শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম কাপড়ের দাম (শেষ পর্ব)
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:০১
শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম কাপড়ের দাম (শেষ পর্ব)
আদনান সৌখিন
প্রিন্ট অ-অ+

শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন। সাধারণ ও খেটে-খাওয়া মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। খেটে খাওয়া যেসব মানুষের শীত নিবারণের একমাত্র আশ্রয় পুরান কাপরের দোকানগুলো, সেসব দোকানেও পুরাতন কাপড়ের দাম বেড়েছে নতুন কাপড়ের মতই।তাই কাপড় কিনতে এসে কিছুটা হিমশিমই খেতে হচ্ছে এসব মানুষকে।



জমজমাট রাজধানীর ফুটপাতমার্কেট


কথা হচ্ছিল ফকিরাপুলের ভ্যান চালক আব্দুল মালেক মিয়ার সাথে। গুলিস্তানে নিজের জন্য ও নিজের পরিবারের জন্য কিছু কাপড় কিনতে এসেছিলন তিনি।"ঢাকায় তেমন শীত পড়ে না জন্যই আগে থেকে শীতের কাপড় কেনার কথা চিন্তা করিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই এত বেশি শীত পড়ল যে গরম কাপড় কিনতেই হবে।তবে দামের যে অবস্থা, মনে হচ্ছে না যে সবার জন্য পর্যাপ্ত কাপড় কিনতে পারব। শীতের শুরুতেও যে জ্যাকেট বা সোয়াটার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দাম শুনেছি, আজকে সেসব কাপড়ই ১ হাজারের নিচে পাচ্ছি না। মনে হচ্চে ভুল করে কোনো নতুন কাপড়ের দোকানে ঢুকে পড়েছি।" বিবার্তাকে বলছিলেন মালেক মিয়া।


হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা নিবারণ করতে শীতের পোশাক কিনছে স্বল্প আয়ের মানুষরাও। ফলে ভিড় বেড়েছে ফুটপাথের মার্কেটে। এই সুযোগে দুই থেকে তিন গুণ বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, মালিবাগ, মৌচাক, ফার্মগেট, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, বঙ্গবাজার, নিউ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।


সরেজমিন দেখা যায়, শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে দোকানগুলোতে গরম পোশাক বিক্রিরও হিড়িক পড়েছে। রাজধানীর ফুটপাথ এখন শীতবস্ত্রের দখলে। ক্রেতাও প্রচুর। বেশি বিক্রি হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের কাপড়। মাথার টুপি, পায়ের মোজা, হাতমোজা, মাফলার, সোয়েটার, জাম্পার, ফুলহাতা গেঞ্জি, কম্বলের দোকানের ভিড় চোখে পড়ার মতো।



ফুটপাতের মার্কেটে কাপড় দেখছেন ক্রেতারা


ফুটপাথে ভিড় করা ক্রেতারা বলছেন, শীতের শুরুতে কেনা পোশাক এ তীব্র শীতে কোনো কাজে লাগছে না। তাই তারা আবার ছুটছেন কনকনে শীত থেকে বাঁচতে পারেন এমন পোশাকের সন্ধানে। আর ক্রেতাদের এ চাহিদাকে পুঁজি করে বিক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছেন কয়েক গুণ বেশি। অস্বাভাবিক দাম হাঁকানোর অভিযোগ তুলে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন অনেকে। তবে অনেকটা অসহায়ের মতোই দোকানির চাওয়া দামেই কিনে নেন পছন্দের একটি শীতবস্ত্র।দুই সপ্তাহ আগেও যে পোশাক ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন কমপক্ষে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।


বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে শীতের কাপড়ের চাহিদা অনেক বেশি। বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করলেও গত কয়েক দিন ধরে দাম একটু বেশিই বলে স্বীকার করেন একাধিক বিক্রেতা।



ফুটপাতে গরম কাপড় কেনাবেচা


গত কয়েক দিনে বড়দের পাশাপাশি শিশুদের পোশাক বিক্রিও অনেকটা বেড়েছে। জিপিওর সামনে ফুটপাথ ব্যবসায়ী আজমল বলেন, শিশুদের শীতের পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি। তার দোকানে শুধু শিশুদের পোশাকই বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার।


অতিরিক্ত দামের বিষয়ে তিনি বলেন, পৌষের শুরুতে টুকটাক বেচাবিক্রি থাকলেও গত ২ সপ্তাহ থেকে ক্রেতার চাপ বেড়েছে। পাইকারি মার্কেটে দাম বেশি; তাই আমরা কম দামে বেশি বিক্রি করতে পারছি না। অন্য সময়ে যে জ্যাকেটের দাম ১০০ টাকা, এখন তা ৪০০ টাকা দাম চাচ্ছি। তবে ২০০ টাকা হলে ছেড়ে দিচ্ছি। ক্রেতারাও কম কথা বলে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের জিনিসটি।


রাজধানীর নিউমার্কেট, গুলিস্তান, মৌচাক, রামপুরা, নতুনবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শপিংমল থেকে ফুটপাত সবখানে গরম কাপড়ের দোকানে ভিড়। চাহিদামতো মানুষ বিভিন্ন ধরনের গরম পোশাক সোয়েটার, কম্বল, জ্যাকেট, হাত মোজা, পা মোজা, মাফলার, কানটুপি কিনছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বলছেন, ‘শীত বাড়ার সঙ্গে গরম কাপড়ের দামও বেড়েছে।’


নিউমার্কেটের ফুটপাতে গরম কাপড় বিক্রেতা আলমগীর বলেন , গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের পোশাকের চাহিদা বেশি। এ কারণে শীতের পোশাক বিক্রি করছি। গায়ের পোশাকের পাশাপাশি কম্বলের চাহিদাও বেড়েছে। বেচা-বিক্রিও ভালো বলেই জানান তিনি।



ফুটপাতে ব্লেজার দেখছেন এক ক্রেতা


গুলিস্তানের হকার্স মার্কেটের দোকানদার দেলোয়ার হোসেন বিবার্তাকে বলেন, গত ৪-৫ দিনে প্রায় ৪০০ কম্বল বিক্রি করেছেন। গত সপ্তাহ থেকে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে।


এক কম্বল ক্রেতা বলছিলেন, দুই দিনে ছোট কম্বল প্রতি কম করে হলেও ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে দাম বেড়েছে। ছোট কম্বলগুলো গত পরশু ২২০ টাকা চাইলেও আজ সেগুলো সাড়ে তিনশ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। শীত বাড়ায় ব্যবসায়ীদের পকেট মোটা হচ্ছে।


বিবার্তা/আদনান/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com