গাইবান্ধায় ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০৯
গাইবান্ধায় ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অল্প দিনে অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় জেলাটিতে ভূট্টা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এমনকি কোথাও কোথাও কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের রীতিমত প্রতিযোগিতাও চলছে।


এবার আশানুরূপ ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূট্টা বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তারা।


সাদুল্যাপুর উপজেলার বড় জামালপুর গ্রামের কৃষক গোলাম হাফিজ বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরী সহযোগীতা পেলে গ্রামীণ কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবেন। উন্নত জাতের ভুট্টার আবাদ করে তারা প্রচুর টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।


রসুলপুর, নলডাঙ্গা, দামোদরপুর, জামালপুর, ফরিদপুর, ধাপেরহাট, বনগ্রাম ও কামারপাড়াসহ অন্যান্য ইউনিয়নে বিস্তর জমিজুড়ে চাষ হচ্ছে ভূট্টার। অন্যান্য কৃষকেরাও এর আবাদ করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বলে জানান অনেকে।


স্থানীয় মীরপুর গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়া জানান, মাত্র ৯০-১২০ দিনের মধ্যেই ভুট্টা বা মক্কা গোলার ফলন ঘরে তুলতে পারেন তারা। প্রতি বছর শীতের মৌমুমে তারা ভুট্টার বীজ বপন করে থাকে। মৌসুমের শেষের দিকে এর ফলন বাজারে বিক্রি করেন।


বীজ মাটিতে বপন করে পুরো মৌসুমে মাত্র ১-২ বার জমিতে সেচ দেয়ার প্রয়োজন পড়ে বলেও জানান তিনি। বিঘা প্রতি প্রয়োগ করতে হয় মাত্র ২-৩ বস্তা ইউরিয়া সার।


ভাতগ্রাম এলাকার কৃষক আবু তাহের জানান, একবিঘা জমিতে ১২ হাজার টাকার বীজ বপন করা যায়। একেকটি গাছে ২-৩ টি ফল ধরে। সাধারণ কৃষকরাও ভুট্টা ক্ষেত করে সহজেই লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন বলেও জানান তিনি।


সাদুল্যাপুর উপজেলায় ভূট্টা চাষের প্রবর্তক কৃষক আব্দুস সামাদ মণ্ডল বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতা ছাড়াই এখানকার কৃষকরা অন্য ক্ষেতের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করে আসছেন। কৃষি অধিদপ্তরের কারিগরী সহায়তা পেলে তারা আরো বেশি লাভবান হতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. ফজলে এলাহী জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৯০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তার ছড়িয়ে মোট ৭৪৫ হেক্টর জমিতে ভূট্টার আবাদ করেছেন কৃষকেরা।


তিনি আরো জানান, নতুন জাত সর্ম্পকে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করে যাচ্ছেন তারা। যেকোনো চাষে কৃষকদের কারিগরী সহায়তা প্রদানে তাদের মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন।


বিবার্তা/তোফায়েল/কামরুল









সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com