রংপুর সিটিতে যত্রতত্র বর্জ্য, ভোগান্তি
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩৫
রংপুর সিটিতে যত্রতত্র বর্জ্য, ভোগান্তি
রংপুর ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+

রংপুর মহানগরীতে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা আর অসংখ্য খোলা ডাস্টবিন। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার অভাবে যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলে রাখা, সঠিক সময়ে অপসারণ না করার কারণে বর্জ্য নিয়ে চরম দুরাবস্থা সহ ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে নগরবাসী।


সরেজমিনে নগরীর গুপ্তপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, শাপলা চত্বর, গ্র্যান্ড হোটেল মোড়, সেন্ট্রাল রোড, শালবন, কামাল কাছনাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গৃহস্থালীর ময়লা আবর্জনা এনে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন্ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকনের সামনে এবং প্রধান সড়কের উপরে রাখা সিটি কর্পোরেশনের অসংখ্য খোলা ডাস্টবিনে। এসব বর্জ্যের পচা দুর্গন্ধে অজান্তে মানুষের হাত চলে যায় নিজের নাকে। এলাকাবাসীসহ পথচারীরা নাক ঢেকে চলাচল করছে।


বিভিন্ন জায়গায় গৃহস্থালীর এবং মেডিকেলের বর্জ্যে প্রধান সড়কের খোলা জায়গায় রাখা হচ্ছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।রাস্তার খোলা ডাস্টবিনের পাশে কুকুর মেরে ফেলে রাখা হয়েছে। এর পাশ দিয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী এবং পথচারীদের নাক ডেকে প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হচ্ছে। এসব বর্জ্যের কারণে যেমন মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তেমনি পরিবেশ দুষিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে।


গৃহস্থালীর বর্জ্যে গুলো দেখা যায় গরু, ছাগল, ভেরা, কুকুরসহ বিভন্ন পশুপাখি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। বৃষ্টি হলে এই বর্জ্যে গুলো এমন ভাবে ছড়িয়ে যায় তখন রাস্তায় চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে।


তাছাড়া ফুটপাতের দোকান গুলো ঝাড়ু দিয়ে ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে রাখে। মাঝে মাঝে ময়লা যখন গাড়িতে করে নিয়ে যায় তখন উপরে পর্দা দেয়া হলেও কোনো সময় খোলা থাকে। ফলে বাতাসে উড়ে ময়লা বিভিন্ন্ সময় পথচারীদের শরীরে পড়ে।


সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের শিক্ষার্থী তুলি বলেন, আমাদের প্রতিনিয়ত চলাচলের রাস্তা একটা। এই রাস্তা দিয়ে আসা এবং যাওয়ার সময় আমাদের ময়লার পচা দুর্গন্ধের কারণে নাক ডেকে যেতে হয়। অনেক সময় বর্জ্যের দুর্গন্ধে বমি চলে আসে।


বর্জ্য অপসারণের কথা জানতে চাইলে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা এর জন্য দায়ী না। সচেতনতা এর জন্য দায়ী। আমরা যদি ব্যবহার না জানি তাহলে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না। এভাবে সম্ভব না বলে বাড়ি বাড়ি একটি করে ময়লা ঝুড়ি দেয়া হয়েছে। দেখা যায় কিছুদিন পর সেগুলো চুরি হয়ে যায়। কারণ রাস্তা পরিস্কার করা হয় সকাল ১০টায়। এর পর যদি আবার বাড়ি ঘর এবং দোকান ঝাড়ু দিয়ে রাস্তায় ফেলা হয় তাহলে রাস্তা পরিস্কার করে লাভ হলো কী। কারণ সিডিউল অনুযায়ী আমরা কাজ করি। এই লেভেল গুলো মানুষের উন্নতি করতে হবে। এ পর্যন্ত তিনবার ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এ ব্যাপারে। মানুষ এখন আইন মেনে চলে না। মেডিকেলের বর্জ্য আর সাধারণ বর্জ্যে এক নয়। মেডিকেলের বর্জ্যে যেমন বিভিন্ন্ সুই , রক্ত, ব্লেড,পুজ ইত্যাদি যা স্বাস্থ্যর জন্য বেশি ক্ষতিকর। তাই মেডিকেলের বর্জ্যে অপসারণের জন্য প্রিজম বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও গত ১ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ময়লা অপসারণের জন্য ২৪টি ট্রাক এবং ৭০টি ভ্যান গাড়িকে ৩টি জোনে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। ৩ হাজার ডাস্টবিন দেয়া হয়েছে দেখা যায় অর্ধেকেই থাকে না। ৩ হাজার ডাস্টবিন দিয়ে হচ্ছে না এখন আমাদের দরকার আরো ১ লাখ ডাস্টবিন। জনগণের সচেতনতা না থাকলে একার পক্ষে বর্জ্য অপসারল করা সম্ভব না বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/সোহেল/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com