অনিয়ম ও দুর্নীতির শীর্ষে রাজনগর ভূমি অফিস
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:২৪
অনিয়ম ও দুর্নীতির শীর্ষে রাজনগর ভূমি অফিস
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার স্থানীয় সহকারী (ভূমি) কমিশনারে অফিসের দারস্থ হতে হয় ভূমি ক্রয়কৃত সম্পত্তির মালিকেরা। নিজের নামে নামজারি করতে আসলে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মের কারণে চরম হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন সাধারণ ভূমি মালিকেরা।


সরকারি নিয়মে নামজারি খারিজ মামলা ক্ষেত্রে কোর্ট ফি, নোটিশ জারি ফি, হালকরণ ফি, নামজারি খতিয়ান ফি সহ ভূমি মালিকদের একটি মামলায় ১১৭০ টাকা পরিশোধের বিধান থাকলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতি মামলায় অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা। তাদের বিরুদ্ধে এমন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জমি নামজারী থেকে শুরু করে ভূমি সংক্রান্ত কোন কাজেই টাকা ছাড়া কলম নড়েনা এখানে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীর।


জানা যায়, ভূমি নামজারি করতে আসা সাধারণ মানুষের টাকা ছাড়া যেন কথা বলার অধিকার নেই রাজনগর সহকারী ভূমি কমিশনারের অফিসে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যে টাকা পরিশোধ করার কথা তার থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে ভূমি মালিকদের। অন্যতায় এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে দৌড়ের মধ্যে হতাশায় ভুগতে হয় ভূমি মালিকদের। অবশ্য সরকারি নিয়ম উপক্ষো করে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বাধা নিয়মে মালিকরাও অভ্যস্ত।


অনুসন্ধানে জানা যায় খাস জমি, বনের জমি, একজনের জমি অন্যের নামে নামজারি করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম হয় এই ভূমি অফিসে। সেখানকার উমেদাররা সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো বেতন পান না। জমির মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ঘুষের টাকা থেকে তারা ভাগ পান। এই ভূমি অফিসে প্রতি মাসে কম করে হলেও পাঁচশত নামজারি হয়। এ কাজে ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিপ্ট বা রশিদ) বাবদ এক হাজার ১৫০ টাকা ফি আদায়ের বিধান রয়েছে। তবে নেয়া হয় পাঁচ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কেবল এ বাবদই এই অফিসের সিন্ডিকেট প্রতি মাসে হাতিয়ে নেয় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা। কম ঘুষ দিলে বেশি ঘোরাঘুরি, আর ঘুষের পরিমাণ বেশি হলে কাজ হয় তাড়াতাড়ি।


উপজেলার ভুজবল এলাকার ইব্রাহীম মিয়া জানান, রাজনগর উপজেলা সহকারী ভূমি অফিসে একটি নামজারি খারিজ মামলা করতে গেলে অফিসের স্টাফ আনোয়ার মিয়া আমার কাছে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। এর চেয়ে কম লাগবে কি না বেশি লাগবে এ প্রশ্নের উত্তরে স্টাফ উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার (রাখী আহমদ) সাথে কথা বলে জানাবেন বলে অবগত করে।


ইব্রাহীম মিয়া আরো বলেন, ‘আমার কাছে এত টাকা না থাকার কারণে আমি ফিরে আসি। এভাবে আমার মত অনেক সাধারণ মানুষ প্রতিনিহিত হয়রানি স্বীকার হয়।’


অনুসন্ধানে জানা যায়, মিস কেসের আবেদন করার পর বাদী/বিবাদীর সাথে ঘুষের দেন-দরবার করা হয়। লেনদেনের সমঝোতা না হলে জমি মালিকদের অহেতুক হয়রানি করা হয়। কাগজপত্রে ভুলত্রুটি রয়েছে এবং তা সংশোধনের কথা বলে মোটা টাকা দাবি করা হয়। অনেকেই এ অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করে উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আবার কেউ সরকারি সম্পত্তি লিজ নবায়ণ করতে আসলে জানানো হয়, ঐ সম্পত্তি অন্য কাউকে লিজ দিয়ে দেবে। তাদের চাহিদামতো টাকা না দিলে তারা ঐ সম্পত্তি অন্য কাউকে লিজ দিয়েও দেয়।


মুন্সীবাজার এলাকার সাইদুল ইসলাম বলেন, আমি নামজারি করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে আসলে প্রথমে অফিসের স্টাফরা এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে দৌড়ের মধ্যে রাখে। পরে শেষ পর্যায়ে অফিস স্টাফ কাদির মিয়া কাছে আমার আবেদন জমা দেই। কাদির মিয়া বলেন নামজারি তে সরকারি ফি বাবত পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। আমি বলি ঠিক আছে, আমাকে পাঁচ হাজার টাকার রশিদ দিতে হবে। কিন্তু কোনো রশিদ পাইনি ও আমি ৫/৬ মাস হাটা-হাটির পর কাগজ পাই।


এ ব্যাপারে উপজেলা ভূমি সহকারি কর্মকর্তা রাখী আহমদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি অফিসের স্টাফদের অনিয়মের বিষয় মুখ খুলতে নারাজ।


বিবার্তা/আরিফ/আমিরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com