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় সেতুর পাশে পড়ে যান।


স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সদর হাপসপাতাল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।


ছেলে তারেক আজিজ বলে, তারিন আব্বুকে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বলে। পরে আব্বু, আম্মু ও ছোট দু’বোন ঘুরতে যায়। ছোটবোন তুলির ইচ্ছাতে সবাই ট্রেন সেতু ওপর দিয়ে হাটছিলো।আম্মু দ্রুত সেতু পার হতে পারলেও আব্বু ও ছোট বোনরা ট্রেনের ধাক্কায় পাশে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিলে তারা মারা যান।


নিহত হাফেজের মা নুরজাহান বেগম বলেন, ১২ বছর বয়সে জীবিকার তাগিদে হাফেজ বড় চাচা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে নরসিংদী যায়। প্রায় ৩০ বছর নরসিংদীতে বসবাস করে আসছে। প্রতিবছর কোরবানি ঈদে সে বাড়িতে আসতো।


বিবার্তা/সুমন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com