জিপির কর ফাঁকি নিয়ে যা বললেন মাইকেল ফোলির
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৭, ১১:২২
জিপির কর ফাঁকি নিয়ে যা বললেন মাইকেল ফোলির
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে মূসক বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গ্রামীণফোনের কাছে ২ হাজার ১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।


এরই প্রক্ষিতে সম্প্রতি গ্রামীণফোন লিমিটেডের সরকারি রাজস্ব আদায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহায়তা ও ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।


গ্রামীণফোনের এই কর ফাঁকির বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোলির দেয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা নিয়ে আইনগত লড়াই চলছে। যা শিগগিরই নিস্পত্তি হবে।


বিবৃতিতে মাইকেল ফোলির বলেন, ‘গ্রামীণফোন বাংলাদেশের বৃহত্তম করদাতা। গত পাঁচ বছরে আমরা কর এবং বিভিন্ন ফি হিসেবে সরকারি কোষগারে ৩০ হাজার ৪০ কোটি টাকা জমা দিয়েছি। আমি সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি যে এলটিইউ-ভ্যাট, বিএসইসি এর কাছে লেখা চিঠিতে নির্দিষ্ট কিছু মামলার কথা উল্লেখ করেছে, আমি আবারো উল্লেখ করতে চাই যে উক্ত মামলাসমূহ বিভিন্ন বিচারিক আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও আমরা এনবিআর, এলটিইউ ভ্যাট এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে এগুলো সমাধানে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও আমরা অব্যাহতভাবে প্রতিটি মামলা পর্যালোচনা করছি এবং আইএফআরএস ও বিএফআরএসসহ সকল আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় হিসাবরক্ষণ মান অনুসরণ করে আমাদের অ্যাকউন্টস এ প্রয়োজনীয় প্রভিশন গ্রহণ করি।’


তিনি বলেন, ‘অন্য যে কোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো বিভিন্ন সময়ে কর কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের মতানৈক্য হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আদালতই মতানৈক্য দূর করার যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং আমরা চূড়ান্ত রায় মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’


জিপির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘এলটিইউ-ভ্যাট যে মামলাগুলোর উল্লেখ করেছে তার মোট অর্থের পরিমাণ গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ সরকারকে আমাদের দেয়া অর্থের ৬.৭% মাত্র। কিন্তু এই অর্থের পরিমাণ অল্প নয় এবং আমাদের এইসব বিরোধপূর্ণ দাবির বৈধতার বিষয়ে আইনগত সমাধান প্রয়োজন। কারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে আমাদের গভীর দায়িত্ববোধ রয়েছে।’


এনবিআর এবং ভ্যাট-এলটিইউ এর কঠোর পরিশ্রমের বিষয়ে আমার গভীর শ্রদ্ধাবোধ আছে, কারণ তাদের কাজ খুবই কঠিন। বাংলাদেশের প্রতি গ্রামীণফোন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা এই মামলাগুলোর ন্যায্য ও স্বচ্ছ সমাধান চাই।’ বললেন জিপির এই প্রধান নির্বাহী।


গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের কর ফাঁকির অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে নিম্ন আদালতের রায় দেয়ার পরও জিপি এনবিআরের দাবীকৃত অর্থের বিপরীতে কোনো প্রভিশন রাখছে না। যেহেতু আইনী লড়াইয়ে হেরে গেলে বিশাল অঙ্কের টাকা জিপিকে ভ্যাট দিতে হবে তাই এখন থেকে কোম্পানিটিকে তাদের অ্যাকাউন্টে ২০.১৫ বিলিয়ন টাকা প্রভিশন রাখতে হবে। আর এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি পাঠিয়েছে এনবিআর।


বুধবার এনবিআর এর বৃহৎ করদাতা ইউনিট (ভ্যাট) এর কমিশনার মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।


জানা যায়, গ্রামীনফোন ২০১২-১৩ করবর্ষে আয় কম দেখিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে বলে মনে করছে কর বিভাগ। অনুসন্ধানে কোম্পানিটির নেট বিক্রয়ে ভ্যাট রিটার্নের সঙ্গে আয়কর রিটার্নের অমিল পাওয়ায় রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি বেরিয়ে আসে।


গ্রামীণফোনের কর ফাঁকিসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২-১৩ করবর্ষে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (ভ্যাট) দাখিল করা রিটার্নের সঙ্গে কর বিভাগের কাছে দেয়া রিটার্নে ১ হাজার ৪১২ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ৫১২ টাকার আয় গোপন করা হয়। মূলত সিম বিক্রি, টকটাইম ও স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রি থেকে আয় কম দেখিয়ে কর কম দিয়েছে গ্রামীণফোন। এ তথ্য জালিয়াতির মধ্য দিয়ে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৯৪ কোটি ১৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা।


এলটিইউ ভ্যাটের করদাতা গ্রামীণফোনের রিটার্নে দেয়া তথ্যানুযায়ী, গ্রামীণফোন একই বছরে ভ্যাট রিটার্নের চেয়ে আয়কর রিটার্নে বিক্রির ক্ষেত্রে নেট বিক্রি অনেক কম দেখায়। কোম্পানিটি কর বিভাগে জমা দেয়া হিসাব বিবরণী নোট নং ৩৪-এ নেট বিক্রি যা দেখায়, তা এলটিইউ ভ্যাট কার্যালয়ে দেয়া রিটার্নের সঙ্গে মিল নেই। ভ্যাট রিটার্নের চেয়ে আয়কর রিটার্নে নেট বিক্রি ১ হাজার ৪১২ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ৫১২ টাকা কম দেখায় গ্রামীণফোন। আয়কর রিটার্নে কম বিক্রয়লব্ধ আয় দেখানোর কারণে কোম্পানিটি আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৩৩(ই) অনুযায়ী জিপি রেশিওর ৫৭ দশমিক ৫১ শতাংশ মোট আয়ের সঙ্গে যোগ না করায় আয়কর ও সরল সুদ বাবদ ৩৯৪ কোটি ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৯৪৭ টাকা কম ধার্য করা হয়।


আয়কর বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিম বিক্রি, টকটাইম ও স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রিতে গ্রামীণফোন আয় কম দেখিয়েছে। এজন্য এনবিআর তাদের সব কাগজপত্র আবার যাচাই-বাছাই করে দেখা শুরু করেছে।


এ কারণে জিপি ও এনবিআর এর ম‌ধ্যে সু‌প্রিম‌কো‌র্টের হাইকোর্ট ও আপিলাট ডিভিশনে প্রায় ৮টি মামলা চলছে। ইতিম‌ধ্যে নিম্ন আদালতের মামলার রায় এনবিআরের পক্ষে এসেছে। আর চলমান মামলাগুলো এনবিআরের পক্ষে আসলে জিপিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরকারকে দিতে হবে।


তাই গ্রামীনফোনকে ২০.১৫ বিলিয়ন টাকা প্রভিশন রাখতে হবে। যেহেতু কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তাই এ বিষয়ে বিএসইসিকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর।


বিবার্তা/উজ্জ্বল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com