অপহরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন বৃদ্ধ বাবার
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:৪৩
অপহরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন বৃদ্ধ বাবার
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিখোঁজ ছেলের পিতা শ্যামনগরের তারানিপুর গ্রামের আবদুল মজিদ।


শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন বৃদ্ধ আবদুল মজিদ। নিখোঁজ কিশোরের নাম ইসরাফিল (১৫)। বাবা মজিদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান তার ছেলেকে গুম করে ভারতে অথবা অন্য কোথাও লুকিয়ে রেখেছে। এমনকি জ্বলন্ত ইটভাটায় নিক্ষেপ করে হত্যা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।


ছেলে অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন বাবা আবদুল মজিদ। এর আগে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


আবদুল মজিদ জানান, তিনি একজন বালুশ্রমিক। নদীতে ডুব দিয়ে বালু তুলে তা বিক্রি করেন শ্যামনগরের ভেটখালী এলাকায়। কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের একটি ইটভাটা আছে ঈশ্বরীপুরে। সেই ভাটায় তিনি বালু বিক্রি করেন।


লিখিত বক্তব্যে আবদুল মজিদ বলেন, ‘ওই ভাটার জন্য চেয়ারম্যান তার ম্যানেজার আবদুর রাশেদের মাধ্যমে প্রতি ফুট ১৩ টাকা হিসাবে ২৪ হাজার ফুট বালু ক্রয় করেন। ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা মূল্যের বিপরীতে মাত্র ৫৭ হাজার টাকা দেন চেয়ারম্যান। পাওনা দুই লাখ ৫৫ হাজার টাকা আদায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি আমি আমার ছেলেকে ইটভাটার ম্যানেজার রাশেদের কাছে পাঠাই।’


আবদুল মজিদ দাবি করেন, কিন্তু টাকা পরিশোধের বদলে ইসরাফিলের মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাঁকে মারপিট করে ভাটার মধ্যে আটকে রাখা হয়। ওই দিন রাত ১০টায় ছেলের খোঁজে ভাটায় গেলে জানানো হয়, ইসরাফিলকে চেয়ারম্যান নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। কিন্তু বাড়িতে গেলে চেয়ারম্যান তাকে বলেন, ‘তোর ছেলেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেয়াদবি করার সাধ মিটিয়ে দিয়েছি। তাকে আর কখনো এ দেশে পাবি না’।”


এ ঘটনায় পুলিশ মামলা না নেওয়ায় আবদুল মজিদ সাতক্ষীরা ৫ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমকে। অপর সাত আসামি হলেন আবদুর রহমান, আবদুর রাশেদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল মান্নান, আবু তাহের, রায়হান গাজী ও রফিকুল ইসলাম। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে শ্যামনগর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।


শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফিজুর রহমান জানান, মামলাটি তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল আহসান কবিরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত এ অভিযোগ মিথ্যা। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষ এ ধরণের কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ করছে।


বিবার্তা/রাজু/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com