বন্ধুর শিশুকন্যাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, ওষুধ খাইয়ে সন্তান প্রসব!
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০২:২৯
বন্ধুর শিশুকন্যাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, ওষুধ খাইয়ে সন্তান প্রসব!
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

অভিভাবকদের অবর্তমানে বন্ধুর একমাত্র মেয়েকে একা পেয়ে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার গর্ভের সন্তান ওষুধ খাওয়ায়ে প্রসব ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার তিওরবিলা গ্রামের কাশেম ও তার সহোদর মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।


মঙ্গলবার ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানার পর আলমডাঙ্গা থানার এসআই জিয়া ও একরামুলের নেতৃত্বে অসুস্থ প্রসূতি স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নির্যাতিতার পিতা বাদি হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় কাশেম ও তার ভাই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।


মামলা পরবর্তী এ ঘটনার সাথে জড়িত কাশেম ও তার ভাই মনিরুজ্জামানকে আটকসহ প্রসূতি স্কুলছাত্রীর শিশু সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছে।


অপরদিকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে এলাকাবাসী। এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা নিলেও কৌশলে প্রসূতি স্কুলছাত্রীর শিশু সন্তান হত্যা মামলা এড়িয়ে গেছে। তাদের দাবি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশুহত্যার অভিযোগ গ্রহণ করা হোক।


জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার বাজারপাড়ার প্রভাবশালী আবুল কাশেমের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবার গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ধর্ষিতা শিশুটির মা অসুস্থ থাকায় তার বাবা স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় হাসপাতালে থাকে। বাড়িতে থাকে বৃদ্ধা দাদি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছরের এই শিশুটি।


শিশুটির বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে বন্ধুর বৃদ্ধা মা ও মেয়ের খোঁজ নেয়ার কথা বলে প্রায় বন্ধুর বাড়িতে যাতায়াত করতো অভিযুক্ত কাশেম। তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেখিয়ে বন্ধুর শিশু কন্যাকে দিনের পর দিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তখন ওই স্কুলছাত্রী সব ঘটনা খুলে বলে তার পরিবারকে। লোক লজ্জার ভয়ে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের লোকজন বিষয়টি চেপে যায়। তাছাড়া অভিযুক্ত কাশেম ধর্ষিতার পরিবারের উপর নানাপ্রকার হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখায় অসহায় পরিবার বিষয়টি একবারে চেপে যায়।


কাশেম মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানোসহ তার যাবতীয় দায়দায়িত্ব নিতে চাই। সে অনুসারে গত শনিবার ভোরে মেয়েটিকে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তার ৭ মাসের সন্তান প্রসব করায়। এরপর তার সন্তানকে লুকিয়ে রেখে মেয়েটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। গত কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মেয়েটি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার স্থানীয়দের কাচে মুখ খোলে। এরপর থেকে অভিযুক্ত কাশেম গা’ঢাকা দিয়েছে।


তবে, প্রভাবশালী কাশেমের স্বজনদের হুমকিতে মেয়েটির পরিবার মেয়েটিকে হাসপাতালে নিতে পারেনি এবং একই গ্রামেই অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িতে এ যাবত অভিযোগ করতে সাহস পায়নি। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে এবং অভিযুক্ত কাশেমকে আটক করে প্রসূতির সন্তানকে উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।


আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা বাদি হয়ে কাশেম ও তার ভাই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। মামলার আসামিদেরকে আটক ও প্রসূতির গায়েব হওয়া শিশু সন্তান উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন সন্তান প্রসবের পর কাশেমের ভাই মনিরুজ্জামান প্রসূতি স্কুলছাত্রীর সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা শিশুকে সিজ হেফাজতে রেখে তাকে হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেয়। এর পর তারাও শিশুটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসপাতালের এক কোনায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটির কান্না শুনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিলে শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।


এ ঘটনায় এলাকাবাসী অভিযুক্ত কাশেমের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছে। এছাড়া প্রসূতি স্কুলছাত্রীর শিশু সন্তান হত্যা করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশুহত্যার অভিযোগ গ্রহণের দাবি জানায়। এ ঘটনায় অসুস্থ প্রসূতি স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন আলমডাঙ্গা থানার এসআই জিয়াউর রহমান।


বিবার্তা/জিন্না/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com