‘প্রত্যাবাসন চুক্তির পরও ৭৫ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ’
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:১০
‘প্রত্যাবাসন চুক্তির পরও ৭৫ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ’
সীমান্তে ত্রাস সৃষ্টি করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সীমান্ত এলাকায় ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। যার ফলে প্রত্যাবাসন চুক্তির পরও ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।


মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা উখিয়ার ৮টি অস্থায়ী ক্যাম্পে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখনো সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকার নেপথ্যে সদ্য আগত রোহিঙ্গাদের দাবি দায়সারা প্রত্যাবাসন চুক্তিকে মিয়ানমার সেনারা গুরুত্ব দিচ্ছে না।


তারা প্রতিরাতেই বিভিন্ন গ্রামে হানা দিয়ে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করছে। মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিনব কৌশল হিসেবে রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জোর করে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন (এনভিসি) কার্ড নিতে বাধ্য করছে। যে কারণে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা এপারে ধেয়ে আসছে।


গত ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৬১৮জন রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে বলে আইওএম প্রকাশিত মাসিক তথ্য বিবরণীর উদ্বৃতি দিয়ে রোহিঙ্গা নেতা ডা. জাফর আলম জানিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রোগ্রাম অফিসার শিরীন আক্তার জানান, শনিবার অফিস বন্ধ থাকার সঠিক তথ্য দেয়া যাচ্ছে না।


শনিবার উখিয়া সীমান্তের আঞ্জুমানপাড়া, ধামনখালী ও ঘুমধুম এলাকা ঘুরে স্থানীয় আবুল বাসার, নুরুল ইসলাম, বখতিয়ার সওদাগর ও মুজিবুল হকসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, সীমান্তের ওপারে বর্মি সেনারা তাদের ইচ্ছামতো টহল ও রাতের ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।


সীমান্তের তুমব্রু কোনারপাড়া জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নাগরিক দিল মোহাম্মদ, মৌলভী আরফাতসহ একাধিক রোহিঙ্গার অভিযোগ, ১ মাস ধরে সশস্ত্র মিয়ানমার সেনারা তাদের দেয়া কাটা তারের বেড়া পুনঃনির্মাণসহ সংস্কার কাজের অজুহাতে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তারা রাতের যে কোনো সীমান্ত এলাকায় ফাঁকা গুলিবর্ষণ করছে। যে কারণে জিরো পয়েন্টে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা রাতে ঘুমাতে পারছে না। আতংকের মধ্যে রাতযাপন করতে হচ্ছে সবাইকে।


কুতুপালং ক্যাম্প ঘুরে সদ্য আগত রোহিঙ্গা সোনা মিয়া (১৮) ও মুজিব উল্লাহ (২৬) জানান, মিয়ানমার সেনারা মংডুর বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকি নিয়ে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে গিয়ে এনভিসি কার্ড নিতে বাধ্য করছে। যারা কার্ড গ্রহণ করছে না, তাদের মারধর করছে। বাজারে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারণে রোহিঙ্গারা জীবন জীবিকার সন্ধানে ঘর থেকে বেরোতে পারছে না। এসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ধনখালী ও নাইক্ষ্যংদিয়া ঘাট হয়ে ফিশিং বোট ভাড়া করে উখিয়ার বিভিন্ন উপকূলে উঠছে। আইওএমসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মীরা এসব রোহিঙ্গাকে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে পুনর্বাসন করছে।


সদ্য আগত রোহিঙ্গারা আরো জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে সে চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে অনিচ্ছুক। উপরন্তু মিয়ানমারে অবস্থানরত অবশিষ্ট রোহিঙ্গারাও এদেশে পালিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


বালুখালী ক্যাম্পের মাঝি রাকিবুল্লাহ, কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি মুহিবুল্লাহ, কুতুপালং ৬নং ক্যাম্পের মাঝি আরফাত, কুতুপালং ১নং ক্যাম্পে মাঝি জাহাঙ্গীর আলমসহ বেশ কজন রোহিঙ্গা মাঝির সাথে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলাপকালে তারা জানান, দায়সারা চুক্তি নিয়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। তবে মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক অধিকারসহ হারানো বসতভিটা ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ নিশ্চিত করলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে প্রস্তুত।


তারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও এ পর্যন্ত কারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে সে ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের কেউ জানে না।


উখিয়া উপজেলা প্রত্যাবাসন ও সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওদের সাথে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার মতবিনিময় হয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে তাদের মুখ থেকে কিছুই উঠে আসেনি। তাই প্রত্যাবাসনের নামে মিয়ানমার সরকার উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য একটি লোক দেখানো সমঝোতা চুক্তি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।


বিবার্তা/শফিক/শান্ত/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com