হানজালার দায়িত্বহীনতায় হলে ওঠা হচ্ছে না জবি ছাত্রীদের!
প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৯, ১৭:৫১
হানজালার দায়িত্বহীনতায় হলে ওঠা হচ্ছে না জবি ছাত্রীদের!
আদনান সৌখিন
প্রিন্ট অ-অ+

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালার দায়িত্বহীনতার কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নির্মাণাধীন ছাত্রী হলের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না।


একাধিকবার কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে শেষ হচ্ছে একটি ভবনের নির্মাণ কাজ। চতুর্থ দফা জুন মাসে শেষ হচ্ছে ভবনটির কাজের মেয়াদ। কিন্তু এই সময়েও হলে ওঠা হবে না জবি ছাত্রীদের।


২০১১ সালে শুরু হওয়া জবির একমাত্র ছাত্রী হল ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হল’ এর কাজের মেয়াদ ৪ দফায় বাড়ানো হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বলছে, হল নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো এখতিয়ার নেই। কাজের ধীরগতির জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরকে দায়ী করছেন তারা। এদিকে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির দাবি, জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে ৯৮ শতাংশ কাজ।


তবে বুধবার সরজমিনে দেখা যায়, কাজ চলছে ঢিলেঢালাভাবে। ১৬ তলা ভবনটির অভ্যন্তরীণ সিংহভাগ কাজ বাকি আছে। ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার কিছু কক্ষ ব্যতীত অন্যকক্ষগুলোতে লাগানো হয়নি দরজা-জানালা। পানির লাইন ও স্যনিটশনের ব্যবস্থাও হয়নি। বাকি রয়েছে অধিকাংশ ঝুলবারান্দার কাজ। মাত্র ১৫-২০ জন রাজমিস্ত্রি কাজ করছেন। চলছে টাইলস ও রঙের কাজ। তবে ব্যস্ততার চাপ নেই টাইলস ও রঙ মিস্ত্রিদের মধ্যেও।


কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরো ভবনে টাইলস ও রঙের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরমধ্যে দুই ঈদে কাজ বন্ধ থাকবে, সেক্ষেত্রে আরো সময় লাগবে। দ্রুত কাজ শেষ করা নিয়ে কন্সট্রাকশন কোম্পানি থেকেও তাগাদা নেই।


রঙমিস্ত্রি চুন্নু বলেন, মাঝে বলা হয়েছিল ঈদের আগে কাজ শেষ করতে হবে। তখন ১৫ জন কাজ করছিলাম। এখন চাপ নেই, বর্তমানে আমরা ১০ জন কাজ করছি। আমাদের যে সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে বলা হবে, আমরা বেশি লোক লাগিয়ে সে সময়ের মধ্যে রঙের কাজ শেষ করতে পারবো।


কনস্ট্রাকশন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, এখনও পর্যন্ত লিফট, সাবস্টেশন, জেনারেটর ও ফাইয়ার হাইড্রেন্টের কোনো টেন্ডার আহ্বান করেনি শিক্ষা প্রকৌশল দফতর। টেন্ডার আহ্বানের পর উক্ত কাজগুলো শেষ হতেও সময় লাগবে ৩-৪ মাস।


২০ তলা ভিত্তির ওপর ১৬ তলা ভবনের হলটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ৩৬ মাস। প্রকল্প বাস্তবায়নের ভার দেয়া হয় শিক্ষা প্রকৌশল দফতরের ওপর। ১১১টি কক্ষবিশিষ্ট হলটিতে একটি লাইব্রেরি, একটি ক্যান্টিন, একটি ডাইনিং, প্রতি তলায় সাতটি করে টয়লেট, আটটি গোসলখানা, ছাত্রীদের ওঠা নামার জন্য চারটি লিফট স্থাপন করা হবে।


এ প্রকল্পের প্রথম দফায় মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। দ্বিতীয় মেয়াদ ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন। তৃতীয় দফায় ২০১৬ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয় মেয়াদ। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।


দীর্ঘ সময়েও কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে প্রজেক্ট ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, কনস্ট্রাকশনের জন্য যে জায়গার প্রয়োজন হয়, সে পরিমাণ জায়গা এখানে নেই। এছাড়াও টেন্ডার পরবর্তী সময়ে ডিজাইন পরিবর্তন করতে সময় লেগেছে। টেন্ডার মূল্য থেকে কনস্ট্রাকশন মূল্য বেশি হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকে নতুন অনুমোদন আনতেও সময় লেগেছে। তাহলে ৫ম দফায় মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে কি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে এবছর ডিসেম্বর সব কাজ শেষ হবে বলে তিনি নিশ্চয়তা প্রদান করেন।


গত ডিসেম্বরে ছাত্রী হলের প্রভোস্ট হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারা বেগমকে নিয়োগ দেয়ার পর চলতি বছর জুনে ছাত্রীরা হলে উঠতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন জবি উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান। তবে হল কবে নাগাদ হস্তান্তর হচ্ছে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি প্রভোস্ট ড. আনোয়ারা বেগম।


জবি রেজিস্টার ওহিদুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, হল নির্মাণের বিষয়টি সম্পূর্ণ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের। উনারা এখনও কাজ শেষ করে আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে না। বিভিন্ন সময় আমরা তাদের চাপ প্রয়োগ করেছি কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য। কেন হলটি এখনও আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে না শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরই ভালো বলতে পারবে।


এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালার মুঠোফোনে বারবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।


বিবার্তা/আদনান/আকবর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com