১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৪৯
১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা
যশোর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

যশোর কোতোয়ালি থানার সাত পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন হিরা খাতুন নামে এক মহিলা। অপহরণের পর টাকা দাবি এবং টাকা না পেয়ে তার ছেলেকে গুম করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার দুপুরে এ মামলা করেন তিনি।


আদালত এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। এবং আগামী ২৩ জানুয়ারি মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।


আসামিরা হলেন- যশোর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এইচএম শহিদুল ইসলাম, আমির হোসেন, হাসানুর রহমান, উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) রাজন গাজী, সেলিম মুন্সি, বিপ্লব হোসেন, সেলিম আহম্মেদ, কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, রমজান আলী, হাবিবুর রহমান, আবু বক্কার, মিজান শেখ, মাহমুদুর রহমান, রাজিবুল ইসলাম ও টোকন হোসেন।


যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা হিরা খাতুন মামলায় উল্লেখ করেন, গত ৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তার একমাত্র ছেলে সাইদ ও তার বন্ধু শাওন শহরের পৌরপার্কে বেড়াতে যায়। ওই দিন বেলা ১২টার দিকে সাব্বির হোসেন নামে এক যুবক তাকে মোবাইল ফোনে জানায় যে পুলিশ সাইদ ও শাওনকে আটক করেছে।


সাথে সাথে তিনি পৌর পার্কে যান এবং দেখতে পান যে সাইদ ও শাওনকে পুলিশ গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে। এসময় তিনি দৌড়ে গাড়ির কাছে গিয়ে পুলিশের কাছে আটকের কারণ জানতে চাইলে তারা তাকে থানায় গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে থানার সামনে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকলেও তাকে থানায় ঢুকতে দেয়া হয়নি।


সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর ৭ এপ্রিল তিনি পত্রিকা মারফত জানতে পারেন, তার ছেলে সাইদ ও শাওন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে। সাথে সাথে তিনি থানায় গিয়ে এ বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি। পরে কোর্টে গিয়ে জানতে পারেন পুলিশ কোর্টে একটা মামলা করেছে। ওই মামলায় তার ছেলে ও শাওন পালিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


এরপর তার ছেলের সন্ধানে তিনি বারবার পুলিশের কাছে গেলেও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়। এক পর্যায়ে ছেলের সন্ধান চেয়ে তিনি গত ৩০ মে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুর কোন খোঁজ মেলেনি। দুই লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও তাদের লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি।


বাদীপক্ষের আইনজীবী অজিত কুমার দাস ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আমলি আদালতের বিচারক শাহিনুর রহমান পিটিশনটি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।


এদিকে কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, সন্ত্রাসী সাঈদ ও শাওনের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য সন্ত্রাসীর মা মিথ্যা মামলা করেছে। আটকের পর ওই দুইজন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে। তাদের আটকে পুলিশ তৎপর রয়েছে।


বিবার্তা/তুহিন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com