২৩ হাজার ময়নাতদন্ত করেছেন যিনি
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৮
২৩ হাজার ময়নাতদন্ত করেছেন যিনি
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত কিছু দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ডা. রিচার্ড শেফার্ড। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি এ কাজ করছেন।


৯/১১’এটুইন টাওয়ারে হামলায় নিহতদের থেকে শুরু করে ২০০৫ সালে লন্ডন হামলার শিকাররা, ১৯৯৩ সালে খুন হওয়া সাড়া জাগানো স্টিফেন লরেন্স থেকে শুরু করে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনিই।


ডা. শেফার্ডের অনুমান, তার ক্যারিয়ারে ২৩ হাজারেরও বোশ পোস্টমর্টেম করেছেন তিনি।


তবে দীর্ঘদিন যাবত এই কাজ করার ফলে দেখা দিয়েছে নানা ধরণের মানসিক জটিলতা। ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট পেশা তার মানসিক স্বাস্থ্যকে কতটা প্রভাবিত করেছে তা প্রকাশ করতে বিবিসির ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার অনুষ্ঠানকে শেফার্ড বলেন, এক জায়গায় ২০০টি টুকরো টুকরো, ক্ষতবিক্ষত প্রাণহীন দেহ আপনার মনে একটি ছাপ রেখে যায়।


তিনি বলেন, মৃত্যুর সাথে আমি খুবই পরিচিত, গত ৩৫ বছর ধরেই মৃত্যুর সাথে আমার পরিচয়। কিন্তু এর মধ্যে এমন একটা সময় আসে যখন এটিকে দৈনন্দিন জীবন থেকে আলাদা করা সম্ভব হয় না।


দীর্ঘদিন এই পেশায় থাকার কারণে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগতে হয়েছে তাকে। তার বয়স যখন ষাটের কোঠায়, তখন তিনি এই সমস্যা শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পানীয়ের গ্লাসে বরফের উপস্থিতি তাকে তার মানসিক সমস্যা শনাক্ত করতে সহায়তা করে।


২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বোমা হামলায় নিহতদের ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ড. শেফার্ড। সে সময় বরফ না থাকায় মৃতদেহগুলো শীতল রাখা সম্ভব হয়নি। তখন থেকে মানসিক সমস্যার সূত্রপাত হলেও ড. শেফার্ড মনে করেন এর গোড়াপত্তন হয় আরো বছর দশেক আগেই।


১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের হাঙ্গারফোর্ডে বন্দুকধারী মাইকেল রায়ান নিজেকে হত্যা করার আগে ১৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। ড. শেফার্ডের প্রথম বড় কেস ছিল সেটি।


তিনি বলেন, ওই ঘটনাটি খুবই উদ্ভট ও অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি তৈরি করেছিল আমার ভেতরে। যা পরবর্তীতে ক্রমশ বিস্তার লাভ করে।


তার নতুন বইয়ে ডা. শেফার্ড লিখেছেন যে একসময় চোখ বন্ধ করতেও অস্বস্তি বোধ করতেন তিনি, কারণ তার মনে হতো চোখ বন্ধ করলে রক্তাক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার চিন্তাকে গ্রাস করবে।


তিনি বলেন, পরিপাকতন্ত্র, স্যাঁতস্যাঁতে যকৃত, স্পন্দনহীন হৃদয়, ছিন্ন হাত, দম আটকানো রক্তের গন্ধ প্রতিনিয়ত আমার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দিতো। মাঝেমধ্যে আমার মনে হতো এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মনে হয় মৃত্যুই ভালো। সূত্র: বিবিসি


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com