কেন মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি?
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:৪০
কেন মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি?
মৌসুমী ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

রোহিঙ্গা ইস্যুতে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই মিয়ানমার থেকে আতপ চাল আমদানির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। বুধবার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এক লাখ মেট্রিক টন চাল আনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।এখন খোলা হবে এলসি। তারপর চাল আসা শুরু হবে। অর্থমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।


রাষ্ট্রীয় জরুরী প্রয়োজনে মিয়ানমার থেকে চাল আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।


খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতকৃত সারসংক্ষেপে দেখা যায়, আমদানিকৃত প্রতি টন চালের দাম দাঁড়াবে ৪৪২ মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে এক লাখ মেট্রিক টন চালের জন্য প্রয়োজন হবে ৪ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার। আর প্রতি ডলার সম্ভাব্য ৮৩ টাকা হিসেবে টাকার অংকে ব্যয় হবে মোট ৩৬৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।


সারসংক্ষেপে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অত্যন্ত সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনের স্মারক হিসেবে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য ৫ বছর মেয়াদী একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। মিয়ানমার থেকে বছরে সর্বোচ্চ তিন লাখ টন চাল আমদানি সম্ভব।’


হাওড় এলাকায় পাহাড়ি ঢলে বোরো জমি তলিয়ে যায়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে অকাল বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ব্লাস্টরোগ, পাহাড়ি ধস, বন্যা ইত্যাদি কারণে চালের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবানের পাশাপাশি জি টু জি পর্যায়ে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়। ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক আড়াই লাখ টন চালের সরবরাহ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে থাইল্যান্ড ও ভারতের সঙ্গে চাল আমদানির বিষয়ে আলোচনা হলেও দাম নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়। এরই মধ্যে কম্বোডিয়া থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানির জন্য চুক্তি হয়েছে। এমন অবস্থায় যোগাযোগ করা হলে চাল রফতানিতে আগ্রহ দেখায় মিয়ানমার।


খাদ্য মন্ত্রণালয় মনে করে, মজুদ বৃদ্ধি করে সরকারি খাদ্য বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমদানির বহুবিধ উৎস থাকলেও দ্রুত খাদ্যশস্য আমদানি করা সহজ হয় এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ মূল্যে খাদ্যশস্য কেনা সম্ভব হয় - এমন বিবেচনাতেই মিয়ানমারের সঙ্গে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার। চাল আমদানির এমওইউ স্বাক্ষর করতে খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফর করেন ৭ সেপ্টেম্বর।


খাদ্যমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে সরকারিভাবে চাল মজুদের পরিমাণ ৩ লাখ ৫৮ লাখ টন। গম ১ লাখ ৭ লাখ টন। সব মিলিয়ে খাদ্য মজুদের পরিমাণ ৪ লাখ ৬৫ লাখ টন।


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com