এক শিশুকে হত্যা করলো তিন কিশোর!
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:০৬
এক শিশুকে হত্যা করলো তিন কিশোর!
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বোনের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে দেখে ফেলায় ৩ শিশু হত্যা করলো আরেক শিশুকে! গোপনাঙ্গ কেটে শ্বাসরোধ করে নিজেদেরই খেলার সাথীকে হত্যা করেছে তারা।


হবিগঞ্জের বাহুবলে নির্মম এই ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের হোতা শামীম আহমদ (১৭) আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়।


বাহুবল মডেল থানায় মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং-এ এখবর জানিয়েছেন বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সিনিয়র এএসপি নাজিম উদ্দিন।


এসময় থানার ওসি মো. মাসুক আলী, সার্কেল অফিসের পরিদর্শক বিশ্বজিৎ দেব, পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম দস্তগীর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মহরম আলী উপস্থিত ছিলেন।


গত রবিবার দুপুরে বাহুবলের বেন্দারবন্দ হাওর থেকে পুরুষাঙ্গবিহীন এক শিশুর মরেদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


পুলিশ জানায়, খোজারগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নানের ছেলে হাবিবুর রহমান বিহারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। এই বয়সেই সহপাঠী এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে হাবিবুর। মাসখানেক আগে ওই মেয়েটির সাথে হাবিবুরকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পায় মেয়েটির ভাই একই গ্রামের আমির আলীর ছেলে শামীম আহমদ। তখনই সে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে দ্রুত পালিয়ে যায় হাবিবুর। তখন থেকেই হাবিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিল শামীম।


এদিকে, স্থানীয় বানিয়াগাঁও মাদরাসা সংলগ্ন মাঠে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তফসির মাহফিল শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজ গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে শাহজাহান মিয়া (১২) ও জয়নুল্লাহর পুত্র জুয়েল মিয়াকে (১২) সহযোগী বানিয়ে নেয় শামীম। তাদেরকে দায়িত্ব দেয় ওই মাহফিলে হাবিবকে নিয়ে আসার।


প্রথম দিন ব্যর্থ হলেও পরদিন শনিবার হাবিবকে মাহফিলে আনেত সক্ষম হয় তারা। তখন তার সাথে আড্ডা দিয়ে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলে শামীম। রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে হাবিব, শাহজাহান ও জুয়েলকে নিয়ে রওনা হয় শামীম। হাওরের মাঝামাঝি পৌঁছালে শামীম ধাক্কা দিয়ে হাবিবুরকে ফেলে দেয় এবং শাহজাহান ও জুয়েলের সহযোগিতায় তার গলা চেপে ধরে! শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হাবিবুর নিস্তেজ হয়ে পড়লে শামীম ব্লেড দিয়ে হাবিবুরের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে! এ অবস্থায় হাবিবের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর চলে যায় তারা।


এদিকে, পরদিন ফজরের নামাজের পর থেকেই গ্রামে মাইকযোগে হাবিবের নিখোঁজের খবর প্রচার করা হয়। সকাল ১০টার দিকে হাবিবের মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী।


এ ঘটনায় শামীম, শাহজাহান ও জুয়েলকে ডেকে এনে গ্রামবাসীর সামনেই প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এসময় তাদের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া গেলে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাদের কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শামীম ঘটনার ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দিলে রবিবার বিকেলে পুলিশ তাকে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে হাজির করে।


এসময় শামীম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ওই জবানবন্দিতেই উঠে আসে কীভাবে তারা হত্যা করলো আরেক শিশুকে!


বিবার্তা/ছনি/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com