গ্রন্থমেলায় বসন্তের ছোঁয়া
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৪১
গ্রন্থমেলায় বসন্তের ছোঁয়া
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”


কবি সুফিয়া কামালের কবিতার এ চরণগুলো ঋতুরাজ বসন্তকে ঘিরে লেখা। প্রকৃতির পালাবদলে এসে গেছে সেই ঋতুরাজ বসন্ত। ১৪ ফেব্রুয়ারি ( শুক্রবার) ফাল্গুনের প্রথম দিন থেকেই বসন্তের শুরু। আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি বসন্ত উৎসব উদযাপন করা হলেও এবার বর্ষপঞ্জিকা সংস্কারের কারণে তা ১৪ ফেব্রুয়ারিতে পালিত হয়েছে।


এদিকে একইদিন ভ্যালেন্টাইনস ডে তথা ভালোবাসা দিবস। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস হওয়ায় আনন্দে পেয়েছে নতুন মাত্রা। সবকিছুতে যেন বসন্ত ও ভালোবাসার ছোঁয়া। অমর একুশে গ্রন্থমেলায়ও লেগেছে এই ছোঁয়া। লেখক, পাঠক ও দর্শনার্থীরা বসন্ত-ভালোবাসার সাজে সজ্জিত হয়ে এদিন গ্রন্থমেলায় এসেছেন। মেলাপ্রাঙ্গণ জুড়ে ছিল তারুণ্যের ঢেউ।



শুক্রবার ( ১৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে। এদিন ছুটির দিন হওয়ায় বেলা ১১ টায় মেলাপ্রাঙ্গণ খুলার কথা থাকলেও সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা, বাংলা একাডেমির আশপাশ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশ, দোয়েল চত্ত্বর এলাকা, ঢাবির চারুকলার বকুলতলা, শাহবাগ এলাকা মুখরিত ছিল তারুণ্যের কোলাহলে। এরপর মেলার দ্বার খুলতেই এক অন্য রকম দৃশ্য নজর কেড়েছে। এ যেন হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। ছেলেরা পড়েছেন হলুদসহ রঙ বেরঙের পাঞ্জাবি। আর মেয়েরা পড়েছেন মাথায় টায়রা ও পড়নে বাসন্তী রঙের নান্দনিক শাড়ি। এদিন মেলায় কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে, আবার কেউবা আসছেন দলবেঁধে। তবে মেলায় আগতদের বেশিরভাগই ছিল কপোত-কপোতি।


সরেজমিনে মেলা ঘুরে আরো দেখা গেছে, মেলায় এদিন শিশুপ্রহর থাকায় পরিবারের সাথে আগত শিশুরা গিয়েছেন মেলার শিশুপ্রহরে। সেখানে তারা মেতেছেন খেলায়। তাদের হৈ চৈ -এ মুখরিত ছিল শিশুপ্রহর প্রাঙ্গণ। এদিন মেলায় আগতরা কেউ বই দেখা, কেউ আড্ডা দেয়া, কেউবা আবার পুরো মেলা ঘুরে দেখতে ব্যস্ত ছিলেন। অনেকে আবার বসন্ত ও ভালোবাসার রঙ লাগিয়ে থেমে থাকেননি। মেলার দৃষ্টিনন্দন স্থানগুলো খুঁজে খুঁজে সেলফিবন্দি করেছেন তারা। লেখক, পাঠক, দর্শনার্থীদের গল্প, আড্ডা, সেলফি তোলার হিড়িকে মুখরিত ছিল এদিনের গ্রন্থমেলা।



মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে একদলকে খোশগল্পতে মেতে থাকতে দেখা যায়। তাদের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তাদের মধ্যে শরীফ নামের একজন বিবার্তাকে বলেন, তারা সবাই ধানমণ্ডি হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। এদিন শুক্রবার ছুটির দিন বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস হওয়ায় বন্ধুরা মিলে ঘুরতে গ্রন্থমেলায় এসেছেন।


মেলা থেকে বই কিনবেন কিনা প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেলা ১১ টায় মেলায় প্রবেশের পর থেকে ঘুরছি, সেলফি তুলছি আর আড্ডা দিচ্ছি। ফাঁকে ফাঁকে কয়েকটি স্টলেও উঁকি দিয়েছি ।পছন্দের বই পেলে অবশ্যই কিনবেন বলে জানালেন তিনি।



বান্ধুবীকে নিয়ে গ্রন্থমেলায় এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশিক ইসলাম । কথা হয় বিবার্তাকে সঙ্গে। তিনি বলেন, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস একইদিন হওয়ায় আনন্দে নতুন মাত্রা এসেছে। সকালে বান্ধুবীকে নিয়ে চারুকলার বকুলতলায় গিয়ে বসন্ত উৎসব উপভোগ করেছি। এরপর গ্রন্থমেলায় এসেছি। আজকে সারাদিন গ্রন্থমেলায় ঘুরবো আর পছন্দের বইগুলো কিনবো।


তারুণ্যের ভিড়ে জমজমাট এদিনের গ্রন্থমেলায় বই বিক্রি হওয়ার বিষয়ে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন প্রকাশকরা।


‘কাকলি’ প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মাহমুদুল হাসান বিবার্তাকে বলেন, বসন্ত , ভালোবাসা দিবস শুক্রবারে হওয়ায় এদিনের মেলা খুলার পর থেকে জমজমাট। আর বিক্রিও অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক ভালো।


কোন ধরণের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ স্যারের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।


অনুপম প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারী রাশেদুল ইসলাম বিবার্তাকে বলেন, তারুণ্যের ভিড়ে জমজমাট এদিনের গ্রন্থমেলা। এদিন উপন্যাসের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/রাসেল/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com