ঢাবিতে ডেঙ্গু আতঙ্ক, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৯, ০৮:৪২
ঢাবিতে ডেঙ্গু আতঙ্ক, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা একশর উপরে। এ সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।


বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিকের উপরে শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সময় যতই যাচ্ছে ততই এ সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান তারা।


জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১১ জন, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ১২ জন, কবি জসীম উদদীন হলে চারজন , ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ১৪, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১৩ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে নয়জন, সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে পাঁচজন, অমর একুশে হলে একজন, জগন্নাথ হলে পাঁচজন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে আটজন, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে পাঁচজন, স্যার এ এফ রহমান হলে একজন এবং বিজয় ৭১ হলে ১৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।


অন্যদিকে ছাত্রীদের ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে একজন, শামসুন নাহার হলে দুজন এবং সুফিয়া কামাল হলে নয়জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ।


এর আগে শুক্রবার (২৬ জুলাই) রাতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবির স্বাধীন। ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের ২০তম ব্যাচের মাস্টার্সের ওই ছাত্রের গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। থাকতেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে।


এর পাঁচ দিন আগে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সায়েম হাসান টিটু নামে এক কর্মচারী। কার্জন হল-সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকতেন তিনি।



এদিকে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মাহফুজুর রহমান মারুফ বিবার্তাকে বলেন, খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। ভার্সিটির এক ভাই মারা যাওয়ায় বাড়িতেও ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গেছে। এখন বাড়ি থেকে আমাকে চলে যেতে বলা হচ্ছে। এদিকে আমার ক্লাসও চলছে। কী করব, বুঝতেছি না!


আবদুর রহমান নামে বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বিবার্তাকে বলেন, অবস্থাটা এমন হয়েছে যে, শরীর একটু গরম হলে কিংবা সামান্য ব্যথা হলে মনে হয় এই বুঝি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলাম। বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ব্যাপারে অতিদ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় বাড়ি যাওয়া ছাড়া আর কোনো গতি নেই। বাড়ির সবাই আমাকে নিয়ে চাপে আছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় তৎপর হতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। নানা উদ্যোগ নিতেও দেখা যায় তাদের। একযোগে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন প্রতিদিনই মশার ওষুধ দেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে রবিবার (২৮ জুলাই) সকালে রক্তের প্লাটিলেট গণনার যন্ত্র বসানো হয়েছে। এছাড়া কাউন্টার সেল গঠন করা হয়েছে।


তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের রক্তের প্লাটিলেট গণনার যন্ত্রটি প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের চাপের কারণে হ্যাং হয়ে গেছে বলে জানা যায়। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।


নিশাদুর রহমান নামে ঢাবির এক শিক্ষার্থী বিবার্তাকে অভিযোগ করে বলেন, এমন জিনিস আমাদের জন্য কিনল, যা প্রথম দিনে হ্যাং। এটা মেনে নেয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়কে এসব জিনিয়াস ব্যাপারে আরো সতর্ক হওয়া উচিত।



এ ব্যাপারে চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান বলেন, শিক্ষার্থীদের চাপে এমনটি হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নয়- এমন শিক্ষার্থীরাও এসে তাদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা করিয়েছেন। ফলে বাড়তি চাপ পড়েছে। টেকনিশিয়ানরা যন্ত্রটি ঠিক করার চেষ্টা করছেন।


বিভিন্ন হল সংসদের নেতারাও ডেঙ্গু ইস্যুতে হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাদের সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চলছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগও ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগ জানিয়ে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রোগী ও রক্তদাতাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে তারা বাইক সার্ভিস দেয়ার কথা জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা ১৬ জন বাইকারের নাম, ফোন নম্বর প্রেস রিলিজ আকারে প্রকাশ করেছে।


এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের) ছয় শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় ওই ব্যাচের মিড টার্ম পরীক্ষা স্থগিত করা হয় রবিবার। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাইমা হক স্বাক্ষরিত এক নোটিসে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়।


এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. নাইমা হক বিবার্তাকে বলেন, ‘আজকে (২৮ জুলাই) আমাদের একটি ব্যাচের ইন কোর্স (টার্ম) পরীক্ষা ছিল। কিন্তু ওই ব্যাচের ছয়জন শিক্ষার্থী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় আমরা পরীক্ষা আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছি।



ডেঙ্গুর বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বিবার্তাকে বলেন, আমরা হল প্রশাসনগুলোকে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলেছি। মশা নিধনে পুরো ক্যাম্পাসে ওষুধ ছিটানোসহ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আক্রান্ত হলে শিক্ষার্থীরা যেন তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের অবহিত করে।


ডেঙ্গুর বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিবার্তাকে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে প্রতিটি হল প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।



বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com