সংলাপ অর্থবহ হোক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৫৫
সংলাপ অর্থবহ হোক
মীর আব্দুল আলীম
প্রিন্ট অ-অ+

দেশের মানুষ শান্তি চায়; রাজনৈতিক বিবাদ চায় না। হরতাল অবরোধ, ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও চায় না। এজন্য সংলাপের বিকল্প নেই। সংলাপ হচ্ছে, সংলাপ সফলহবে, সংঘাত হবে না - এটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দ্বারপ্রান্তে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের। এর অংশ হিসেবে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।


এর বিপরীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল এবং দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোটভুক্ত ১৪ দলসহ জাতীয় পার্টিও রয়েছে।


জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং মহাজোটের বাইরে রয়েছে জামায়াতের ইসলামী, বিকল্প ধারা, এলডিপি, কল্যাণ পার্টিসহ কয়েকটি দল। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও মহাজোটের মধ্যেই মূল নির্বাচনী লড়াইটা হবে। এরই মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেট ও চট্টগ্রামে জনসভা করে তাদের ঐক্যের উদ্দেশ্য-লক্ষ্যের কথা জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


নির্বাচন হবে। সরকারও বলছে, সকল দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে দেশের রাজনৈতিক দল কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনের ব্যপারে নানা শর্ত বিরোধী শিবিরের। এসব মানা-না-মানা নিয়ে রাজনৈতিক মাঠ ক্রমশই ঘোলা হচ্ছিলো। এমন সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সংলাপ চেয়ে চিঠি পাঠান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। চিঠির উদ্দেশ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা ও ১১টি লক্ষ সংযুক্ত হয়েছে। চিঠির উদ্দেশ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের দাবি।


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসতে রাজি হয়েছেন। একদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি হিসেবে শাসক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ


সম্পাদকের কাছে সংলাপ চেয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা অবশ্যই জনগণের কল্যাণের স্বার্থেই। কেননা, এক/এগারোর মতো কো্নো পরিস্থিতি এদেশের জনগণ আশা করে না। সংলাপ সবসময় সমস্যা সমাধানের উত্তম পন্থা।


তাই ক্ষমতাসীন দল ও ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সংলাপ হতেই পারে। তবে শর্তসাপেক্ষে সংলাপ কখনো সমঝোতার পক্ষে শুভ নয়। সংসদ নির্বাচনকে অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন।


সংঘাতের পথ ধরেই হাঁটছিলো আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের শান্তির লক্ষ্যে এ মুহূর্তে সংলাপের বিকল্প নাই। তবে সংলাপের জন্য সংলাপ নয়; সংলাপ হোক দেশ ও জাতির স্বার্থে। সংঘাতময় এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা খুবই প্রয়োজন। এ জন্য সংলাপের কোনো বিকল্প নেই।


সংলাপ হচ্ছে, সংলাপ সফল হবে আর তাতেই জনগণ তথা দেশের স্বার্থ রক্ষা হবে।


আমরা বরাবরই যা দেখি, দেশপ্রেম, ধৈর্য, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেশের রাজনীতি থেকে উধাও। এ অবস্থায় বর্তমান রাজনীতিতে বেশি করে গণতন্ত্র চর্চা এবং দেশাত্মবোধ তৈরির জন্য আমাদের জোর দাবি তুলতে হবে এবং সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে দেশ দিন দিন আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে, যা জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্য কখনোই কাম্য নয়। এ পরিস্থিতি আবার অগণতান্ত্রিক
শক্তির উত্থানকে সুযোগ করে দিতে পারে।


আমরা জানি সংলাপের উল্টো পিঠ হচ্ছে সংঘাত। সেটা দেশের জন্য, সরকারের জন্য, কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।


আমরা মনে করি, দুই পক্ষই আন্তরিকভাবে চাচ্ছে সংলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসুক। কে কাকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে পারবেন, কিভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন, আর ক্ষমতায় যেতে পারবেন সে লক্ষ্যেই তারা না এগিয়ে জনগণের স্বার্থে সংলাপকে সফল রূপ দিবেন এটাই সবাই চায়।


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যেন আর সংঘাত না হয় এটাই আমরা রাজনীতিবিদদের কাছে প্রত্যাশা করছি।


গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে এবং তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে - এটাই স্বাভাবিক। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে তাদের মধ্যে সহনশীলতা অবশ্যই কাম্য। দেশের কথা, জনগণের কথাও ভাবতে হবে। শুধু নিজেদের অবস্থানে অনড় না থেকে জনগণের কথা ভেবে একটা সমঝোতায় আসতে হবে। তা না হলে দেশ আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে, যা জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্য কখনোই
কাম্য নয়।


শান্তিপ্রিয় নাগরিক হিসেবে আমরা রাজপথে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা চাই না। সংঘাত নয়, সংলাপ ও সমঝোতাই গণতন্ত্রের পথ।


লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট।


বিবার্তা/কামরুল/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com