‘ছিনতাইকারী ধরতেই দৌড় দেই’
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২০, ২১:৩৮
‘ছিনতাইকারী ধরতেই দৌড় দেই’
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

‘রাত সোয়া আটটা। হঠাৎ চিৎকার ও ছিনতাইয়ের ঘটনা দেখতে পাই। পরে ছিনতাইকারী ধরতেই দৌড় দেই আমরা। কিন্তু ছিনতাইকারী পালানোর সাথে সাথে আমাদের রেখে চলে গেছেন স্যারও।’


বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বির্বাতাকে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন রাজধানীর কাফরুল থানার কনস্টেবল মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বুধবার রাতে কাফরুল থানার তালতলা ৯নং গেট থেকে ১৩নং গেট পর্যন্ত ছিনতাই প্রতিরোধ ডিউটিতে নিয়োজিত থাকা এএসআই জাহাঙ্গীর আলমের সাথে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এএসআই জাহাঙ্গীর মার্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। আজ দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।


দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা কনস্টেবল মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ভিকটিমের চিৎকার শুনে স্যার (জাহাঙ্গীর) ও আমি ছিনতাইকারীকে ধরতে দৌঁড় দেই। এ সময় একটি বাস এসে স্যারকে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাস রেখে ঘাতক চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় স্যারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।


কাফরুল থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান বিবার্তাকে জানান, এএসআই জাহাঙ্গীর কাফরুল থানার তালতলা ৯নং গেট থেকে ১৩নং গেট পর্যন্ত ছিনতাই প্রতিরোধ ডিউটিতে নিয়োজিত ছিল। ডিউটিকালে রাত সোয়া ৮টায় পুরাতন বিমান বন্দর ৯নং গেটের উত্তর পাশে রাস্তায় ছিনতাইয়ের ঘটনা দেখে এবং ভিকটিমের চিল্লাপাল্লা শুনে ছিনতাইকারীদেরকে ধরতে ধাওয়া দেন তিনি। পথিমধ্যে দক্ষিণ দিক থেকে আসা আলিফ পরিবহনের বেপরোয়া একটি বাস এএসআই জাহাঙ্গীরকে সজোরে ধাক্কা দেয়।


এ সময় তিনি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন। পরে তার মুখের বাম পাশের গালে ও বাম কানে গুরুতর জখম হয়ে রক্ত পড়তে থাকে। এমতাবস্থায় তার সঙ্গীয় কনস্টেবল মো. সিদ্দিকুর রহমান চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৫০ মিনিটের সময় মারা যান তিনি।


ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা করেন। পরে বাসটি জব্দ করা হলেও এখনো আসামি গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।


নিহত জাহাঙ্গীরের গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার সাথিয়া থানার পার করমজা গ্রামে। চাকরির সুবাদে তিনি কাফরুল থানার সামনে একটি বাসা ভাড়া করে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করেন।


জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই রুপম বিবার্তাকে বলেন, ‘কনস্টবল পদে চাকরিতে যোগদান করেন আমার ভাই। ২০১৪ সালে যোগদানের পর থেকেই গুরুত্বসহকারে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে পদোন্নতিও পান তিনি। এর পর থেকে আরো বেশি কাজপাগল হয়ে উঠেন। আর কাজ করতে গিয়েই ভাইকে হারিয়েছি আমরা।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, বুধবার সকালে বাসা থেকে বের হন এএসআই জাহাঙ্গীর। রাত পর্যন্ত তিনি বাসায় যাননি। পরে রাতে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসি আমরা। কিন্তু জীবিত নয়, মৃত ভাইকেই দেখতে হয়েছে আমাদের।


তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়েছে। সেখানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।


বিবার্তা/খলিল/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com