৩ দিন পর কবর থেকে ফিরলেন জিন্দা শাহ
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:০৯
৩ দিন পর কবর থেকে ফিরলেন জিন্দা শাহ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে তিনদিন কবর থেকে জীবিত এবং অক্ষত অবস্থায় উঠে এলেন জিন্দা শাহ ওরফে জিতু মিয়া। এই ব্যক্তির অদ্ভুত কর্মকাণ্ড নতুন নয়, এর আগেও একাধিক বার এরকম ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।


এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। গত শনিবার রাতে কবরবাসে যান জিন্দা শাহ। এমন কর্মকাণ্ডকে ‘ভন্ড পীর বলেও মন্তব্য করছেন অনেকেই।


জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌর এলাকার তিমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা জিতু মিয়া। বয়স ৭০ বছরের বেশি হবে। জিতু মিয়া নিজেকে জিন্দা শাহ দাবি করেন। এমনকি এলাকার তিনি জিন্দা বাবা নামে পরিচিত। গত শনিবার রাত ৩ টার সময় জিন্দা শাহ নিজের ঘরের ভেতরে একটি কবর খনন করে ‘তিনদিনের চিল্লায় যাচ্ছি’ বলে জানান।


তারপর তিন দিন তিন রাত শেষে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে অক্ষত অবস্থায় উঠে আসেন জিন্দা শাহ। এসময় জিন্দা শাহের বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড় ছিল লক্ষণীয়।


কবর থেকে উঠে এসে জিন্দা শাহ প্রতিবেদকে জানান, ৩দিন ৩রাত শেষে আজ উঠে এসেছি। প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘আমার সঙ্গে প্রতিবারের মতো এবারও ৩০০ গ্রাম আঙ্গুর ছিল, কবর চিল্লা এখানেই শেষ। কিছুদিনের ভেতর ওরস করবো এবং যদি কেউ স্থান দেয় তাহলে অগ্নি চিল্লা ও পানি চিল্লা করবো।’


এছাড়া জানা গেছে, এই ব্যক্তির কবরে যাওয়া এবারই প্রথম নয়! এর আগেও তিনি একাধিকবার কবরে অবস্থান করেছেন। এমনিক পানিতে ভেসেও রাত কাটিয়েছেন।


জিন্দা শাহ এর আগেও ১১ বার কবরে চিল্লা দিয়েছেন বলে জানা গেছে । সংসার জীবনে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। কিন্তু সংসারে তিনি থাকেন না। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন।


জিন্দা শাহের কবর চিল্লায় যাওয়ার ঘটনায় শিরিক আখ্যায়িত নবীগঞ্জ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব হাক্কানী জানান, ‘বর্তমানে আমাদের সমাজে কিছু লোক আছে নানা কু-সংস্কার জড়িত। দ্রুত ভন্ডপীরের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যতায় নবীগঞ্জের প্রতিবাদে আন্দোলনের দূর্গ গড়ে তোলা হবে।


উল্লেখ্য, জিন্দা শাহ ওরফে জিতু মিয়া গত ৪৫ বছর ধরে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন মাজারে মাজারে ‘সাধনা’ করেছেন। তিনি হবিগঞ্জ শহরতলীর মরহুম আধ্যাত্মিক সাধক দেওয়ান মাহবুব রাজার ভক্ত। স্বপ্নের মাধ্যমে মাহবুব রাজার কাছ থেকে ‘চিল্লা’য় যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন তিনি। জিতু মিয়ার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলায়। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে নবীগঞ্জ উপজেলার তিমিরপুর গ্রামে বাস করছেন তিনি।



বিবার্তা/ছনি/আমিরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com