রাজশাহীতে বাড়ির ছাদে বাহারি বাগান
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:৫৫
রাজশাহীতে বাড়ির ছাদে বাহারি বাগান
রিমন রহমান, রাজশাহী
প্রিন্ট অ-অ+

‘ডাকে পাখি খোলো আঁখি, দেখ সোনালি আকাশ- বহে ভোরেরও বাতাস।’ গানের কথার মতো এতো সুন্দর সকালের আয়োজন নগর জীবনে কল্পনামাত্র। তবে রাজশাহী মহানগরীর ঘোড়ামারা এলাকার মনোয়ারুল ইসলাম বকুল রচনা করেছেন এক নান্দনিক দৃশ্যপট।


চার তলার বাসার ছাদে তিনি বড় বাগান করেছেন। সেখানে গাছে গাছে পাখি বসে। কবুতর বসে। ভোরের মৃদু হাওয়া বয়। ভোরের আলো ফুটলে তিনি বাগানে চলে যান। পাখির ডাক শোনেন, বিকেলে কবুতরের পায়চারি দেখেন, ফলের গন্ধ নেন। মৃদু ভোরের হওয়ায় গাছের পরিচর্যা করেন। এভাবে প্রতিটি সকাল শুরু হয়। আবার বিকেলে মন খারাপ থাকলেও বাগানে গিয়ে বসেন। মন ভালো হয়ে যায়।


মনোয়ারুল ইসলাম বকুল রাজশাহীর একজন খ্যাতনামা সংস্কৃতিকর্মী। রাজশাহী থিয়েটারের সাবেক সভাপতি তিনি। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গম্ভিরায় নানা চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তার দলের নাম ‘মাথল রাজশাহী’। তাকে সবাই ‘বকুল নানা’ নামেই চেনেন। রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার সামনের চারতলা বাড়িটিই তার।


ছাদে গাছের কারণে বাড়িটি সবাই চেনে। বাগানে রয়েছে হরেক রকম ফলের গাছ। তিনি অধিকাংশ ফল প্রতিবেশীর মধ্যে বিতরণ করেন। ২০০৬ সালের দিকে তিনি এ বাগান করেন। সংস্কৃতিকর্মী বকুল বেশিরভাগ দিন তার গম্ভিরা দল নিয়ে দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়ান। তবে অবসর পেলেই বাগানের পরিচর্যায় বসেন।


শনিবার দুপুরে তার শখের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে টবে পাঁচ মিশালি মসলা, চাইনিজ কমলা, সফেদা, আমলকী, জামরুল, পেয়ারা, আতা, লেবু, চাইনিজ ধনে, তুলসি, পুদিনা, টমেটো, পালং, বনসাই আর গোলাপ ফুলের সমারোহ। ছাদের একাংশে রয়েছে কবুতর থাকার ঘর। সেখানে আছে ৫০টি কবুতর। কোনো রাসায়নিক সার নয়, বাগানে কবুতরের বিষ্ঠার জৈব সারই ব্যবহার করা হয়।



মনোয়ারুল ইসলাম বকুল বলেন, আনন্দের জন্য তিনি এ বাগান করেছেন। বিকেলে সব কবুতরগুলো যখন গাছের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়ায়, তখন মন খারাপ থাকলেও ভালো হয়ে যায়। ছোট ছোট এসব গাছে বাবুই, দোয়েল, টুনটুনিরাও এসে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায়। তারপর উড়ে চলে যায়। এসব দেখতে খুব ভালো লাগে তার।


দুটি ছোট ছোট গাছে ঝুলে থাকা অজস্র চাইনিজ কমলা দেখিয়ে বকুল বলেন, বিভিন্ন নার্সারিতে ঘুরে এসব গাছ সংগ্রহ করেছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অন্যরাও বাড়ির ছাদে বাগান করছেন। কমলাটা একটু টক, কিন্তু ছাদে এতো সুন্দর কমলা ধরেছে-এটিই তার কাছে বড় কথা। স্বাদ নিয়ে কিছু আসে যায় না তার। তবে ছাদের অন্য ফলগুলো খুব সুস্বাদু। রমজান মাসে কেজির কেজি পেয়ারা নামে গাছ থেকে। নিজে ইফতার করেন, প্রতিবেশীদেরও দেন। মানসিক প্রশান্তি পান।


বকুল বলেন, ‘বাজার থেকে ফল কেনার পর মনের ভেতর সন্দেহ থেকেই যায়- এটি রাসায়নিকমুক্ত কী না! কিন্তু বাগান থেকে ঠিকই রাসায়নিকমুক্ত ফল খাই। নিজের হাতে ফল ফলানোর মজাই আলাদা! নিজের কোনো জমি নেই। তাই বলে কী বাগান হবে না? মাথার ওপরে ঠিকই বাগান করেছি।’


বিবার্তা/রিমন/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com