যেসব ফিচার রয়েছে সুমাইয়া টেকের মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল বোর্ডে
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৪১
যেসব ফিচার রয়েছে সুমাইয়া টেকের মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল বোর্ডে
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেয়ার মাধ্যম ও উপকরণে আসছে পরিবর্তন। তাই শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে উপভোগ্য উপায়ে পাঠদানে ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরি এখন সময়ের দাবি।


দেশের ডিজিটাল শিক্ষার রূপান্তরে অবদান রাখতে সুমাইয়া টেক নিয়ে এসেছে ডিজিটাল, স্মার্ট, ইন্টেগ্রেটেড এবং ইন্টারেক্টিভ এলইডি মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল বোর্ড।


প্রযুক্তি সফল উন্নতবিশ্বে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থাসম্পন্ন স্কুলগুলোতে এমন বোর্ডে পড়াশোনা করানো হয়। কেননা একজন শিক্ষার্থী শুধু বই থেকেই পড়েন না বরং বইয়ে যা আছে তার বাস্তব চিত্র এই বোর্ডে দেখতে পারেন। এতে পাঠদান ও শিক্ষাগ্রহণ পদ্ধতি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।


কোরিয়ান টেকনোলজিতে তৈরি ইন্টারেক্টিভ এলইডি মাল্টিমিডিয়া বোর্ডটি স্কুল-কলেজ, মেডিকেল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি, যে কোনো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, কর্পোরেট অফিসের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।


ইন্টারেক্টিভ এলইডি মাল্টিমিডিয়া বোর্ডটিতে রয়েছে অনেকগুলো অত্যাধুনিক ফিচার। তাহলে এখন দেখে নেয়া যাক কী সেই ফিচারগুলো।


# এটি একটি পরিপূর্ণ ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড। একটি সাধারণ বোর্ডে হয়তো একসঙ্গে দুই জন লিখতে পারেন। এখানে একসঙ্গে দশজন শিক্ষক লিখতে পারবেন।


# অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ডিজিটাল বোর্ডটিতে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েট ভার্সন। ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে অন্য যেকোনো ডিভাইসের সাথে এটির ইন্টারনেট কানেক্ট করা যাবে।


# ক্লাসে শিক্ষক না এলেও ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট কানেক্ট করে ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সুযোগ রয়েছে এতে। এমনকি দূরবর্তী দুইটি জায়গা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও পাঠদান সম্ভব। একইসঙ্গে একাধিক বোর্ড এখানে একসঙ্গে কাজ করানো যায়।


# ডিভাইসটিতে ৫.০০ মিলিমিটার সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। বোর্ডের টাচ স্ক্রিনটা একেবারে স্মুথ। স্মার্টফোনের চেয়েও স্মুথ। অল্প স্পর্শেই লেখা বা আঁকা যায়। তবে হাজারো লেখালেখি করলেও এটিতে কোন ক্র্যাচ পড়বে না।


# ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেট কানেক্ট করে ইচ্ছে মতো ইমেইল করা যাবে।


# এইচডি বা হাই ডেফিনেশন মানের তুলনায় চারগুণ বেশি রেজুলেশনের আলট্রা হাই ডেফিনেশন বা ফোরকে মনিটরের প্রযুক্তি দিয়ে ডিভাসইটি তৈরি করা হয়েছে। এর সাউন্ড সিস্টেম অনেক পরিষ্কার। ক্লাস নেয়ার সময় শিক্ষক চাইলে ব্লুটুথের মাধ্যমে আলাদা বড় সাউন্ডবক্সের সাথেও কানেক্ট করে নিতে পারবেন। সেই সাথে বিনোদনের জন্য ইউটিউব থেকে ভিডিও বা নাটক, সিনেমা সবই উপভোগ করতে পারবেন।


# ডিজিটাল বোর্ডটি সেটআপ বক্স দিয়ে টেলিভিশনের কাজও চালানো যাবে।


# এতে সাদা, লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনী সব রঙই দেয়া আছে। শিক্ষক চাইলে পছন্দ মতো রঙ বেছে নিয়ে লিখতে পারবেন। আবার ইরেজার অপশন দিয়ে একবারেই সমস্ত বোর্ড পরিষ্কার করতে পারবেন।


# এতে রয়েছে ডিজিটাল ক্লক। কেউ চাইলে এই ক্লকে এলার্ম দিতে পারবেন। সাথে রয়েছে একটা মিরর ফিচার। যেটির মাধ্যমে মোবাইলে ওয়াইফাই কানেক্ট করে যে কোন কাজ সহজে করা যাবে।


# ইন্টারনেট থেকে কোন কিছু পড়ানোর সময় চাইলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্কিনশর্টও করেও সংরক্ষণ করা যাবে।


# একইভাবে অন্যকোনো ডিভাইস যেমন ল্যাপটপ বা মোবাইলে কোন বই থাকলে ব্লুটুথের মাধ্যমে কোনেক্ট করে ভিডিও কাস্টিংয়ে অর্জিনাল বইয়ের মাধ্যমে পড়ানো যাবে এতে।


# সাধারণত কম্পিউটার বা ল্যাপটপের এলইডি মিনিটর বা প্রজেক্টরের বেগুনী রশ্মি চোখের ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু এতে আই কন্টাক্ট সিস্টেম রয়েছে যার ফলে চোখের কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।


# একটা অফিসে সিসিটিভি রয়েছে। বস ট্রেনিং বা ক্লাস দিচ্ছেন। তখনঅফিসে কে কি করছেন এই মাল্টিডিয়া বোর্ডের মাধ্যমে সেটাও মনিটরিং করা যাবে।


# ক্লাসরুম ছাড়াও দাপ্তরিক কাজ থেকে শুরু করে সাধারণ চিত্ত-বিনোদনের কাজেও ব্যবহার করা যাবে এই বোর্ড। যেমন খুশি তেমন করে চিত্র, ড্রয়িং আঁকা যাবে।


# বড় ক্লাসরুমে বা হলরুমে পেছন থেকে বা একটি পাশ থেকে বোর্ড দেখতে অনেক সময় সমস্যা হয় শিক্ষার্থীদের। এসব সমস্যার সমাধান হবে এই বোর্ডে।


# এই বোর্ডের ইন্টারনাল মেমোরিতে অনেক ধরনের কনটেন্ট সেভ করে রাখা যায়।


মাল্টিমিডিয়া বোর্ডটি বিষয়ে কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তা সুমাইয়া টেনোলজিস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান রিপা আর জাহান বিবার্তাকে বলেন, আনন্দহীন কোন শিক্ষাই আসল শিক্ষা হতে পারে না। দক্ষিণ কোরিয়ায় আমি প্রায় ১৪ ধরে বাস করছি। সেখাকার স্কুলগুলোতে ডিজিটাল ক্লাসরুমে এই এলইডি মাল্টিমিডিয়া বোর্ডটি ব্যবহার করা হয়। এই যুগের একজন শিক্ষার্থী শুধু বই থেকেই পড়েন না বরং বইয়ে যা আছে তার বাস্তব চিত্র এই বোর্ডে দেখতে পারেন। এতে পাঠদান ও শিক্ষাগ্রহণ পদ্ধতি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে আরও ভালোভাবে সম্পৃক্ত করতে এবং উপভোগ্য উপায়ে পাঠদানের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল ক্লাসরুমের জন্য এই ডিভাইসটি আমি এনেছি। আশা করছি, ডিজিটাল এই বোর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও উপভোগ্য উপায়ে পাঠদান দেওয়া সম্ভব হবে। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখবে এই বোর্ড।


বোর্ডটির কোয়ালিটির বিষয়ে বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তা বলেন, ডিজিটাল বোর্ডটির আদলে চায়নার বিভিন্ন কোম্পানি এলইডি মাল্টিমিডিয়া বোর্ড তৈরি করেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তিও রয়েছে এতে। কিন্তু কোয়ালিটির দিক থেকে কোরিয়ান প্রযুক্তিতে তৈরি এই মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল বোর্ডটি একদম লেটেস্ট প্রযুক্তি দিয়ে সর্বোচ্চ কোয়ালিটিসম্পন্ন। তিন বছরে এটা কোন কিছুই হবে না।


বিবার্তা/উজ্জ্বল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com