পাহাড় ধসের ২ মাসেও পুনর্বাসিত হয়নি অনেকেই
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৭:০৪
পাহাড় ধসের ২ মাসেও পুনর্বাসিত হয়নি অনেকেই
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

রাঙামাটিতে সংগঠিত ভয়াবহ পাহাড় ধসের আজ দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করেন।


এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, এখনো পর্যন্ত পুনর্বাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। কাপ্তাই ও কাউখালীতে কিছু পরিবারের মাঝে টেউটিন বিতরণ করা হয়েছে এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাগ্রহণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে এখনো পর্যন্ত যারা পুনর্বাসিত হয়নি তাদের জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রাণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু করা হবে।


তিনি বলেন, গত দুই দিনের টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে ৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১ হাজার ২৭০ জন লোক অবস্থান করছে। আশ্রয় কেন্দ্রে অনেকে রয়েছেন যারা একেবারে সর্বহারা। খাবারের জন্যও এখানে ভীড় জমাবে অনেকেই। দুই মাস আশ্রয় কেন্দ্র চালানো অনেক কষ্টসাধ্য ও খরচসাপেক্ষ।


তিনি আরো বলেন, থাকা-খাওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ জড়িয়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দসহ পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা পুনর্বাসনের ব্যবস্থাগ্রহণ করবো। যারা পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাস করছে তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য পুলিশ সুপারসহ কাউন্সিলর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে বলা হয়েছে।


দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্যর দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমরা তা ঠিক করতে সক্ষম হয়েছি। বাজারের ওপর নজর রেখেছি আমরা। কোনোভাবেই দ্রব্যমূলের দাম বাড়তে দেয়া হবে না।


বাঘাইছড়ি উপজেলা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা বাঘাইছড়িতে গত দু’দিনে প্রবল বর্ষণসহ ভারতের পানি নেমে আসার কারণে বহু মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ লোককে উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।


কাপ্তাই হ্রদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাহাড় ধসের ফলে কাপ্তাই হ্রদে তলদেশের উচ্চতা বেড়ে গিয়েছে। এই কারণে পানি বাড়লেই নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা ইতিমধ্যে কাপ্তাই হ্রদের পানি ছাড়া শুরু করেছি। কিন্তু পানি ছাড়ার ক্ষেত্রে আমাদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ কাপ্তাই হ্রদের পানি বেশি ছাড়লে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বোয়ালখালীসহ বেশকিছু নিম্নাঞ্চলে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়।


এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেসিং করে নাব্যতা রক্ষা করতে হবে। নয়তো শুকনো মৌসুমে ৪-৫টি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।


‘পাহাড়কে আগের রূপে ফেরানো যাবে না’ এমন মন্তব্য করে জেলা প্রশাসক বলেন, যে ক্ষতি হয়েছে এর পরে পাহাড়গুলোকে আর আগের রূপে ফেরানো সম্ভব নয়। তবে এই পাহাড়কে রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।


যোগাযোগ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাঙামাটির শালবন ছাড়াও শহরের ভিতরে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক করার জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শিগগিরই শালবনে বেলি ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি শহরের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাও মেরামত করা হবে।


জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করেন, সরকার আমাদের সাথে রয়েছে এবং এই সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সরকার আমাদের পাশে থাকবে।


বিবার্তা/সাইফুল/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com