অনিয়ম দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য শিক্ষা ভবন
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তৎপর বিএনপি-জামায়াত সিন্ডিকেট!
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২৪
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তৎপর বিএনপি-জামায়াত সিন্ডিকেট!
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শিক্ষা ভবনে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বিভিন্ন সময় ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা সরকার বিরোধী কাজ, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম করে আসছে। তবে এসব কাজ সু-কৌশলে করার কারণে সিন্ডিকেটের সদস্যরা রয়ে যান অধরা। শিক্ষা ভবনের একাধিক সূত্র বিবার্তাকে এমনটা জানিয়েছে।


সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার সম্বনয়ে শিক্ষা ভবনে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। এরপর থেকে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সু-কৌশলে তারা তাদের নিজেদের আবার কখনো কখনো দলীয় স্বার্থ হাসিলে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।


সূত্রমতে, শিক্ষ ভবনের ওই সিন্ডিকেটের মুলহোতা হলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের কয়েকজন পরিচালক। তাদের মধ্যে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক প্রধান প্রকৌশলী ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হানজালার কাছের লোক বলে পরিচিত মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এই সিন্ডিকেটের প্রধান ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ আছে। সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ইয়ের সহায়তায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে সবচেয়ে গুরুত্বপূণ পদ উপ-পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে পদায়ন বাগান। এরপর গড়ে তুলেন একটি সিন্ডিকেট। এক পর্যায়ে তার জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণস্বরূপ ২০১১ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম লুতফুল হাই সাচ্চু শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন।


তৎকালীন সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) দীপক কুমার নাগকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই কমিটি জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছিল। পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে সেই প্রতিবেদনটি আলোর মুখ দেখেনি। উল্টো তদন্ত কমিটির সদস্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের তৎকালীন উপ পরিচালক বশির উল্লাহ সক্রিয়ভাবে কাজ করায় তাকে সু-কৌশলে শিক্ষা ভবন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল।


অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীর হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। শিক্ষা ভবনে আওয়ামী লীগ পন্থীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে সু-কৌশলে তাদের নিষ্ক্রিয় করে রাখেন এই কর্মকর্তা।


শুধু তাই নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক এসএম ওয়াহিদুজ্জামানের সময়ে ছয়জন মহিয়সী নারীর সম্মানার্থে একটি প্রকল্প শুরু হয়। সেই প্রকল্পে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেচ্ছার নাম অন্তর্ভূক্ত না হওয়ার জন্য জাহাঙ্গীর হোসেন ডেস্ক অফিসারদের নানাভাবে চাপ দেন। এভাবেই সু-কৌশলে বঙ্গমাতার সম্মানে নেয়া প্রকল্প বন্ধ করে রেখেছেন এই পরিচালক। উল্টো সেই জাহাঙ্গীর আজ অবধি বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে কিছু না করতে পারেন সেই পায়তারা করে যাচ্ছেন। এমনকি বিভিন্ন প্রকল্পতে কৌশলে ত্রুটি ঢুকিয়ে দেন। পরবর্তীতে তার ইশারায় সেই ত্রুটিগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হয়।


আর এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের সহকারি পরিচালক দিল আফরোজ বিনতে আছির, খলিলুর রহমান, মিনহাজ্জ উদ্দিন আহমেদ, সাবিনা বেগম, আজিম কবির ও উপ পরিচালক খুরশীদ আলমসহ আরো কয়েকজন।


তাদের মধ্যে দিল আফরোজ বিনতে আছির বিএনপি-জামায়াতের আমল থেকেই মাউশিতে কর্মরত। শুধু তাই নয়, তিনি জাহাঙ্গীরের সহযোগিতায় অধিদফতর থেকে সর্বোচ্চ সুধিবা ভোগ করে থাকেন। এছাড়াও ‘জেনারেশন ব্রেকথ্রু’ নামের একটি প্রকল্প থেকে পরিচালক জাহাঙ্গীরের সহায়তায় অর্থ লুটপাটের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। এই প্রকল্পের পিডি ও ফোকাল পয়েন্ট হওয়ার সুবিদার্থে এই দুই কর্মকর্তা মহাপরিচালকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে এই প্রকল্পের অর্থে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়ে নানা অনৈতিক সুবিধা আদায় করেন এই অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা।


একই অধিদফতরের আরেকজন সহকারি পরিচালকের নাম সাবিনা বেগম। তিনি ২০০৭ সাল থেকে শিক্ষা ভবনে কর্মরত রয়েছেন। এই কর্মকর্তা পরিচালকের কাছের লোক হওয়ায় কাউকেই তোয়াক্কা করেন না। জানা গেছে, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের মূল কাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করা। কিন্তু পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং বিগত তিন বছরে কোনো প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করতে পারে নাই।


তাদের আরেক সহযোগির নাম আ.ক.ম খলিলুর রহমান। তিনিও অধিদফতরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ে সহকারী পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। এমনকি তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতি আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টাও করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


তিনি বিগত ১৬ ডিসেম্বর তার ফেসবুকে ‘‘Now Democracy means govt. off the people, far the people and bye the people in spite of Democry of the people, for the people and by the people.” এমন একটি স্ট্যাটস দিয়েছিলেন। মহাপরিচালক মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলেও অজানা কারণে খলিল আগের মতোই বহাল থাকেন।


আরেক সহকারি পরিচালক মিনহাজ্জ উদ্দিন আহম্মদ। তিনিও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে জানা যায়। ২২ তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা প্রথমে প্লানিং কমিশনে পদায়ন পান। পরবর্তীতে পরিচালক জাহাঙ্গীর তাকে মাউশিতে নিয়ে আসেন। প্রায় সময় তিনি সরকারবিরোধী সমালোচনায় লিপ্ত থাকেন বলে অভিযোগ আছে।


তাদের আরেক সহযোগির নাম খুরশীদ আলম। তিনি একই অধিদফতরে উপ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ আছে । শুধু তাই নয়, শিক্ষ ভবনে “নিগার, কামাল ও খুরশীদ” নামে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সম্প্রতি নয়টি স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রকল্পে পিডি হওয়ার জন্য মহাপরিচালককে দিয়ে জোর তদবির করছেন।


মাউশির আরেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা প্রশাসন শাখার উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকি। সরকারি স্কুল-কলেজের কর্মচারি নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বদলি বাণিজ্য আর এসব অফিসের কর্মচারি বদলিতেও তার রয়েছে সীমাহীন ক্ষমতা। মাউশির কেনাকাটায়ও এই কর্মকর্তা আর্থিক সুযোগ নেন বলে অভিযোগ আছে। কিছু দিন আগে এই কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও অদৃশ্য কারণে সে আদেশ আর কার্যকর হয়নি।


প্রায় তিন বছর থেকে শিক্ষা ভবনে কর্মরত শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ আহমেদ এ্যানি। তিনি সরকারি কলেজের শিক্ষকদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন দেখেন। অধিদফতরে ক্ষমতাশীনদের কাছের লোক হওয়াতে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথেও দূর্ব্যবহার করেন এই কর্মকর্তা। এছাড়া সহকারি পরিচালক একেএম মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ভবনে কর্মরত রয়েছেন।


মাধ্যমিক শাখার শিক্ষা কর্মকর্তা আফসার উদ্দিন সহকারি অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও অজানা কারণেই প্রভাষকের বেতনে বিএনপি জামায়াত আমল থেকেই ভবনে কর্মরত আছেন। আইন শাখার কর্মকর্তা আল আমিন সরকার ও এক যুগের অধিক একই পদে কর্মরত। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের এক সময়ের প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতা এইচ আর এম শাখার সহকারি পরিচালক আশেকুল হকও দীর্ঘদিন ধরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন শিক্ষা ভবনে।


মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক ড. আব্দুল মালেক মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক এই বিষয় নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করেছেন। এক পর্যায়ে সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ঘনিষ্টজন হয়ে উঠেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়া শুরু করেন। কিন্তু ট্রেনিং উইংয়ের পরিচালক হওয়াতে তিনি বিভিন্ন সময় বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ আছে।


সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর আরেক ঘনিষ্টজন ছিলেন প্রশিক্ষণ শাখার সহকারি পরিচালক নিগার সুলতানা পারভীন। দাপট দেখিয়ে প্রশিক্ষণ শাখার তৎকালীন পরিচালক শফিকুল ইসলামকে কলেজে যেতে বাধ্য করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এছাড়াও শিক্ষা ক্যাডারের বিতর্কিত কর্মকর্তা কামাল হায়দারের কাছের লোক এই নিগার ২০১৭ সালে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনের কেক বানান। এতে তৎকালীন মন্ত্রী ক্ষেপে যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তির নির্দেশ দেন। এই অপরাধে কামাল হায়দারকে ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে বদলি করা হলেও নীগার অদৃশ্য কারণে অধিদফতরে বহাল তবিয়তে থেকে যান। এমনকি এক সময় শিক্ষা ভবনে কোনো কর্মকর্তার পাদায়ন হতে হলে নিগারের ইশারা ছাড়া হতো না।


এছাড়াও প্রশিক্ষণ শাখায় জামায়তপন্থী আনোয়ারুল আউয়াল খান, আবুল হোসেন কায়েস এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।


এক সময় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা মনিটরি অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া শিক্ষাভবনে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ‘নয়টি সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠা’ নামক প্রকল্পে তার স্ত্রী রায়হানাকে পিডি বানানোর জন্য জোর তদবির করে যাচ্ছেন। শিক্ষা ভবনের বির্তকিত কর্মকর্তা মাহাবুবা ইসলাম ও ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা রোকনুজ্জামানকে নিয়ে সকল অপর্কম করে থাকনে তিনি।


এছাড়াও ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখার উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান নিজের পছন্দের ঠিকাদারি কোম্পানিকে কাজ দিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় করেন বলে অভিয়োগ আছে। সম্প্রতি রয়েল নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগে একটি তদন্ত কমিটি হলেও সে তদন্ত প্রতিবেদন আর আলোর মুখ দেখেনি। এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এইসব জামায়াত-বিএনপিপন্থী সিন্ডিকেট আগের মতোই বহাল তবিয়তে আছে।


তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিন্ডিকেটের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বিবার্তাকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না তা আমি বলতে পারব না। তবে থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।


এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিবার্তাকে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসে নাই। তবে বিষয়টি আমরা দেখছি। আমাদের এখানে যদি ক্ষতিকর কেউ থাকে তা হলে অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।


বিবার্তা/খলিল/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com