সবজি ভুলিয়েছে বন্যার দুঃখ
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১০:১৬
সবজি ভুলিয়েছে বন্যার দুঃখ
শামীম কাদির, জয়পুরহাট
প্রিন্ট অ-অ+

বন্যা খুব কাঁদিয়েছিলো তাদের। একে একে ডুবিয়ে নিচ্ছিলো সব স্বপ্ন। কেউ পুরো ফসলী জমির পাকা ফসল হারিয়েছেন, কেউবা হারিয়েছেন গোয়ালের আদুরে গরুটিও। যিনি হারিয়েছেন তিনিই তো বোঝেন হারানোর যন্ত্রণা! তবে একটি বৈশিষ্ট্য এই কৃষকদের সবচেয়ে বড় সম্পদ- সেটি হলো অল্পতেই তুষ্ট হওয়া। এই যেমন বন্যার পর পলি মাটিতে আগাম শীতের সবজিতে লাভবান হয়ে ভুলতেই বসেছেন কিছুদিন আগের সব দুঃখ! বাঙালির জীবন তো এমনই।


জয়পুরহাট জেলায় বন্যার কারণে ধান সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম জাতের সবজী চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে আগাম শীতের সবজি। বাজার দর ভালো থাকায় আগাম সবজী চাষে লাভের মুখ দেখছেন এলাকার কৃষকরা। কপি, মুলা, সিম থেকে শুরু করে শীতের আগাম সবজিতে ভরে গেছে জয়পুরহাটের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার নতুনহাট।


এ বছর দুবারের বন্যায় কৃষকের হতাশার ছাপ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে এ আগাম জাতের শীতের সবজি। ভালো মূল্যে পাওয়ায় তাদের মূখে হাসি ফুটেছে। আরো কিছুদিন এমন মূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা তাদের ।


স্থানীয় কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০১৭-১৮ ফসল চাষ মৌসুমের আওতায় জেলায় সবজিচাষে লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে শাক সবজী ৬ হাজার ৪০ হেক্টর, ইতি মধ্যে অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ২৬৫ হেক্টের। এছাড়া বেগুন ৬৮৭ হেক্টর, মরিচ ৪৩২, তিল ১০৫, বরবটি ১০, ঝিংগা ৮০, কাকরোল ৪০, চিচিংগা ৫৫, চাল কুমড়া ১৭৫, কুমড়া ৩৮০, ডাটা ২৪০, পুঁইশাক ২২৫, লাল শাক ২৮০, কলমী শাক ৮৫, শষা ২৬৫, ফুলকপি ১৬, বাধাকপি ১২, মূলা ৪০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।


লতিরাজ কচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১ হাজার ৭শ ৭৫ হেক্টর জমি। সব মিলে এবার সবজীর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ৬০ হাজার ৫৪০ মে.টন যা জেলার সবজী চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব।


জেলায় এবারের বন্যায় নিন্মচাপের কারণে ধান এবং আগাম জাতের শাক সবজিব্যাপক ক্ষতি হয় । কৃষকরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন করে সবজী চাষে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দাম বেশী পাওয়ায় কৃষকরা খুশি। জেলার আক্কেলপুর উপজেলার শন্তা গ্রামের কৃষক হান্নান মন্ডল দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। বাজার মূল্য ভাল পাওয়ায় খুশি বলে জানান তিনি।


একই গ্রামের কৃষক আলামিন হোসেন বলেন, ১ বিঘা জমিতে মূলা চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছি।


পূর্ব পারুলিয়া গ্রামের এন্তাজ আলী জানান, নিজের দেড় বিঘা জমি সহ ওই এলাকায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে এবার ফুলকপি বাধাকপির চাষ হয়েছে।
পারুলিয়া গ্রামটি সবজী গ্রাম নামে পরিচিত সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলায় ১হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের সবজী চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলে ও প্রায় ১২শ হেক্টর জমি ছাড়িয়ে গেছে ইতোমধ্যে। জেলার বড় সবজী পাইকারি বাজার নতুনহাটে প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা বাধাকপি ৬০ টাকা মূলা ৪০ টাকা । কাকরোল ৪০ টাকা ঢেঁরস ৪৫ টাকা বরবটি ৬০ টাকা লতিরাজ কচু ৩৫ টাকা । পটল ৩৫ টাকা বেগুন ৬০ টাকা করলা ৪০ টাকা।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্র নাথ বলেন, জয়পুরহাটের কৃষকরা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বর্তমানে বাস্তু সময় পার করছেন। এখানকার সবজীর মান খুব ভালো। সে কারণে জয়পুরহাটের সবজী বাহিরের চাহিদা বেশী । দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে সবজী নিয়ে যায়।



বিবার্তা/শামীম/ইমদাদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com