প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে মেরে আহত করার অভিযোগ
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:১৫
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে মেরে আহত করার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

নীলফামারীর ডিমলার পশ্চিম খড়িবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সাবেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ১০ম শ্রেনীর এক ছাত্রকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তুচ্ছ ঘটনায় নির্মমভাবে বেধড়ক মারার অভিযোগ করেছেন ছাত্রটির বাবা-মা। উঠেছে।


এঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও প্রভাবশালী একটি মহল টাকার বিনিময়ে সালিশের নামে ঘটনাটি ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।


ডিমলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ছাত্রটি বর্তমানে ক্ষত শরীর নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছে।


লিখিত ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, পশ্চিম খড়িবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ি গ্রামের মৃত আন্নাস আলীর ছেলে আবু সায়েম গত বৃহস্পতিবার সকালে বাই সাইকেলে করে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আকস্মিকভাবে প্রধান শিক্ষক ও টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি, বর্তমানে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী আবুল আনছার আলীর সঙ্গে দেখা হয়। এসময় প্রধান শিক্ষককে সালাম দিয়ে বিদ্যালয়ে চলে যায় সায়েম।


কিছুদিন পর আনছার আলী বিদ্যালয়ে সায়েমকে ডেকে নেন। সাইকেলে চড়ে সালাম দেয়া অপরাধ ও বেয়াদবি এমন অভিযোগ তুলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এতে এক পর্যায়ে সায়েম মাটিতে পড়ে গেলে সহপাঠীরা পরিবারকে খবর দেয়। পরে বাবা মা গিয়ে সায়েমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।


পরেরদিন সায়েমের বড় বোন রাশিদা বেগম বাদী হয়ে পশ্চিম খড়িবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেদিন বিকেলেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা হাসপাতাল থেকে আহত ছাত্র আবু সায়েম ও তার মা রওশন আরাকে লোক দিয়ে তুলে এনে তাদেরকে দিয়ে বিষয়টি জোরপুর্বক মীমাংসা পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।


প্রধান শিক্ষক আবুল আনছার আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও অকারণে শিক্ষার্থীদের নির্মমভাবে পেটানো, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ বানিজ্য, বিদ্যালয়ের গাছ কাটা, উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে সায়েমের মা রওশন আরা জানান, হাসপাতালে অবস্থান করার সময় ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও গয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইবনে ফয়সাল মুন আকস্মিকভাবে দুজন ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে আমাকে ও আমার আহত ছেলেকে ডিমলা সদরের থানা মোড়ের একটি অচেনা কক্ষে নিয়ে যান।


সেখানে, ইউপি চেয়ারম্যান ইবনে ফয়সাল মুন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল আনছার আলী, ডিমলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানসহ ২০/২৫ জন লোক উপস্থিত ছিলেন। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মীমাংসা পত্রে সায়েম ও তার কাছে স্বাক্ষর চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকার করে। কিন্তু ভয়ভীতি দেখানোর কারণে এক সময় তারা সা্বক্ষর দেন।


তবে, অভিযুক্ত আবুল আনছার আলী ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। সামান্য ভুল বোঝা-বুঝি হলেও পরে তা আপোষ-মিমাংসা হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।


আগে বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি থাকলেও ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগে যোগদান করে এখনও সরকারি দলেই আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো কোনো বিষয় না!


বিদ্যালয়টির সভাপতি ও গয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইবনে ফয়সাল মুন বলেন, ঘটনাটি মিমাংসীত হয়ে গেছে!


অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সজল কুমার বলেন, এ সংক্রান্ত ঘটনাটি মিমাংসা হয়ে গেছে জেনেছি।


বিবার্তা/সুমন/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com