মেরামত হচ্ছে ওজোন স্তর
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:০০
মেরামত হচ্ছে ওজোন স্তর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

মেরামত হচ্ছে পৃথিবীর প্রতিরক্ষার ঢাল ওজোন স্তর। ১৯৮০ সালে প্রথম দেখা যায় ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ওজন স্তর আমাদের পৃথিবীকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। এখন দেখা যাচ্ছে এটি সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে।


উত্তর গোলার্ধের অংশটি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হবে ২০৩০ সাল নাগাদ আর এন্টার্কটিকা অংশে সময় লেগে যাবে ২০৬০ পর্যন্ত।


জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটি আসলে সেই উদাহরণ যা থেকে প্রমাণ করা যায় যে বিশ্বব্যাপী এই সংক্রান্ত চুক্তিগুলো কী অর্জন করতে পেরেছে।


ওজোন স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মূলত মানুষ সৃষ্টি রাসায়নিক ক্লোরোফ্লোরো-কার্বনের কারণে, যার সংক্ষিপ্ত নাম সিএফসি।


পৃথিবীর মাটি থেকে ছয় মাইল ঊর্ধ্বে এই ওজোন স্তরের অবস্থান। অক্সিজেন অণুর এক বিশেষ রঙহীন রূপ এই ওজোন। মূলত এটি পৃথিবীকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। এই অতিবেগুনি রশ্মির কারণে হতে পারে ত্বকের ক্যান্সার, চোখের সমস্যা বা ফসলের ক্ষতি।


ক্লোরোফ্লোরো-কার্বন গ্যাস বা সিএফসি যেন অনেকটা ওজোন স্তরকে খেয়ে ফেলতে থাকে। এই সিএফসি থাকে বিভিন্ন ধরনের স্প্রে ক্যানে, ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনারে। ফলস্বরূপ ১৯৮৫ সালে দেখা যায় দক্ষিণ গোলার্ধের ওজোন স্তরে বড়সড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে।


১৯৯০ এর দশকের শেষ দিকে এটি ছিল সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়। উপরের ওজোন স্তরের অনন্ত ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। তবে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সাল থেকে প্রতি দশকে ৩% হারে এটি বৃদ্ধি পাচ্ছে।


সিএফসি-র মতো রাসায়নিক উৎপাদন কমাতে সম্মত হয়ে বিশ্বের ১৮০টি দেশ একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি করে, যা 'মন্ট্রিল প্রোটোকল' নামে পরিচিত।


যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর বায়ার্ন টুন বলেছেন, এখনো পুরোপুরি সাফল্য আসেনি। আমরা নির্দিষ্ট কিছু অংশ খুঁজে পেয়েছি যেখানে এই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে শুরু হয়েছে। এখনো কিছু অংশ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেনি।


কিছু ক্লোরিন-যুক্ত রাসায়নিকের নির্গমন বৃদ্ধি এই ওজোন স্তরের নিরাময়কে হ্রাস করতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। বিশেষ করে চীনে এগুলোর উৎপাদন হয় আর মূলত রং বা পিভিসি তৈরিতে এর ব্যবহার, আর এগুলোর নিয়ন্ত্রণও বলতে গেলে নেই।


এরপরও ওজোন স্তরের পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকে বড় ব্যাপার বলে মনে করছে অনেক বিশেষজ্ঞ। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের প্রধান ধরিত্রী বিজ্ঞানী এবং এ সংক্রান্ত রিপোর্টটির সহ-সভাপতি পল নিউ-ম্যান বলেন যে, এটি আসলেই ভালো খবর।


তিনি বলেন, যদি ওজোন হ্রাসকারী পদার্থগুলোর উৎপাদন অব্যাহত থাকতো, তবে তার বিপুল প্রভাব দেখা যেত প্রকৃতিতে। তাই সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com