বরেন্দ্রর মাঠে মাঠে ধান কাটা উৎসব শুরু
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:২৬
বরেন্দ্রর মাঠে মাঠে ধান কাটা উৎসব শুরু
রাজশাহী ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+

মাঠজুড়ে সোনালি ধান। কেউ কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন। কেউ কেউ ভাড় করা ধান নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির উঠোনে। দম ফেলার ফুরসত নেই কারও। মহাব্যস্ততায় দিন কাটছে কৃষকদের। আমন ধান কাটা নিয়ে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে। মাঠে মাঠে যেন শুরু হয়েছে ধান কাটা উৎসব।


চাষীরা বলছেন, বন্যায় ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও ফলন ভালো। বাড়তি উৎপাদন দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন তারা। এবার প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৮ মণ পর্যন্ত ধান উৎপাদন হয়েছে। বাজারে এখন প্রতি মণ নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে মুখে এখন হাসির ঝিলিক।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, এবার নওগাঁ জেলায় দুই লাখ ১৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে বন্যায় ৩৮ হাজার ৪৩৮ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি এ জেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে।


ধান কাটা শুরু হয়েছে নাটোরেও। এ জেলায় ৬৬ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে বন্যায় ৯ হাজার ২৮৭ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


আর চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যায় তিন হাজার ৬৫২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৪৮ হাজার ৯৪৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এ জেলার বেশিরভাগ জমির ধানে পাক ধরায় ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।


এদিকে রাজশাহী জেলায় এবার আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৩ হাজার ৩৮৭ হেক্টর জমি। এর মধ্যে বন্যায় দুই হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পর্যন্ত জেলায় পাঁচ হাজার ৭৬১ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ১৮ টন চাল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরেন্দ্রের এই চার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জোরেশোরেই আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে।
তবে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ে শ্রমিক সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছেন চাষীরা। শ্রমিক খরচ বেশি দিয়েই কৃষকরা ধান কাটা-মাড়াই করছেন। অতিরিক্ত মজুরি গুণতে হলেও ধানের ফলন বেশি পাওয়ায় কৃষকরা ভাসছেন খুশিতে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, রাজশাহী বিভাগের চার জেলায় ছয় শতাংশ জমির আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। জেলাগুলো ঘুরে দেখেছি। ধান পেকে গেছে। বেশ কয়েক জন কৃষকের সঙ্গে কথাও বলেছি। তাদের অনেকে জানিয়েছেন, শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন। কৃষকরা ফলন বেশ ভালো পাচ্ছেন।


রাজশাহীতে এবার ব্রি-৪৯, ব্রি-৫১, ব্রি-৫৬, বিনা-৭, স্বর্ণা ও ভারতীয় জাত হুটরা ধান চাষ হয়েছে বেশি। জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ভাগাল গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম ৫ বিঘা জমিতে ব্রি-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছেন।


তিনি জানান, জমি বর্গা নেয়াসহ প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৯ হাজার টাকা। তার জমির ধান কাটা-মাড়াই শেষ। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয়েছে ১৮ মণ। এতে তার লাভ হয়েছে।


কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রি-৪৯ জাতের ধানের জীবনকাল ১৩৫ দিন হলেও ২৫ দিন আগেই ধানের উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জাতের ধান জীবনকালের চেয়ে আগাম ধান পেকে যাওয়ায় ভালো ফলন হচ্ছে। এসব জাতের চাল সুস্বাদু ও চিকন হওয়ায় হাট বাজারে চাহিদা রয়েছে। এখন বৃষ্টিপাতের মতো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা ভালোভাবেই ঘরে তুলতে পারবেন সোনার ফসল।


রাজশাহীর পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মনজুরে মাওলা জানান, একসাথে ধান পেকে যাওয়ায় এ উপজেলায় কিছুটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবছরই এমন হয়। তাই বিভিন্ন এলাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার নামের এক যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা-মাড়াই-ছাটাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে কৃষকের প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় আড়াই হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি জানান, এবার বন্যায় ধানের জমি কিছুটা নষ্ট হলেও উৎপাদনে ঘাটতি থাকবে না। বন্যার পরই কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে সার দেয়া হয়েছিল। সেগুলো প্রয়োগ করায় ফলন ভালো হয়েছে। তাই কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন। লক্ষমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেশি হবে বলেই মনে করছেন তিনি।


বিবার্তা/রিমন/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com