সদরঘাটে লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল
প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৯, ১৫:১৫
সদরঘাটে লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল
আকরাম হোসেন
প্রিন্ট অ-অ+

দেশের নদীবন্দরগুলোর মধ্যে রাজধানীর সদরঘাট অন্যতম ব্যস্ততম একটি বন্দর। এ বন্দরটি যেমন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাথে ঢাকার সংযোগ স্থাপন করেছে তেমনি বুড়ীগঙ্গার দুই পাশে অর্থাৎ কেরানীগঞ্জে সাথে পুরনো ঢাকার যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।


লঞ্চ ঘাটের দুই পাশে রয়েছে নদী পারাপারের জন্য ডিঙি নৌকা ঘাট। লঞ্চ ঘাট আর নৌকা ঘাট পাশাপাশি হওয়ায় মাঝে মাঝে লঞ্চের ধাক্কায় ডিঙি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ঘটে প্রাণহানির ঘটনাও।


গত ১০ মাসের ব্যবধানে এ রকম ছয়টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সব দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১১ জনের। সদরঘাট নৌ-ট্রাফিক পুলিশ সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


সূত্র মতে, গত বছর ১৩ জুন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পাঁচ যাত্রীসহ একটি নৌকা লঞ্চের ধাক্কা ডুবে যায়। এতে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও মাজেদুল হক (২৪) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।


এ ঘটনার মাত্র ২৩ দিন পর আবারো দুর্ঘটনা ঘটে। ৭ জুলাইয়ের এ ঘটনায় পাঁচজন জীবিত উদ্ধার হলেও রেজাউল করিম (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।


সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে আরো দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। ২৯ সেপ্টেম্বরের দুর্ঘটনায় মাহিয়া (৯) নামের এক শিশু মারা যায়। এ সময় একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।


গত বছরের শেষের দিকে আরেকটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। ১ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে যে দুর্ঘটনা ঘটে সেখানে ফয়সাল (৩৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়।


এ বছরের ঘটে বড় দুটি দুর্ঘটনা। ২৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯ টার দিকে লঞ্চের ধাক্কায় আরেকটি নৌকা ডুবে যায়। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়।


চলতি বছরে ৭ মার্চ আরো বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে। সাত যাত্রীসহ একটি নৌকাকে ধাক্কা দেয় লঞ্চ। এ ঘটনায় একই পরিবারের সাত ডুবে যায়। এ সময় আহত অবস্থায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ছয়জনের মৃত্যু হয়।


সদরঘাট নদীবন্দরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বিবার্তাকে বলেন, ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার সময় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। সেই ঢেউ থেকে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। অনেক সময় দেখা যায় রাতে লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবে যায়। এ ব্যাপারে লঞ্চ মালিকদের সাথে কথা বলেছি। লঞ্চের পেছনে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরা লাগানো হলে দুর্ঘটনা কমে আসবে।


তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি লঞ্চ ঘাট থেকে নৌকা ঘাট আলাদা করার। আলাদা করতে পারলেও দুর্ঘটনা কমে আসবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নৌকা ঘাট আলাদা করতে পারবো।


তিনি আরো বলেন, আমরা এর আগে একবার নৌকা ঘাট আলাদা করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের কারণে তা সম্ভব হয়নি।


সদরঘাট নদীবন্দরের আরেক কর্মকর্তা কায়সার রহমান বিবার্তাকে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি লঞ্চ ঘাট ও নৌকা ঘাট আলাদা করার। কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিরোধের কারণে সম্ভব হয়নি। আমাদের সবাইকে আগে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে। নিজেদের বিপদে ফেলে দিলে তো আমরা সব সময় তাদের নিরাপত্তা দিতে পারবো না।


সদরঘাট নদীবন্দরের নৌ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হুমায়ুন কবির বিবার্তাকে বলেন, ৭ মার্চ একই পরিবারের ছয়জন মারা যাওয়ার পর প্রশাসন বেশ নড়ে-চড়ে বসে। লঞ্চ ঘাটের দুই পাশে পাটাতন দিয়ে নৌকা ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে সেটা বেশি সময় রাখা সম্ভব হয়নি।


তিনি আরো বলেন, আসলে এই নৌ-ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ যাওয়া আসা করে। নৌ-ঘাট সরিয়ে দিলে তারা বিপদে পড়বে। এই কারণে তারা নৌকা ঘাট সরাতে বাধা দিচ্ছে। এখন একটা সার্ভে (তথ্য সংগ্রহ) চলছে। সার্ভের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


সদরঘাটের নৌকাচালক রেজাউল ইসলাম বিবার্তাকে বলেন, এই ঘাটের সাথে শত শত পরিবার জড়িয়ে আছে। যদি ঘাট সরানো হয় তাহলে আমরা বিপদে পড়ে যাবো, আমরা বেকার হয়ে যাবো। আমরা চাই ঘাট এখানেই থাক।


বির্বাতা/আকরাম/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com