চিরিরবন্দরে বেড়েই চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:২৬
চিরিরবন্দরে বেড়েই চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ
মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর)
প্রিন্ট অ-অ+

দিনাজপুর চিরিরবন্দরে কোনো ধরনের নিরাপত্তাসার্পোট ছাড়াই দিন দিন নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন।এছাড়া ইমারত নির্মানের চলমান আইনের তোয়াক্কা না করায় অহরহ ঘটছে প্রাণনাশের মত অনেক দুর্ঘটনা।


সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল ২০১৭চিরিরবন্দর আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের নির্মাণাধীন সপ্তম তলা থেকে সার্টারের কাঠ মাথায় পড়ে রুবায়েত জামিল প্লাবন(১৪) নামের নবম (বিজ্ঞান) শ্রেণির এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্লাবন দিনাজপুর জেলার বিরামপুর সদর উপজেলার পৌর এলাকার এমদাদুলের পুত্র।


স্থানীয়দের অভিযোগ ব্যস্ততম ঘুঘরাতলী মোড় থেকে উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের পাশে একটি ভবনের নিচতলা ভাড়া নিয়েপরিচালিত হচ্ছে এ-জেডরেসিডেন্সিয়ালমডেল স্কুল। যেখানেকোনো ধরনের নিরাপত্তাসার্পোট ছাড়ায় বহুতল ওই ভবন তুলছে মালিক ।


সরেজমিনে সেখানে গেলে দেখা মেলে ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে এ-জেড স্কুলের শত শত ছাত্র-ছাত্রী ভবনের নিচতলার আশ পাশ দিয়ে চলাচল ও খেলা করছে। এছাড়া তার পাশেই উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ যাতায়েত করছে। সেখানে যেকোন সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত বড় ধরনের দুঘর্টনা।


শুধু এ-জেড স্কুল নয় বিভিন্ন স্কুল কলেজ বাসা বাড়িতেওকোনো ধরনের নিরাপত্তাসার্পোট ছাড়া নির্মিত হচ্ছে এসব বহুতল ভবন।উপজেলা সদরে কততলা ভবন নির্মানের অনুমোদন আছে অনেকের জানা নেই। তবে ভবন মালিকরা সরকারি নীতিমালার কোন তোয়াক্কা না করে ৮ থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মান করছে।


এ বিষয়ে নির্মাধীন ভবন মালিক মোকারম হোসেন মুকুলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: গোলাম রব্বানী জানান, যে সমস্ত নির্মাধীন ভবন নিরাপত্তা সার্পোট ব্যবহার করছে না। তাদের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


ভবন নির্মাণে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদনও তাদের নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দোষী ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা। ভবন মালিকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কথা বলতে রাজি হননি তার পরিবারের সদস্যরাও।


এতে প্রতি দিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। নির্মাণাধীন এসব বহুতল ভবনের অধিকাংশই ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড না মেনেই হচ্ছে। এতে বেড়েই চলেছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা। এটি প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত ইমারত (ভবন) নির্মাণে আইন থাকলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। ১৯৫২ সালে প্রণীত আইনের আওতায় পরবর্তী সময়ে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা। এসব আইন ও বিধিমালা মেলেই ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়।


আরডিএর সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, ভবন নির্মাণকালে অথরাইজড অফিসার ও ইমারত পরিদর্শকরা নির্মাণ কাজ তদারকি করেন। ওই সময় তারা শুধু স্থাপত্য দিকটি দেখভাল করেন। উপেক্ষিত থাকে কারিগরি দিকটি। এতে নির্মাণাধীন ভবনগুলোর বিএনবিসি (গুণগতমান) ঠিক রেখে নির্মাণ করা হয় কি না, তা নজরে পড়ছে না।


অভিযোগ রয়েছেন, ভবন নির্মাতারা নকশার অনুমোদন পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট স্থপতি ও প্রকৌশলীকে বাদ দিয়ে মনমতো প্রকৌশলী অথবা অভিজ্ঞ মিস্ত্রিদের দিয়ে ভবন নির্মাণ করেন। এতে ভবনের গুণগত মান ও অনুমোদিত নকশাও ঠিক থাকে না। আবার ইচ্ছে করেই অনেকেই পাল্টে ফেলেন নকশা। এতেই বাড়ছে অনিরাপদ ভবনের সংখ্যা।


আরডিএ কর্মকর্তাদের দাবি, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বন্ধ করতে সব সময়ই আরডিএ কাজ করছে। নির্মাতারা কথা না শুনলে পুলিশের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। নোটিশ করে ডেকে শুনানি হচ্ছে।


প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেখাতে না পারলে ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশনাও থাকছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভবন ভেঙে ফেলা কিংবা উচ্ছেদের তথ্য নেই তাদের কাছে।


এ ব্যাপারে আরডিএর অথরাইজ অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, আইনি জটিলতা ও জনবল সংকটের তারা যাথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এছাড়া জনসচেতনতা বাড়লে আইন অমান্য করার প্রবণতা কমে আসবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


বিবার্তা/মানিক/ইমদাদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com