আসলে সিটিং সার্ভিস বলতে কিছু নেই (১ম পর্ব )
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:০৪
আসলে সিটিং সার্ভিস বলতে কিছু নেই (১ম পর্ব )
আদনান সৌখিন
প্রিন্ট অ-অ+

সত্যি কথা বলতে কি, রাজধানী ঢাকার কোনো গাড়িতেই সিটিং সার্ভিস বলে কিছু নেই। সেটা সদরঘাট, যাত্রাবড়ী, গুলিস্তান কিংবা গুলশান রুটের এসি বাসই হোক। অফিস টাইম বা কোনো সুযোগ পেলেই সব বাসে দাঁড় করিয়ে যাত্রী নিবেই। কারণ বাসের রুট ও সংখ্যার চেয়ে যাত্রী চাপ কয়েক গুণ বেশি। বাস বাড়ান, জ্যাম কমান, এমনিতেই লোকাল যাত্রী নেয়া বন্ধ হয়ে যাবে। কথাগুলো বলছিলেন সদরঘাট থেকে সাভারগামী সাভার পরিবহনের রুহুল আমিন নামের একজন হেলপার।



গণপরিবহনে ওঠার যুদ্ধে যাত্রীরা


২০১৮ সালের এক সমীক্ষা অনুসারে দেখা গেছে, রাজধানীবাসীর চলাচল নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার গণপরিবহনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সেখানে নিয়মিত অনিয়মিত মিলিয়ে পরিবহন রয়েছে মাত্র ৬ হাজার, সেগুলোর মধ্যেও কিছু কিছু আবার বছরের বিভিন্ন সময়ে নানান অজুহাতে বন্ধ থাকে। ফলে ঢাকায় পরিবহন সঙ্কট, যাত্রী ভোগান্তি ও সিটিং সার্ভিসের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়, সব কিছু যেন একই সূত্রে গাঁথা।


সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ৮টায় সদরঘাট থেকে সাভার, মিরপুর, গাজীপুর, বাড্ডা, রামপুরা রুটে চলাচল করে এমন ৪/৫টি কোম্পানির ২০/২৫টি বাসে যাত্রী তুলছে।সব বাসেই সিটিং সার্ভিস লেখা থাকলেও কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী দাঁড় করিয়ে নিচ্ছিল সবগুলো বাস।


দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের কাছ থেকে সিটিং সার্ভিসের ভাড়া নেয় হেলপার। আর দাঁড়িয়ে যাওয়া ছাড়া তো কোনো উপায়ও নেই। কারণ রাস্তায় পর্যাপ্ত বাস নেই। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই আমরা এভাবে যাই।



রাজধানী জুড়ে সিটিং সার্ভিসেরনামে চলছে পরিহন নৈরাজ্য


অতিরিক্ত যাত্রী নেবার কারণ জানতে চাইলে এসব বাসের কোনো হেলপার বা ড্রাইবার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। আবার কোনো কোনো হেলপার মালিক বা লাইনম্যানের সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।


গাজীপুর থেকে আবদুল্লাহপুর যাওয়া ভিক্টর পরিবহনের সকাল শিফটের লাইনম্যান শাজাহান মিয়া বিবার্তাকে বলেন, আমরা আমাদের সময় অনুযায়ী গাড়ি ছাড়ি এবং আমাদের সব গাড়িতেই টিকিট সিস্টেম আছে। কোনো অতিরিক্ত যাত্রী আমারা নেই না। তবে অফিস টাইমে বা স্কুল কলেজের সময়ে যাত্রীরাই জোর করে উঠে যায় গাড়িতে। আমার একজন হেলপার কিভাবে এতজন যাত্রীকে সামাল দেবে বলেন? তাই হয়ত ২/১ জন যাত্রী দাঁড় করিয়ে নিতে হয়। তবে তাদের কাছে থেকে হাফ ভাড়া বা লোকাল ভাড়াই নেই।


সিটিং, গেইটলক অথবা বিরতিহীন নামে কোনো শব্দ সিটি বাস সার্ভিসের রুট পার্মিটের কোথাও লেখা না থাকলেও নিজেদের প্রভাব এরই মধ্যে বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা। কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, অর্থলোভেই মূলত নগরীতে সিটিং সার্ভিস নাম দিয়ে সীমাহীন যাত্রীদুর্ভোগের কারণ তৈরি করেছে পরিবহন মালিকরা।



রাজধধানীতে গণপরিবহনে ওঠার লড়াই


গুলিস্তান থেকে মতিঝিলগামী হাসিবুল ইসলাম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বিবার্তাকে বলেন, এসব বাস হেলপার ও ড্রাইভারগুলো আসলে চরম মিথ্যাবাদী। জিজ্ঞেস করলে বলবে সিট আছে। কোনোভাবে বাসে উঠাতে পারলে আর মুখের দিকে ফিরেও তাকাবে না। ভাড়া নেবার সময় ঠিকই সিটিং ভাড়া নেবে। না দিতে চাইলে যাচ্ছে তাই আচরণ করবে। আসলে আমরা নগরবাসী এই পরিবহন সন্ত্রাসীদের কাছে পুরোপুরি জিম্মি।


বিবার্তা/আদনান/উজ্জ্বল/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com