আফগানদের উড়িয়ে পয়েন্টের শীর্ষে ইংল্যান্ড
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯, ১০:২৭
আফগানদের উড়িয়ে পয়েন্টের শীর্ষে ইংল্যান্ড
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বিশ্বকাপে চতুর্থ জয় পেল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৯৭ রানের পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ড। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান তুলতে সক্ষম হয় আফগানিস্তান। আর ইংল্যান্ডের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ১৫০ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ইংলিশরা।


ইংল্যান্ডের পক্ষে দলের জয়ে ৭১ বলে ১৪৮ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেন অধিনায়ক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইয়ন মরগান। এছাড়া ৯৯ বলে ৯০ রান করেন জনি বেয়ারস্টো। ৮২ বলে ৮৮ রান করেন জো রুট।


এদিকে, ম্যানচেস্টারে ম্যাচজুড়েই ইংল্যান্ডের সামনে আফগানিস্তান ছিল অসহায়। ইংল্যান্ড তিন কম চার’শ রান করার পরই ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে গিয়েছিল। আফগানিস্তান কত রানে হারে, সেটাই ছিল দেখার।


ইংল্যান্ডের এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে আট পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সমান আট পয়েন্ট থাকলেও রান রেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে উঠল স্বাগতিক ইংল্যান্ড।


আগেই তিন ম্যাচে জয় পাওয়া ইংল্যান্ড আগে ব্যাট করে ছয় উইকেটে ৩৯৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। এবারের আসরে এটাই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের রের্কড। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া অধিনায়ক মরগানের বিশ্বরেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে ভর করেই ৩৯৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে দলটি।


তবে সবাই ম্যাচটা মনে রাখবে মরগানের কারণেই। ম্যাচে ১৭টি ছক্কা হাকিয়ে ওয়ানডেতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছয় মারার রেকর্ড গড়েন অধিনায়ক মরগান। তার মাত্র ৭১ বলে ১৪৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংসই ইংল্যান্ডকে এনে দেয় বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৯৭ রান, ৬ উইকেটে। জনি বেয়ারস্টোর ৯০ ও জো রুটের ৮৮ রানের দুটি ইনিংসের অবদানও তাতে কম ছিল না।


ফলে জয়ের জন্য আফিগানিস্তানের সামনে টার্গেট ছিল ৩৯৮ রান। ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করলে ইংল্যান্ড জয় পায় ১৫০ রানে। আর এই রেকর্ড গড়া ম্যাচ জিতেই পয়েন্টের শীর্ষে উঠল দলটি। পক্ষান্তরে এই ম্যাচে হেরে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় শুন্য থাকল আফগানিস্তান।


এবারের আসরে এটাই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান ছিল ৩৮৬। এরপর সেটা টপকিয়ে ৩৯৭ রানের নতুন রের্কড গড়ল ইংল্যান্ড।


ওয়ানডে ক্রিকেটে অবশ্য এক ইনিংসে ১৬ ছক্কার কৃতিত্ব আছেন তিনজনের। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করা ইনিংসে রোহিত শর্মা ১৬ টি ছক্কা হাঁকান। বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৬ ছক্কা আছে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলেরও। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬ ছক্কা হাঁকান সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্রিস গেইলও ১৬ ছক্কা হাঁকান। এই ম্যাচে ওয়ানডে ইতিহাসে রেকর্ড ২৫টি ছক্কা মারার রেকর্ড গড়ল ইংলিশরা। আর পঞ্চম ম্যাচে চতুর্থবার তিনশ ছাড়ানো স্কোরও করেছে ইংলিশরা।


ওল্ড ট্যাফোর্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল সাবধানী। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা জেমস ভিন্স উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি (৩১ বলে ২৬)। প্রথম পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে তাকে ফিরিয়ে ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন দৌলত জাদরান।


আরেক ওপেনার বেয়ারস্টো দ্বিতীয় উইকেটে রুটের সঙ্গে শতরানের জুটিতে এগিয়ে নিয়েছেন দলকে। ৬১ বলে ফিফটি করা বেয়ারস্টো এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরি দিকেই। তবে সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে থাকতে গুলবাদিন নাইব দারুণ এক ফিরতি ক্যাচে ফেরান বেয়ারস্টোকে (৯৯ বলে ৯০)। ভাঙে ১২০ রানের জুটি।


বেয়ারস্টোর বিদায়ের পর ৩০তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমেই ঝড় তোলেন মরগান। তার ঝড়টা থেমে যেতে পারত অবশ্য ২৮ রানেই, যদি রশিদের বলে দৌলত ক্যাচটা হাতে জমাতে পারতেন। ক্যাচ ফেলার চড়া মূল্য দিতে হয় আফগানদের। জীবন পাওয়ার পরের বলেই ছক্কা হাঁকান ইংলিশ অধিনায়ক।


মরগানের ছক্কা-বৃষ্টি এরপর শুধু বেড়েই চলেছে। অন্য প্রান্তে অনেকটা দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে রুটকে। মোহাম্মদ নবীকে ছক্কায় উড়িয়ে মরগান ফিফটি স্পর্শ করেন ৩৬ বলে। পরের পঞ্চাশ করতে লেগেছে মাত্র ২১ বল। রশিদকে এক ওভারে তিন ছক্কা হাঁকানোর পথে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৫৭ বলে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ দ্রুততম, ইংলিশ ব্যাটসম্যানের দ্রুততম।


সেঞ্চুরির পরও থামেনি মরগানের ঝড়। ১১ ছক্কায় সেঞ্চুরি স্পর্শ করার পর বল সীমানার ওপরে আছড়ে ফেলেন আরো ছয়বার। রশিদের এক ওভারে তিন ছক্কা হাঁকান আরো একবার। সব মিলিয়ে রশিদকে মেরেছেন ৭ ছক্কা!


তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পথে এগোচ্ছিলেন রুটও। তবে ৮৮ রানে তাকে ফেরান নাইব। একই ওভারে আফগান অধিনায়ক থামান মরগানের ঝড়ও। শেষ দিকে জস বাটলার, বেন স্টোকস দ্রুত ফিরলেও মঈন আলীর ৯ বলে ৪ ছক্কা ও এক চারে ৩১ রানের ক্যামিওতে বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়ে ইংল্যান্ড। পেছনে পড়ে কিছুদিন আগে কার্ডিফে বাংলাদেশের বিপক্ষে করা ৩৮৬ রান।


রশিদ ৯ ওভারে খরচ করেন ১১০ রান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। ওয়ানডে ইতিহাসেই রশিদের চেয়ে বেশি রান দেওয়ার ঘটনা আছে মাত্র একটি। দৌলত ও নাইব নেন ৩টি করে উইকেট, তবে ১০ ওভারে দৌলত দেন ৮৫ রান, নাইব ৬৮। মুজিবই যা একটু নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন, ১০ ওভারে দেন ৪৪ রান।


পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় আফগানিস্তান ১০৪ রানের মধ্যেই হারায় প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে। নূর আলী জাদরান মারেন ডাক, নাইব ৩৭ ও রহমত শাহ করেন ৪৬।


চতুর্থ উইকেট জুটিতে সেরা সময়টা কাটায় আফগানরা। হাশমতউল্লাহ শাহিদি ও আসগর আফগান গড়েন ৯৪ রানের বড় জুটি। ২৮ রানে বেয়ারস্টোর হাতে জীবন পাওয়া আসগর করেন ৪৬ রান। তাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার আদিল রশিদ।


সর্বোচ্চ ৭৬ রান করা হাশমতউল্লাহ বোল্ড হন আর্চারের বলে। আফগানদের ঠিক প্রাপ্তি না হলেও স্বস্তি যে, অন্তত অলআউট হয়নি। উইকেট পড়েছিল ৮টি। আর্চার ৫২ রানে ও রশিদ ৬৬ রানে নেন ৩টি করে উইকেট। ৪০ রানে ২ উইকেট নেন মার্ক উড।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:


ইংল্যান্ড: ৩৯৭/৬, ৫০ ওভারে


আফগানিস্তান: ২৪৭/৮, ৫০ ওভারে


ফল : ইংল্যান্ড ১৫০ রানে জয়ী


বিবার্তা/তাওহীদ/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com