লক্ষ্মীপুরে আবহাওয়া অফিস চালু হয়নি ১০ বছরেও
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৮, ১১:৪৬
লক্ষ্মীপুরে আবহাওয়া অফিস চালু হয়নি ১০ বছরেও
ফরহাদ হোসেন, লক্ষ্মীপুর
প্রিন্ট অ-অ+

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম সতর্কবার্তা পেতে রামগতির চর সেকান্তর এলাকায় আবহাওয়া অফিস নির্মাণ করেছে। গত নয়-১০ বছরেও শুরু হয়নি এর কার্যক্রম। তার উপর আবার নতুন আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।


কার্যক্রম নাই, একের পর এক ভবন নির্মাণ শুধু রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়, কাজের কাজ কিছুই আসছে না। বিবার্তা প্রতিনিধির কাছে এভাবেই ক্ষোভ জানালেন চর সেকান্দর বাজারে ব্যবসায়ী আবু সৈয়দ।


তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আবহাওয়া বার্তা থেকে বঞ্চিত এ অঞ্চলের লোকজন। যার ফলে প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। তাই তিনি রামগতি আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টিকামনা করেন।


লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় পৌর ৫নং ওয়ার্ডের চর সেকান্দর গ্রামে নির্মিত আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম প্রায় ১০ বছরে চালু হয়নি। ফলে এই জেলার মানুষ সময়মতো আবহাওয়া পূর্বাভাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে প্রতি বছরই উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘটছে দুর্ঘটনা, মরছে মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, গৃহপালিত পশু ও ফসলী জমি। তাছাড়া অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এটি পরিনত হয়েছে গোচারণ ভূমি ও বখাটেদের আড্ডাখানায়।


উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বসবাস করছে। তাদের মধ্যে নদীকূলে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে ৩ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে ৬৫ হাজার জেলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার রামগতি পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের চর সেকান্দরে ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে দেড় একর ভূমির উপর আবহাওয়া অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল পূর্বাভাস এ কেন্দ্রটি দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে। কিন্তু প্রায় ১০ বছরেও শুরু হয় এর কার্যক্রম। যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পাচ্ছেন না উপকূলীয় এ জেলার মানুষ। এছাড়াও আবহাওয়া অফিসে কর্মরত দুই আনসার সদস্য অফিস না করেই বেতন নিচ্ছেন।


এদিকে গণপূর্ত বিভাগের অধীনে রামগতি আবহাওয়া অফিসের ভেতরে নির্মিত হচ্ছে কর্মকর্তাদের জন্য তিনতলা বিশিষ্ট আবাসিক ডরমেটরি ভবন। এর নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে এক কোটি ৮২ লাখ টাকা। ভবনটির দ্বিতলায় চারটি ও তৃতীয় তলায় দুটি ইউনিট রয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্যমতে অফিসেরই কার্যক্রম নেই, বিলাসবহুল আবাসিক ভবন আবার কি কাজে আসবে। উল্টো এলাকার কিছু প্রভাবশালী চক্রের আয়েশি স্থান হয়ে উঠবে এটি।


সরোজমিনে ওই অফিসে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ডরমেটরি ভবনে আস্তরের কাজ করছেন শ্রমিকরা। মূল অফিসে পাওয়া যায়নি কাউকে, দ্বি-তলায় দু’টি কক্ষে তালা ঝুলছে। সামনে বারান্দা ও টয়লেটে সিগারেট আর আবর্জনায় ভরপুর, জানালাও খোলা। তৃতীয় তলায় একটি মাত্র কক্ষ, সেটিও তালাবন্ধ। ভবনের সামনের মাঠ গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে পরিত্যক্ত কোনো এক ভবন।


স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ ও সাত্তার জানান, এ অফিসের কার্যক্রম চালু না থাকায় ঢাকা আবহাওয়া অধিদফতরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। ফলে দুর্যোগ মুহুর্তে কোনো আগাম বার্তা না পাওয়ায় নানা শঙ্কায় থাকতে হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে অফিসটির কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি করেন তারা।


আলেকজান্ডার এলাকার কামরুল ইসলাম জানান, জেলায় প্রায় ৬৫ হাজার জেলে রয়েছেন। তারা প্রমত্তা মেঘনায় মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।


রামগতি পৌরসভা প্যানেল মেয়র-১ শাহাদাত হোসেন বলেন, আবহাওয়া ভবনটি নির্মাণের পর থেকেই কোনো কার্যক্রম নেই। কিন্তু কার্যক্রম ও জনবল নিয়োগ না করে নতুন ভবণ নির্মাণ করার যৌক্তিকতা কি? বিষয়টি আমার জানা নেই। প্রতিবছরই জনবল নিয়োগ করে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও তা হচ্ছে না। তাই সবচেয়ে ক্ষতিগস্ত হচ্ছে উপকূলীয় জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সুদৃষ্টি না দিলে সে ক্ষতির পরিমাণ প্রতিনিয়তই বাড়তে থাকবে।


রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আবহাওয়া অফিসটি চালু না হওয়ায় উপকূলীয় এ জেলার মানুষ দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম সতর্কবার্তা পাচ্ছেন না। নতুন করে ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।


রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী বলেন, আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম না থাকায়, আবহাওয়া অফিস চালু না হতে আরেকটি ভবন নির্মাণের বিষয়টি জানা নেই। কার্যক্রম চালুর বিষয়ে জানতে আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসারদের খবর দেয়া হয়েছে, কিন্তু তারা দেখা করতে আসেনি।


জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই।সরেজমিনে আবহাওয়া অফিসটি পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আশা করি খুব দ্রুত যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়োগ করে আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম চালু করা হবে।


বিবার্তা/ফরহাদ/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com