কালাইয়ে কৃষকের মার্কেট উপকারে আসেনি কৃষকের
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৮, ১৫:০০
কালাইয়ে কৃষকের মার্কেট উপকারে আসেনি কৃষকের
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

প্যাকিং থেকে শুরু করে উৎপাদিত ফসলের গ্রেডিং, শর্টিং ও ওয়াশিংয়ের কাজ করতে সরকারিভাবে জয়পুরহাটের কালাই পৌর শহরের একমাত্র বাজারে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মার্কেট নির্মাণ করা হলেও তা কোনো উপকারে আসেনি কৃষকের।


পরিচালনা কমিটির গাফিলতি ও জেলা বাজার কর্মকর্তার তদারকির অভাবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রভাব খাঠিয়ে মালামাল রেখে মার্কেটটি তাদের দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।


জানা গেছে, ২০০৭/০৮ অর্থ বছরে এনসিডিপি প্রকল্পের আওতায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে, জেলা কৃষি বিপণন অধিদফতরের পরিচালনায় এবং এলজিইডির বাস্তবায়নে স্থানীয় কৃষকদের জন্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কালাই পৌর শহরের একমাত্র হাটে মার্কেটটি স্থাপন করা হয়। যাতে করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল এই মার্কেটে নিয়ে সহজে বাজারজাত করতে পারেন।


এ কারণে প্যাকিং হাউজ, গ্রেডিং, শটিং, ওয়াশিং, ড্রাইং ইউনিট, লোডিং, আনলোডিং এরিয়া, স্টোরেজ গোডাউন, মহিলা কর্ণার, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি অফিস কাম ট্রেনিং সেন্টার, টয়লেটসহ ড্রেন, রাস্তা ও ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয় এ মাকের্টে। আবওহাওয়া অনুকূল বা প্রতিকুল যাই হোক না কেন, কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসল এ মার্কেটে নিয়ে ন্যার্য্য মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন।


পাশাপাশি এ মার্কেটের প্রতি কৃষকদের আকৃষ্ট করতে এনসিডিপির উন্নীত কাজের জন্য ৫০% এরিয়া গ্রুপভূক্ত সংরক্ষিত বরাদ্দ দেয়া হয় কৃষকদের।


কিন্তু বাজার পরিচালনা কমিটির গাফিলতি ও জেলা বাজার কর্মকর্তার তদারকির অভাবে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত স্থানীয় কৃষকরা। উল্টো সংরক্ষিত কৃষকের বরাদ্দ লুফে নিয়ে মার্কেটটি দখলে নিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নিয়মনীতিকে উপেক্ষা করে এবং হাট পরিচালনা কমিটির লোকজনদের ম্যানেজ করে ব্যবসায়ীরা তাদের মজুতকৃত মালামাল বছরের পর বছর ধরে কৃষকের মার্কেটে রেখেই যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় কৃষকরা তাদের মাকের্টে উৎপাদিত ফসল মজুত করতে পারছে না।


কালাই কাজীপাড়া মহল্লার কৃষক আলিমুজ্জামান বলেন, আমি কখনো এই মার্কেটে কোনো কর্মকর্তাকে আসতে দেখিনি। তবে ইজারাদারকে টাকা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ওই মার্কেটটি দখল করে রেখেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জায়গা নেই, তাই কেউই এই মার্কেটে ধান, চাল ও আলু ক্রয়-বিক্রয় করতে আসে না।


তবে মার্কেট পরিচালনার দায়িত্বে জেলা কৃষি বিপণন অধিদফতরের বাজার কর্মকর্তা রতন বাবু বলেন, আসলে মার্কেটের জায়গা নিদ্ধারণই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। মুল শহর থেকে মার্কেটটি একটু দুরে হওয়ায় এলাকার কৃষকরা উৎপাদিত ফসল নিয়ে এখানে আসতে চায় না। ফলে মনিটরিংও তেমন করা সম্ভব হয় না। এখানে কৃষক না আসলে সে ক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি।


স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন, যেহেতু বছরের অধিকাংশ সময় এ মার্কেটটি ফাঁকা থাকে, সে কারণে আমরা কয়েকজন মিলে হাটের ইজারাদারকে বলে মজুত কিছু মালামাল রাখি। নিষেধ করলে আর রাখবো না।


ইজারাদারের পক্ষে দায়িত্বে থাকা মংলা মিয়া বলেন, সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার এ মার্কেটের হাটবার। এই দু’দিন ছাড়া কোনো লোকজনই এখানে আসে না। কোনো কিছুর বিনিময়ে নয়, এমনিতেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ মার্কেটের ভিতরে তাদের মজুদ মালামাল রেখেছেন।


বিবার্তা/শামীম/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com