রোহিঙ্গা নেতা খুন : ক্যাম্পগুলোতে উত্তেজনা
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৮, ২১:২৫
রোহিঙ্গা নেতা খুন : ক্যাম্পগুলোতে উত্তেজনা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

একজন রোহিঙ্গা নেতা খুন এবং অপর এক ঘটনায় সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় পুলিশ বলছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যেই এই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।


বাংলাদেশে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গার বাস। সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশংকা করা হচ্ছিলো অনেক দিন ধরেই।


জেলার পুলিশ সুপার একেএম ইকবাল হোসেইন জানিয়েছেন, নিহত আরিফউল্লাহকে তাদের ভাষায় মাঝি বলা হতো, অর্থাৎ সে নেতা গোছের। আরিফউল্লাহ বালুখালি ক্যাম্প থেকে পালংখালি যাচ্ছিলো। পথে কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি ছুরি দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়।


তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এটা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি।


ত্রাণ বিতরণ, তথ্য সংগ্রহ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করাসহ ক্যাম্পের নানা ইস্যুতে সরকার ও অন্যান্য সাহায্য সংস্থার সাথে কাজ করতেন নিহত আরিফউল্লাহ। এর আগেও জানুয়ারি মাসের দিকে তার উপরে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটেছিলো।


হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এরই মধ্যে সেখানে আরেকটি ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় দশজন আহত হয়েছে। টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে দোকানের নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে ছুরি মারার ঘটনার পর বিষয়টি আরো বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।


নয়াপাড়া ক্যাম্পের বাসিন্দা ইসমত আরা বলছেন, দোকান নিয়ে অনেক বেশি হইছে মারামারি। আমরা তাই সাবধানে আছি। যদি এরকম কিছু আবার ঘটে তাই।


গত আগস্ট থেকে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আগে আসা রোহিঙ্গাদেরসহ এখন প্রায় ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গা কক্সবাজারের নানা উপজেলায় প্রায় ৩০টি ক্যাম্পে বসবাস করছেন।


খুব ঘনবসতিপূর্ণ, ছোট ছোট খুপরি ঘরে কোন ধরনের নাগরিক সুযোগসুবিধা বিবর্জিত মানবেতর পরিস্থিতি সেই ক্যাম্পগুলোর, যেখানে এখন বৃষ্টির কারণে ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা ও অসুখবিসুখের ঝুঁকিতে পরিস্থিতি আরো সংকটপূর্ণ।


এসব ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যে অথবা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বেশ কিছুদিন ধরেই আশংকা ছিল।


পুলিশ সুপার একেএম ইকবাল হোসেইন সংঘর্ষকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখছেন।


তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও এক জায়গায় এতগুলো লোক একসাথে এভাবে বসবাস করে না। সেই হিসেবে এদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতেই পারে।


মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা এই রোহিঙ্গাদের বলা হয় বিশ্বের সবচাইতে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী। যারা বিশ্বের কোন দেশের নাগরিক নয়।


মিয়ানমার তাদের জাতিগত-ভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায় বা সম্পূর্ণরূপে সেদেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায় বলেই পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে।


রোহিঙ্গারা কোনদিন দেশে ফিরে যেতে পারবেন কিনা অথবা বাংলাদেশেই এমন মানবেতর পরিস্থিতিতে তাদের বাকি জীবন কাটাতে হবে কিনা, সে নিয়ে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে অনিশ্চয়তা। সূত্র : বিবিসি


বিবার্তা/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com