মধুমতিতে কালনা সেতু বাড়াবে জীবন-যাত্রার মান
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১০:২৫
মধুমতিতে কালনা সেতু বাড়াবে জীবন-যাত্রার মান
শরিফুল ইসলাম, নড়াইল
প্রিন্ট অ-অ+

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহৎ মধুমতি নদীর ওপর নড়াইল-গোপালগঞ্জের কালনা সেতুর দরপত্র গ্রহনের শেষের দিন ছিল গত ২০ নভেম্বর। ঠিদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে দরপত্র গ্রহন চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্তু। এ গুরুত্বপূর্ণ সেতুর দরপত্র চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর আহ্বান করা হয়। এ সেতু নির্মান হলে পাল্টে যাবে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ মানুষের জীবন যাত্রার মান।


জানা যায়, ৬ লেনবিশিষ্ট কালনা সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬৯০ মিটার এবং প্রস্থ ২৮ দশমিক ৫ মিটার। এ ছাড়া নড়াইলের কালনা এবং গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া দুই অংশে ৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এজন্য ৭০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে যৌথ পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল করর্পোরেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ বৃহৎ সেতু নির্মিত হবে। আর সেতুটি নির্মান হলে পাল্টে যাবে নড়াইলের জীবন-যাত্রার মান। জেলায় তৈরী হবে শিল্প কলকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ সেতু নির্মিত হলে খুলনা বিভাগের সঙ্গে ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের যাতায়াত সহজ হবে।


ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব কমবে প্রায় ২০০ কিলোমিটার। কৃষি পরিবহন ও বিপণন সহজ হবে। চাঙ্গা হবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। এর সুফল পাবেন খুলনা বিভাগ ও আশপাশের অন্তত ২০ জেলার কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সর্বসাধারণ।


সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি একনেক সভায় ২৪৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নড়াইল-গোপালগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী মধুমতী নদীর ওপর কালনা ঘাটে চার লেনবিশিষ্ট কালনা সেতু প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় এবং ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। কিন্তু এর পৌনে তিন বছর পর জাইকার সহায়তায় নতুন নকশায় এবং বৃহৎ বাজেটে ছয় লেনবিশিষ্ট এ সেতু নির্মিত হচ্ছে।


কালনা সেতুর স্থান পরিদর্শনে একাধিকবার এসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, কালনা সেতুর মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দর-যশোর-নড়াইল-পদ্মা সেতু-ঢাকা-সিলেট-তামাবিল সড়কের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির কার্যকরী সভাপতি ছাদেক আহম্মেদ খান বলেন, কালনা সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বেনাপোলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সহজ ও উম্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে। প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল সাশ্রয় হবে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সেতুর কাজ শুরু হবে।


নড়াইল জেলা উম্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শরীফ মুনীর হোসেন বলেন, কালনা ফেরিঘাট দিয়ে খুলনা, সাতক্ষীরা, বেনাপোল, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বরিশাল, মাদারীপুর, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিম্ন সড়কে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। বেশিরভাগ সময় আধা ঘণ্টার বেশি সময় দেরিতে ফেরি এপার-ওপারে ছেড়ে যায়। এতে কৃষিপণ্য, মাছ, ফলসহ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেতুটি নির্মিত হলে এসব ভোগান্তির অবসান হবে।


জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সরদার আলমগীর হোসেন আলম ও সাধারণ সম্পাদক কাজী জহিরুল হক জহির জানান, নড়াইল থেকে ঢাকার দূরত্ব ১২৭ কিলোমিটার, বেনাপোল-ভায়া কালনা-ঢাকা ২০১ কিলোমিটার, যশোর-ঢাকা ১৬১ কিলোমিটার, খুলনা-বসুন্দিয়া-কালনা-ঢাকা ১৯০ কিলোমিটার। অথচ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে ঢাকা যেতে এ সড়কে ৩০০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। সেতুটি বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটবে।


সেতু বাস্তবায়নকারী প্রকল্প ‘ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট বাংলাদেশ’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক সুমন সিংহ জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর সেতুর দরপত্র আহবান করা হয়। গত সোমবার দরপত্র গ্রহনের শেষ দিন থাকলেও ঠিকাদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ১৮ ডিসেম্বর দরপত্র গ্রহনের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং একই দিন দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে।


তিনি আরো বলেন, সেতুটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২’শ কোটি টাকা এ ব্যয় বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/শরিফুল ইসলাম/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com