শৈত্যপ্রবাহ : মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের বিকিকিনি
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৪৩
শৈত্যপ্রবাহ : মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের বিকিকিনি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

এবারের শীতটা একটু দেরিতে এলেও এর প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামতেই জনপথ কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। বিশেষ করে পাহাড়ি জনপদে কামড় মেরে বসেছে শীত। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোকজন এ শীতে কাবু হয়ে পড়ছে। শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে।


এদিকে ক্রমেই জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের বিকিকিনি। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে মানুষ গরম কাপড় কিনতে এখন ব্যস্ত। বড় দোকানসহ ফুটপাতে তাই প্রচণ্ড ভিড়। নিম্ন আয়ের মানুষসহ মধ্যবিত্তরাও ফুটপাত থেকে গরম কাপড় কিনে শীত নিবারণের ব্যবস্থা করছেন। দোকানের চাইতে ফুটপাতগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায় ক্রেতাদের ভিড়।


মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গলে শীত ও কুয়াশা পড়তে শুরু করার সাথে প্রতিনিয়ত মানুষ ভিড় জমাচ্ছে শীতের গরম কাপড় কেনার জন্য শহরের বিভিন্ন দোকানে। নিম্নআয়ের মানুষেরা রাস্তার পাশে ফুটপাত ও হকার্স দোকানিদের কাছে ভিড় জমাচ্ছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় মৌসুমভিত্তিক দোকানগুলোতে শীতের কাপড় কেনা-বেচা পুরোদমে চলছে।


সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখানে ছোট বড় অসংখ্য মৌসুমী ছাড়ের দোকান রয়েছে। এছাড়া ও শহরের আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে মৌসুমভিত্তিক শীতবস্ত্র বিক্রেতারা শীতের গরম কাপড় বিক্রয় করে থাকে। বড় বড় দোকানে তো আছেই। সে গুলোতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত এই দোকান গুলোতে ক্রয়-বিক্রয় চলে। প্রতিবছর শীত মৌসুম আসলেই তাদের বিক্রয়ের অবস্থা বেশি ভালো হয়।


বিলাস ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের নাজিয়া চৌধুরী (তাসপিয়া) নামের এক ক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি বিবার্তাকে জানান -গত দু’দিন হটাৎ বৃষ্টি পড়ায় শীতটা একটু বেশি মনে হচ্ছে, তাই আজকে আম্মুকে নিয়ে কয়েকটা কাপড় কিনতে এলাম।


আহমদ ম্যানশনের ব্যবসায়ী ইমরান আহমদ বিবার্তাকে জানান -সব বয়সী মানুষের পোশাক বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে। গার্মেন্টস আইটেমের চেয়ে শীতবস্ত্র বিক্রি করে বেশি লাভ হয়। ভাগ্যের উপর নির্ভর করে আমাদের লাভ-লোকসান। যদি ভাগ্যে ছেঁড়া ফুটো পোশাক পড়ে তাহলে লাভ উঠতে অনেক কষ্ট হয়। কারণ ভাল পোশাক গুলো ক্রেতারা নিতে চায়। বাকি ছেঁড়া পোশাক ফেলে রাখতে হয়। ক্রেতারা এগুলো ভাল করে দেখে কেনেন। এসব পোশাক সাধারণত পুরনো পোশাকের মত হয়ে থাকে।


তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে এসব শীতবস্ত্র আনা হয়। একটি গাঁইট ১৫ হাজার থেকে প্রায় ৫০ হাজর টাকা দিয়ে কিনে আনা হয়। একটি সোয়াটারের দাম ১২০-৩০০, গেঞ্জি ৭০-১৫০, জ্যাকেট ২৫০-৫০০, বাচ্চাদের কাপড় ৩০-২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, মাফলার ৩০-১০০ টাকা তার মধ্যে থেকেই পছন্দের শীতের পোশাকটি বেছে নিতে চেষ্টা করেন নিম্নবিত্ত দরিদ্র মানুষেরা।



ইমরান আহমদ বলেন, এ বছর শীতের পোশাকের চাহিদা তুলনামূলক ভাবে কিছুটা বেড়েছে। দৈনিক ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। আশা করি এ বছর দোকানে শীতের পোশাকের চাহিদা বাড়বে এবং বিক্রয় আরো বেশি হবে।


বিলাম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী সোহাগ আহমদ বিবার্তাকে জানান -গত দু’দিন যাবত হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় শীতের কাপড়ের চাহিদা একটু বৃদ্ধি পেয়েছে, ক্রেতাদের জন্য আমাদের এবারের শীতের কালেকশনও ভালো। আশা করছি এবারের বিক্রি গতবারের তুলনায় ভালো হবে।


বিবার্তা/আরিফ/শান্ত/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com