খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:০৪
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস-পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ভূমি বেদখল, অপসংস্কৃতির বিস্তার ও সাম্প্রদায়িকতা রোধে ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র-যুব-নারী কনভেনশনসহ ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ।


সোমবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের স্বনির্ভরের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কেন্দ্রীয় নেতা নতুন কুমার চাকমা।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপিডিএফ’র জেলা সংগঠক মাইকেল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুবফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নিরূপা চাকমা ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিনয়ন চাকমা প্রমুখ।


ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ৯ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির সব উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল, ১১ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি জেলা সদরে বিক্ষোভ, ১১ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি জেলা সদরে স্মরণসভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন, ১৭ জানুয়ারি রাঙামাটি ও বান্দরবানে সংহতি সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ্বলন, ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংহতি সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ্বলন এবং ২৮ জানুয়ারি পিসিপির শিক্ষামন্ত্রণালয় জারিকৃত অগণতান্ত্রিক সার্কুলার প্রত্যাহারসহ ৭দফা দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান।


সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের চার দিন পার হলেও প্রশাসন ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। মিঠুন চাকমার হত্যাকারীদের রক্ষা করতে পরিবারকে মামলা করতে না দিয়ে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে বাদি হয়ে মামলা করেছে এমন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এদেশের শাসকগোষ্ঠী পাহাড়ি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার লক্ষ্যে নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।


খাগড়াছড়ি জেলা ইউপিডিএফের নেতা মিঠুন চাকমাকে প্রশাসনের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠি বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ করে ইউপিডিএফ নেতৃবৃন্দ বলেন, হত্যাকাণ্ডের চারদিন পেরুলেও হত্যাকারীদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমা নিহত হওয়ায় ইউপিডিএফ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক’কে দায়ী করে আসছে। তবে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এ হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেছে, এটি ইউপিডিএফ’র আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হয়েছে।


এদিকে ঘটনার চার দিন পর শনিবার রাতে এসআই একেএম মিজানুর রহমান বাদি হয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমার হত্যাকাণ্ডে ৭/৮ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে।


খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, পরিবারের কেউ মামলা না করায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে পুলিশ মামলাটি করেছেন। মিঠুন চাকমার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে ৬ ও ৭ জানুয়ারি পর পর দু’দিন ইউপিডিএফ’র সড়ক অবরোধ পালনকালে খাগড়াছড়িতে ব্যাপক গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ এবং আধা সামরিক বাহিনী বিজিবি’র গাড়ি বহরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।


এদিকে ইউপিডিএফের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামে খুন, অন্যায় ধরপাকর-হয়রানি, পাড়া-গ্রামে অহেতুক তল্লাশি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, তথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধের দাবি জানান।


বিবার্তা/জয়নাল/শান্ত/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com