লামাকে পুনরায় জেলা ঘোষণার দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর গণআবেদন
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:৩১
লামাকে পুনরায় জেলা ঘোষণার দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর গণআবেদন
লামাকে জেলা করার স্বাক্ষী দুটি দফতরের সাইনবোর্ড
লামা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে সাবেক মহকুমা লামাকে পুনরায় জেলা ঘোষণার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে গণআবেদন দেয়া শুরু করেছে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাবাসী। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিবের মাধ্যমে এ আবেদন করা হচ্ছে।


ইতোমধ্যে তিন উপজেলার সহস্রাধিক আবেদন জমা পড়েছে বলে লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির নেতারা জানিয়েছেন। এদিকে লামাকে জেলা ঘোষণার দাবিতে ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর দুইদিন সড়ক অবরোধ, ২৯ ডিসেম্বর মুক্ত আলোচনা ও বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিও পালন করা হয়।


প্রাপ্ত গণআবেদন প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এম. ওুহুল আমিন ও মহাসচিব মোঃ কামরুজ্জামান।


আবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়নের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, গজালিয়া ও বাইশারী থানার সমন্বয়ে লামাকে মহকুমায় উন্নীত করে। সেই সাথে ৮১ সালের ৪ এপ্রিল লামা ও বান্দরবান মহকুমাকে নিয়ে বান্দরবান মহকুমাকে সরকার জেলায় উন্নীত করে তৎকালীন সরকার।


পরে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের আওতায় দেশের সকল মহকুমাকে বিলুপ্ত করে জেলায় রূপান্তর করার ঘোষণায় একই সাথে লামা মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হলে ৮৪ সালের ১ মার্চ উদ্বোধনের দিন ধার্য্য করে প্রশাসনিক সকল দফতর কার্যক্রম ও জনবল নিয়োগও দেয়া হয়। কার্যক্রমও চলে বেশ কয়েক দিন।


হঠাৎ করে উদ্ভোধনের দুই দিন পূর্বে সরকার অজ্ঞাত কারণে লামা জেলা রূপান্তরের কার্যক্রম স্থগিত করে। পরবর্তীতে গজালিয়া ও বাইশারী থানার কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়। এতে জনমনে চাপা ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টিসহ সচেতন জনগন প্রতিবাদ মুখর হলে তৎকালীন এরশাদ সরকার লামাকে জেলা ও থানা সমূহ পূনর্বহালের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু অদ্যাবদি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।


গণআবেদনে সাবেক লামা মহকুমা সদরকে প্রশাসনিক জেলায় উন্নীত করণ ও সৃজনের বেশ যুক্তি তুলে ধরেন আবেদনকারীরা। যুক্তিসমূহ হচ্ছে- বান্দরবান জেলা সদর থেকে সাবেক লামা মহকুমা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার, আলীকদম উপজেলা দূরত্ব প্রায় ১২৩ কিলোমিটার, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। তিন উপজেলার অধিবাসীদের প্রতিদিন কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা অতিক্রম করে জীবনের ঝুকি নিয়ে ৩-৪টি যানবহন পরিবর্তন করে বান্দরবান সদরে গিয়ে প্রশাসনিক, ভূমি বিরোধ ও বিবিধ মামলা মোকাদ্দমা পরিচালনা করতে হয়।


অথচ আলীকদম থেকে লামা মাত্র ২৩ কিলোমিটার এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। লামার সাথে আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির সাথে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ। তাই লামাকে জেলা করলে আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ তিন উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।


এদিকে এরশাদ সরকার লামা সদরকে মহকুমায় উন্নীত করার পর ১৯৮০-১৯৮১ সালে লামা মহকুমা প্রশাসন, লামা মহকুমা পুলিশ সুপার, কৃষি বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগসহ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগের মহকুমা দফতর, মহকুমা আনসার ভিডিপি দফতর, মহকুমা কারাগারসহ বিভিন্ন বিভাগীয় দফতরের জন্য প্রায় ৫ শতাধিক একর জায়গা হুকুম দখল করে স্থাপনা নির্মার্ণের পর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।


বর্তমানে ওই জায়গাগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে লামাকে জেলায় উন্নীত করা হলে দু একটি দফতর ছাড়া আর কোনো দফতর নির্মাণ, স্থান ও জায়গার কোনো সমস্যা হবে না।


আবেদনে তারা আরো উল্লেখ করেন- বর্তমানে সাবেক লামা মহকুমা তথা লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় প্রায় এক হাজার রাবার বাগানে প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন, বিপণন ও প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে প্রাকৃতিক রাবার শিল্প এলাকা বা অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা করে শিল্পকারখানা স্থাপন করা হলে দেশে রাবারের চাহিদা পূরণ, শতশত কোটি টাকার রাজস্ব আয় ও হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসন মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারবে।


এছাড়া লামায় প্রায় ২০ হাজার একর পাহাড়ী ভূমিতে প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে আম, কাঠাঁল, লেবু, আনারস, কমলা, কুল, লিচু, হলুদ, আদা, কাঁচা মরিচসহ শত শত একর জায়গায় বিভিন্ন ফলজ বাগানে ফলফলাদি উৎপাদিত হচ্ছে। এতে দেশের চাহিদা পূরণসহ হিমাগার ও প্রক্রিয়া জাতকরণের জন্য কারখানা স্থাপন করা হলে হাজার হাজার লোকের বেকারত্ব দূর হবে।


তাছাড়া লামা মহকুমা এলাকায় দেশের প্রায় অর্ধেক তামাকজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে। ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি পেলে তামাক শিল্প এলাকা গড়ে উঠবে এবং এতেও হাজার হাজার লোকের বেকারত্ব দূর হবে।


লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিব মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, লামা মহকুমায় প্রাপ্ত খনিজ সম্পদ তেল, গ্যাস, পাথরী কয়লার খনি উত্তোলন, খনন ও বিপণনে জেলা প্রশাসন ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। লামাকে জেলায় রূপান্তর করা হলে অত্র অঞ্চলে দ্রুত পর্যটন শিল্প বিকাশ, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ হবে।


তিনি বলেন, পাশাপাশি দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার উন্নয়ন, জননিরাপত্তা উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল পাহাড়ী দরিদ্র জনগন ভোগ করতে পারবে। এছাড়া দূর্গম এলাকার বসবাসকারী জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি, গুম, অপহরণসহ সংগঠিত অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী যথাযথ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। মোট কথা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে লামাকে পুনরায় জেলা ঘোষণ করা হলে পাহাড়ী ও বাঙ্গালীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষার উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।


বিবার্তা/নুরুল/জাকিয়া


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com